Bartaman Logo
৮ আগস্ট, ২০২৬
বর্তমান / রাজ্য

সোনাঝুরির হাটে গাছের নীচে পাকা নির্মাণ, বনদপ্তরের নির্দেশে ভাঙা শুরু

সোনাঝুরির খোয়াই হাট সংক্রান্ত মামলা এখনও জাতীয় পরিবেশ আদালতে বিচারাধীন। তার মধ্যেই বনভূমির গাছের নীচে ইট পাথর দিয়ে চাতাল তৈরির অভিযোগ সামনে আসতেই নড়েচড়ে বসল বনদপ্তর।

সোনাঝুরির হাটে গাছের নীচে পাকা নির্মাণ, বনদপ্তরের নির্দেশে ভাঙা শুরু
  • ৮ আগস্ট, ২০২৬ ০৪:০০
Prefer us on Google

সংবাদদাতা, বোলপুর: সোনাঝুরির খোয়াই হাট সংক্রান্ত মামলা এখনও জাতীয় পরিবেশ আদালতে বিচারাধীন। তার মধ্যেই বনভূমির গাছের নীচে ইট পাথর দিয়ে চাতাল তৈরির অভিযোগ সামনে আসতেই নড়েচড়ে বসল বনদপ্তর। বনদপ্তরের কড়া নির্দেশের পর সম্প্রতি একাধিক ব্যবসায়ী চাতাল ভাঙতে শুরু করেছেন। প্রশ্ন উঠছে, সংরক্ষিত বনাঞ্চলের ভিতরে এই ধরনের নির্মাণ এতদিন চলল কীভাবে?

Advertisement

বনদপ্তরের এক আধিকারিক বলেন, বনদপ্তরের জমিতে, বিশেষ করে গাছের নীচে ইট, পাথর বা সিমেন্টের কাঠামো তৈরি করা যাবে না। বিষয়টি নজরে আসার পর সংশ্লিষ্ট ব্যবসায়ীদের তা সরিয়ে নিতে বলা হয়েছে। বনদপ্তরও এইসব কাঠামো সরানোর কাজ করেছে।
স্থানীয় সূত্রে জানা গিয়েছে, দীর্ঘদিন ধরেই কয়েকজন ব্যবসায়ী স্থায়ীভাবে জায়গা দখলের উদ্দেশ্যে গাছের গোড়ায় ইট-পাথর ও সিমেন্ট দিয়ে কাঠামো তৈরি করে নির্দিষ্ট অংশ চিহ্নিত করেছিলেন। বনদপ্তরের আপত্তির পর সেই কাঠামো সরানোর কাজ শুরু হয়েছে। হাট কমিটিরও দাবি, বিষয়টি নজরে আসতেই সংশ্লিষ্ট ব্যবসায়ীদের ওই কাঠামো ভেঙে ফেলতে বলা হয়েছে।
সোনাঝুরি হাটকে ঘিরে পরিবেশগত বিতর্ক অবশ্য নতুন নয়। পরিবেশকর্মী সুভাষ দত্ত জাতীয় পরিবেশ আদালতে অভিযোগ করেছেন, বন সংরক্ষণ আইন উপেক্ষা করে বনদপ্তরের জমিতে দীর্ঘদিন ধরে বাণিজ্যিক হাট চলছে। অভিযোগের তালিকায় রয়েছে হাজার হাজার দোকান বসানো, জঙ্গলের ভিতরে চারচাকা গাড়ির অবাধ প্রবেশ, প্লাস্টিক ও কঠিন বর্জ্যের স্তূপ, গাছের ক্ষতি, বিভিন্ন স্থানে স্থায়ী নির্মাণ। এই প্রসঙ্গে সুভাষ দত্ত বলেন, বনাঞ্চলে একের পর এক অনিয়মের অভিযোগ ওঠার পরও নজরদারিতে কেন ঘাটতি রয়ে গেল? ব্যবসায়ীরা এমন কাজ করার সাহস কীভাবে পেল তা খতিয়ে দেখা দরকার। 
প্রসঙ্গত, ২০০০ সালের দিকে কয়েকজন স্থানীয় আদিবাসী শিল্পীর ছোট্ট সাপ্তাহিক হাট হিসেবে যাত্রা শুরু করেছিল সোনাঝুরি খোয়াই হাট। আশ্রমকন্যা শ্যামলী খাস্তগীরের উদ্যোগে শুরু হওয়া সেই হাট আজ আন্তর্জাতিক পর্যটকের আকর্ষণে পরিণত হয়েছে। তবে পর্যটকের ভিড়ের সঙ্গে পাল্লা দিয়ে যেমন দোকানের সংখ্যা বেড়েছে, তেমনই বেড়েছে বাণিজ্যিক চাপও। তার জেরেই বনভূমির পরিবেশ ও জীববৈচিত্র্য নিয়ে উদ্বেগ ক্রমশ বাড়ছে। পরিবেশ আদালতের নির্দেশে ভবিষ্যতে হাটের পরিচালনা ও বনভূমির সুরক্ষা নিয়ে কী সিদ্ধান্ত হয়, এখন সেদিকেই নজর সংশ্লিষ্ট মহলের।

Advertisement
সম্পর্কিত সংবাদ