ইস্ট বেঙ্গল- ০ : মোহন বাগান- ১
(জেলকোভিচ)
ইস্ট বেঙ্গল- ০ : মোহন বাগান- ১
(জেলকোভিচ)
সঞ্জয় সরকার, কলকাতা: আত্মবিশ্বাস ও আত্মতুষ্টির মধ্যে পার্থক্য খুবই কম। বৃহস্পতিবার আইএফএ শিল্ডের ফাইনালে তা বুঝতে না পারায় খেসারত দিতে হল ইস্ট বেঙ্গলকে। শিল্ড সেমি-ফাইনালে নর্থ ইস্ট ইউনাইটেডকে সাত গোলের মালা পরিয়ে সপ্তম স্বর্গে ভাসছিলেন রশিদ-রামিরেজরা। কিন্তু ফাইনালে ডার্বিতে বাস্তবের কঠিন মাটিতে আছড়ে পড়ল হাবাস ব্রিগেড। চিরপ্রতিদ্বন্দ্বীকে হারিয়ে মর্যাদার আইএফএ শিল্ড ধরে রাখল মোহন বাগান। ম্যাচের একমাত্র গোলটি সমীর জেলকোভিচের। একইসঙ্গে আইএসএলের আগে বাড়তি অক্সিজেনও জুগিয়ে নিলেন কোচ পানোস। অন্যদিকে, মরশুমের দ্বিতীয় ডার্বি হেরে এসিএল টু’র গুরুত্বপূর্ণ ম্যাচের আগে প্রবল চাপে লাল-হলুদের স্প্যানিশ কোচ।
চলতি মরশুমে ডুরান্ড কাপের প্রথম সাক্ষাতে পানোস ব্রিগেড জয় পেলেও, খেতাবি লড়াইয়ে শেষ হাসি হেসেছিলেন হাবাস। তা-ও আবারও ৪-১ ব্যবধানে। তাই শিল্ড ফাইনালে প্রতিশোধের লক্ষ্যে অল-আউট ঝাঁপান বাগানের গ্রিক কোচ। দল নির্বাচনেও দেখা মেলে সেই তাগিদ। শুভাশিসকে বসিয়ে অভিষেক টেকচামকে লেফট ব্যাকে খেলানো মাস্টার স্ট্রোক। বিপিনকে নড়তেই দেননি তিনি। ইস্ট বঙ্গেলের দুর্বলতম জায়গা দুই উইং ব্যাক। ছাংতে ও ড্র্যাজিচকে দিয়ে সেখানেই ঘা দিলেন পানোস। মাঝমাঠে জিকসন, রামিরেজ, রশিদের নিউক্লিয়াসও একেবারে ফ্লপ। ডুরান্ড কাপে জয় গুপ্তাকে উইংয়ে খেলিয়ে চমক দিয়েছিলেন হাবাস। এদিনও সেই পথেই হাঁটেন তিনি। শুরুটা বেশ ইতিবাচকই ছিল। প্রাপ্ত সুযোগ কাজে লাগাতে পারলে ৬ মিনিটেই দলকে এগিয়ে দিতে পারতেন এডমুন্ড। তবে বিশালের বিশ্বস্ত হাতে কোনোক্রমে রক্ষা পায় মোহন বাগান। প্রথম ১৫ মিনিট এক তরফা আক্রমণ চালায় লাল-হলুদ ব্রিগেড। কিন্তু এরপরেই ছন্দপতন। হঠাৎই অজ্ঞাত কারণে ম্যাচ থেকে হারিয়ে যায় তারা। মাঝমাঠে রশিদ ও জিকসনের মধ্যে তৈরি হয় বিস্তর গ্যাপ। পাল্লা দিয়ে বাড়ে মিস পাস। সেই সুযোগে ম্যাচে ফেরে মোহন বাগান। বার দুয়েক গোলের কাছে পৌঁছেও জাল কাঁপাতে ব্যর্থ আরউইন-ছাংতেরা। তবে রশিদদের পারফরম্যান্সে বদল আসেনি। অবশেষে ৪৫ মিনিটে খোলে ডেড-লক। এডমুন্ডের ভুলে বল পান সাহাল। তাঁর আলতো চিপ চেস্ট ট্র্যাপ করে জাল কাঁপান জেলকোভিচ (১-০)। বসনিয়া-হার্জেগোভিনার মিডিওকে আটকাতে ব্যর্থ জিভুলিচ। লাল-হলুদের বিদেশি স্টপার ততক্ষণে ভূপতিত!
বিরতির আগেই দলের গোল হজম যেন কোনোভাবেই মেনে নিতে পারছিলেন না হাবাস। তাঁর তোপের মুখে পড়েন রেফারি। যদিও প্রথমার্ধের শেষ ১৫ মিনিট যে ছন্নছাড়া ফুটবলটা তাঁর ছেলেরা খেলেছেন, তাতে কোনো অজুহাতই ধোপে টেকে না। দ্বিতীয়ার্ধের শুরুতে জয় গুপ্তার জায়গায় লুকাস জোলোনস্কিকে নামিয়ে আক্রমণে ঝাঁঝ বাড়াতে চেয়েছিলেন হাবাস। একইসঙ্গে নামানো হয় একে লোবাকে। আপফ্রন্টে দুই বিদেশির উপস্থিতিতেও খেলায় কোনো পার্থক্য ঘটল না। দ্বিতীয়ার্ধে একবারও বিশাল কাইথকে পরীক্ষার মুখে ফেলতে পারেননি একে লোবোরা।
ইস্ট বেঙ্গল: লাচেনপা, হার্দিক, নুঙ্গা, জিভুলিচ, সন্দীপ (বিষ্ণু), জিকসন, রশিদ, বিপিন, রামিরেজ (লোবা), জয় (লুকাস) ও এনডমুন্ড (ক্রিস)।
মোহন বাগান: বিশাল, মেহতাব, রাহুল, আলবার্তো, অভিষেক, দীপক, জেলকোভিচ, ছাংতে (অনিরুদ্ধ), সাহাল, (মনবীর) ড্র্যাজিচ (সুহেল) ও আরউইন (লিস্টন)।