


নিজস্ব প্রতিনিধি ও সংবাদদাতা: শান্তিপূর্ণভাবেই বাঁকুড়া, পুরুলিয়া, আরামবাগে দোল ও হোলি উৎসব পালিত হল। রমজান মাস চলায় পুলিসের তরফে একগুচ্ছ সতর্কতামূলক পদক্ষেপ গ্রহণ করা হয়। তবে কোথাও কোনও অপ্রীতিকর ঘটনা ঘটেনি। দোল ও হোলির দিনে আইনভঙ্গ করার অভিযোগে বাঁকুড়ার বিভিন্ন থানা এলাকা থেকে মোট ৯৩ জনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে বলে পুলিস সুপার বৈভব তেওয়ারি জানিয়েছেন।
বিষ্ণুপুর ও বড়জোড়ায় বিধায়কদের উদ্যোগে দোলের দিন একাধিক অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়। ওইসব অনুষ্ঠানে তৃণমূল বিধায়ক অলোক মুখোপাধ্যায় ও তন্ময় ঘোষ যোগ দেন। স্থানীয় বিধায়কের উদ্যোগে বিষ্ণুপুর শহরে শোভাযাত্রা বের হয়। পরে বিষ্ণুপুরে পোড়া মাটির হাটে বসন্ত উৎসব পালিত হয়। সেখানে শহরের পাশাপাশি আশপাশের গ্রাম থেকেও অনেকে অংশ নেন। বাঁকুড়া শহরে রং খেলায় কচিকাঁচাদের পাশাপাশি বড়রাও মেতে ওঠেন। আবিরে একে অপরকে রাঙিয়ে দেওয়া হয়। বাঁকুড়ার শুশুনিয়া পাহাড় সহ জঙ্গলমহলের বিভিন্ন জায়গায় পলাশের জঙ্গলে পর্যটকদের আগমন ঘটে। বাঁকুড়া জেলা পুলিসের তরফে দোলের আগে থানায় থানায় শান্তি বৈঠক করা হয়েছিল। সেখানে বিভিন্ন ধর্মাবলম্বী মানুষজন ও জনপ্রতিনিধিদের সঙ্গে থানার ভারপ্রাপ্ত আধিকারিকরা বৈঠক করেন। দোলের দিন সকাল থেকে বাঁকুড়া শহরের মাচানতলা সহ অন্যান্য জায়গায় পুলিস পিকেট বসানো হয়। হোলির দিনও পুলিস মোতায়েন করা হয়েছিল। জেলা পুলিসের আধিকারিকরা র্যাফ নিয়ে বিভিন্ন জায়গায় টহল দেন। জেলার পুলিস সুপার বলেন, আমরা দু’দিনে মোট ৯৩ জনকে গ্রেপ্তার করেছি। মোটের উপর জেলায় শান্তিপূর্ণভাবে রঙের উৎসব পালিত হয়েছে।
পুরুলিয়াতেও নানা অনুষ্ঠানের মধ্য দিয়ে বসন্ত উৎসব পালিত হয়। অযোধ্যা পাহাড়ের রিসর্টগুলিতে পর্যটকদের নিয়ে বসন্ত উৎসব পালন করা হয়। কলকাতা সহ ভিন জেলা থেকে অনেকেই সেখানে অংশ নেন। পুরুলিয়া, রঘুনাথপুর, ঝালদা শহর সহ জেলার বিভিন্ন প্রান্তেও অনেকে রঙের উৎসবে মেতে ওঠেন। আরামবাগ মহকুমার বাসিন্দারাও দোলে মাতলেন। ওইদিন সকাল থেকেই রং খেলায় নেমে পড়েন আট থেকে আশি প্রত্যেকেই। কামারপুকুর রামকৃষ্ণ মঠ ও মিশনের সন্ন্যাসী, ব্রহ্মচারীরা দোল উৎসব পালন করেন। তাঁরা আবির মেখে গান বাজনায় মাতেন। তাঁদের সঙ্গে শামিল হন ভক্তরাও। দোল উপলক্ষ্যে সেখানে হাজির হন আরামবাগের সাংসদ মিতালি বাগও। ওইদিন মহকুমার বিভিন্ন জায়গায় বসন্ত উৎসবের আয়োজন করা হয়। বিভিন্ন সংস্থার তরফে আয়োজিত ওই বসন্ত উৎসবগুলিতে সকাল থেকে সন্ধ্যা পর্যন্ত নানা অনুষ্ঠান হয়েছে। অশান্তি রুখতে বিভিন্ন থানা এলাকাতেই পুলিস আইনত ব্যবস্থা নেয়।