


সংবাদদাতা, গঙ্গারামপুর: জন্মদিবসে ধুলোমাখা অবস্থাতেই অর্ধেকদিন পড়ে রইল রাজবংশী সমাজের মহাপুরুষ রায় সাহেব ঠাকুর পঞ্চানন বর্মার আবক্ষ মূর্তি। শনিবার বুনিয়াদপুর পুরসভার ১২ নম্বর ওয়ার্ডে শহরের প্রধান সড়কের ধারে মনীষীর মূর্তিটি অর্ধদিবস অবহেলায়, অযত্নে পড়ে থাকায় ক্ষোভে ফেটে পড়েছেন স্থানীয় বাসিন্দারা।
তাঁদের অভিযোগ, সকাল থেকে দুপুর গড়িয়ে গেলেও মূর্তির চারপাশে ছিল জঞ্জালের স্তূপ। শহরের ১২ ও ১৩ নম্বর ওয়ার্ডে রাজবংশী সম্প্রদায়ের মানুষের সংখ্যা বেশি। দুপুর পেরিয়েও রায় সাহেবের মূর্তি পরিষ্কার না করায় বুনিয়াদপুরের বাসিন্দাদের মধ্যে ক্ষোভ ছড়িয়েছে।
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, বিকেল তিনটা নাগাদ বুনিয়াদপুর পুরসভার প্রশাসক সমীর সরকারের নির্দেশে অস্থায়ী কর্মীরা এসে মূর্তি পরিষ্কার শুরু করেন। তারপর মনীষীর গলায় পরানো হয় একটি গাঁদাফুলের মালা। ততক্ষণে ক্ষোভ ছড়িয়ে পড়ে এলাকায়। জেলার রাজবংশী সমাজের মুখ তথা তৃণমূল নেতা অম্বরিশ সরকার এবিষয়ে বলেন, ঠাকুর পঞ্চানন বর্মা আমাদের সমাজের হৃদয়। তাঁর জন্মদিবসে এমন অবহেলা কোনোভাবেই মেনে নেওয়া যায় না। এবিষয়ে পুরসভাকে কটাক্ষ করতে ছাড়েননি বিজেপির জেলা কমিটির সদস্য দীপেশ বসাক। তাঁর বক্তব্য, কোনো তৃণমূল নেতার জন্মদিন হলে এমন অবস্থা হতো না। রাজবংশী সমাজের মহাপুরুষ এই মনীষীর প্রতি পুরসভার এই দৃষ্টিভঙ্গি কাঙ্খিত নয়। একই সঙ্গে বিজেপি নেতার অভিযোগ, শহরের কোনো মনীষীর মূর্তিরই সঠিকভাবে রক্ষণাবেক্ষণ হয় না। যদিও বিজেপি নেতার দাবি নস্যাত্ করে দিয়ে পুরপ্রশাসক সমীর সরকার বলেছেন, মনীষীদের মূর্তি নিয়মিত পরিষ্কার করা হয়। স্থানীয়দের সঙ্গে কথা বলেই বিকেলে অনুষ্ঠান রাখা হয়েছিল।
পঞ্চানন বর্মার ওই আবক্ষ মূর্তির নীচে বসানো ফলক নিয়েও বিতর্ক দেখা দিয়েছে। মূর্তির নীচে মনীষী পঞ্চানন বর্মার জন্মদিবস হিসেবে লেখা রয়েছে ১৩ ফেব্রুয়ারি। অথচ ১৪ ফেব্রুয়ারি পালিত হয় পঞ্চানন বর্মার জন্মদিন। অম্বরিশের পরামর্শ, পুরসভাকে মনীষীদের জন্ম ও মৃত্যুদিনের ক্যালেন্ডার সংরক্ষণে বিশেষ নজর দিতে হবে। প্রশাসক বোর্ডের চেয়ারে যিনি আছেন, তাঁকেও সচেতন হতে হবে।