নিজস্ব প্রতিনিধি, নয়াদিল্লি: সংশোধনী বিল, সংসদে বিস্তারিত আলোচনার মতো বিষয় সামনে রেখে সরকার সমঝোতার চেষ্টা করলেও অবস্থানে অনড় বিজেপি বিরোধীরা। বোন প্রিয়াঙ্কাকে পাশে রেখে রাহুল গান্ধী শুক্রবার জানিয়ে দিলেন, শিক্ষামন্ত্রী ধর্মেন্দ্র প্রধানকে মন্ত্রিত্ব থেকে বরখাস্ত না করলে কোনো আলোচনা হবে না। সংসদে চলবে প্রতিবাদ। এদিন শাহিল লোহচাব নামে দিল্লি বিশ্ববিদ্যালয়ের এক ১৯ বছরের ছাত্রকে হাজির করেন রাহুল। ১০ জনপথের বাইরে প্রকাশ্য রাস্তায় তাঁকে সঙ্গে নিয়ে করেন সাংবাদিক সম্মেলন। বলেন, ‘দেখুন, গত ২০ জুলাই কেমন পেলেট গান দিয়ে মেরেছে পুলিশ। ঝাঁঝরা হয়ে গিয়েছে ওর ডান বাহুর নীচে।’ আক্রান্তের গেঞ্জি তুলে একের পর এক ক্ষত দেখিয়ে কেন্দ্রীয় সরকারের প্রতি কংগ্রেস নেতার কটাক্ষ, ‘এবার মিথ্যা কথা বলা বন্ধ করুন। সমানে বলছেন পেলেট গান ব্যবহার করা হয়নি। প্রমাণ সবার সামনে রয়েছে। এই সরকার দেশের ভবিষ্যৎ প্রজন্মের উপর বন্দুক চালিয়েছে।’ যদিও দিল্লি পুলিশ এই অভিযোগ অস্বীকার করেছে। কিন্তু রাহুল গান্ধী দমছেন না। কারণ একাধিক হাসপাতালের রিপোর্টে পেলেট গানের ক্ষতর বিষয়টি সামনে এসেছে। প্রকাশ্যে সফদরজং হাসপাতালের রিপোর্টও। সেখানে ক্ষতর চারপাশে চামড়া কালো হয়ে যাওয়া, চামড়ায় গুলির টুকরো আটকে থাকা, ব্যথা সহ একাধিক বিষয়ের উল্লেখ করা হয়েছে। এরপরই বিতর্ক আরও মাথাচাড়া দিয়েছে।
রাহুল বলেন, ধর্মেন্দ্র প্রধান একজন ক্রিমিনাল এডুকেশন মিনিস্টার। দেশের শিক্ষা ব্যবস্থা যে কতটা বিপর্যস্ত, ধর্মেন্দ্র প্রধান তার উদাহরণ। তাই তাঁকে মন্ত্রিসভা থেকে বরখাস্ত না করলে সরকারের সঙ্গে কোনো আলোচনা নয়। সংসদ চত্বরে দাঁড়িয়ে তিনি আরও বলেন, লোকসভায় আমার মাইক বন্ধ করে দেওয়া হয়েছে। বলতে দেওয়া হয়নি। তাই সরকার সংসদে যতই প্রশ্ন ফাঁস নিয়ে আলোচনায় রাজি বলুক, আমরা দাবি থেকে সরছি না। এ ব্যাপারে পুরো বিপক্ষ একজোট বলেও জানিয়ে দেন তিনি।
কংগ্রেস সভাপতি তথা রাজ্যসভার বিরোধী দলনেতা মল্লিকার্জুন খাড়্গের নেতৃত্বে শুক্রবার একজোট হন বিরোধী দলের সাংসদরা। উল্লেখযোগ্য বিষয় হল, শুধু বিরোধীরাই নয়, নিজেদের এনডিএ শরিক বলে দাবি করা বিদ্রোহী তৃণমূলও নিট প্রশ্ন ফাঁস ইস্যুতে পরীক্ষার্থীদের পাশে দাঁড়িয়েছে। এনসিপিআইয়ের মুখ্য সচেতক কাকলি ঘোষদস্তিদার এদিন বিবৃতি জারি করে বলেন, দেশের যুবসমাজের কণ্ঠস্বর কোনোভাবেই উপেক্ষা করা যায় না। সরাসরি ধর্মেন্দ্র প্রধানের ইস্তফার দাবি না করলেও তিনি বলেছেন, শিক্ষা সংস্কার, কাঠামোগত ত্রুটি দূর করতে হবে। তবেই পরীক্ষার প্রতি শিক্ষার্থীদের আস্থা পুনঃপ্রতিষ্ঠা করবে।
এদিকে, এই পরিস্থিতির জেরে গত পাঁচদিন সংসদ অচল। তারই মধ্যে শুক্রবার সরকার রাজ্যসভায় পেশ করেছে ‘দ্য প্রিভেনশন অব ইনসাল্টস টু ন্যাশনাল অনার (সংশোধনী) বিল।’ যেখানে ‘বন্দেমাতরম’কে অসম্মান করলে তিন বছর পর্যন্ত কারাদণ্ড এবং আর্থিক জরিমানার কথা বলা হয়েছে।