


নিজস্ব প্রতিনিধি, নয়াদিল্লি: আত্মনির্ভরতা, নাকি আত্মসমর্পণ? আমেরিকার সঙ্গে বাণিজ্য চুক্তিতে মোদি সরকার মাথা নুইয়ে দিয়েছে বলেই বিরোধীদের অভিযোগ। এমত পরিস্থিতিতে আগামী ১১ ফেব্রুয়ারি কেন্দ্রীয় বাণিজ্যমন্ত্রী পীযূষ গোয়েলের মুখোমুখি হচ্ছে বাণিজ্য সংক্রান্ত সংসদীয় কমিটি। আমেরিকার সঙ্গে বাণিজ্য চুক্তিতে কৃষি, ক্ষুদ্র শিল্প, ওষুধ সহ নানাক্ষেত্রে ভারতের নিজস্ব উৎপাদন মার খাবে বলেই আশঙ্কা। ফলে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি যতই ‘আত্মনির্ভরতা’র ঢাক পেটান না কেন, আদতে তিনি মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের কাছে আত্মসমর্পণ করেছেন বলেই বিরোধীদের অভিযোগ। তাই সংসদীয় কমিটি সক্রিয় হয়েছে।
বাণিজ্য সংক্রান্ত সংসদীয় কমিটির চেয়ারপার্সন হলেন তৃণমূলের রাজ্যসভার সাংসদ দোলা সেন। তাঁর সভাপতিত্বে আগামী ১০ এবং ১৬ ফেব্রুয়ারি কমিটির বিশেষ বৈঠক ডাকা হয়েছে। পাশাপাশি ১১ ফেব্রুয়ারি বাণিজ্যমন্ত্রী পীযূষ গোয়েল এবং ১২ তারিখ বস্ত্রমন্ত্রী গিরিরাজ সিংয়ের সঙ্গে কমিটির সব সদস্য সাক্ষাৎ করবেন। আমেরিকার সঙ্গে বাণিজ্য চুক্তির বিষয়ে বিস্তারিত জানতে কেন্দ্রীয় অর্থমন্ত্রী নির্মলা সীতারামন, বিদেশমন্ত্রী এস জয়শঙ্কর, কৃষিমন্ত্রী শিবরাজ সিং চৌহান, ক্ষুদ্র শিল্পমন্ত্রী জিতিনরাম মাঝির সঙ্গেও সাক্ষাতের সময় চেয়েছেন দোলা সেন। রবিবার তিনি বলেন, আমেরিকার সঙ্গে বাণিজ্য চুক্তি সম্পর্কে আমরা সম্পূর্ণ ধোঁয়াশায়। কী শর্তে কী চুক্তি হচ্ছে, সরকার তা সংসদেও জানায়নি। অন্ধকারে সংসদীয় কমিটিও। অথচ আমেরিকার সঙ্গে চুক্তিতে ভারতের বহু ক্ষেত্রে বিপদের আশঙ্কা রয়েছে। তাই আমরা একদিকে যেমন কমিটির বৈঠক ডেকে সদস্যদের মতামত নেব, তেমনি মন্ত্রীদের সঙ্গে দেখা করব। বিরোধীদের প্রশ্ন, কথায় কথায় তো ‘মাই ফ্রেন্ড ডোনাল্ড ট্রাম্প’ বলে সম্বোধন করেন প্রধানমন্ত্রী মোদি, তাহলে আমেরিকার সঙ্গে চুক্তির সময় তিনি কি নিজে হাজির থাকবেন? ঠিক যেমন ছিলেন ইউরোপিয়ান ইউনিয়ন, ব্রিটেনের সঙ্গে চুক্তির সময়? নাকি, সমালোচনার ভয়ে এড়িয়ে যাবেন?
এ ব্যাপারে রবিবার কটাক্ষ করেছেন কংগ্রেসের মুখ্য মুখপাত্র জয়রাম রমেশ। ‘এক্স’ হ্যান্ডেলে একটি কার্টুন টুইট করেছেন। যেখানে মোদি চলেছেন কুয়ালা লামপুর। পীযূষ গোয়েল জানতে চাইছেন, মার্কিন চুক্তির বিষয়ে কী বলব? মোদি বলছেন, জো উচিত সমঝো ওহি করো! কটাক্ষের সুরে তৃণমূল সাংসদ দোলা সেনের মন্তব্য, প্রধানমন্ত্রী কাগুজে বাঘ। নিজের কোনও কথার জোর নেই। আমেরিকার কাছে সারেন্ডার করেছেন। তা নাহলে পাকিস্তানের সঙ্গে যুদ্ধ বিরতিই হোক বা কোন দেশের থেকে পেট্রোপণ্য কেনা হবে—সবই তো ঠিক করে দিচ্ছেন ডোনাল্ড ট্রাম্প। প্রধানমন্ত্রী একবারও ট্রাম্পের কথা নিজে মুখে অস্বীকার করেননি কেন? সিপিএমের পলিটব্যুরোও বিবৃতি দিয়ে আমেরিকার সঙ্গে চুক্তির বিরোধিতা করেছে।