মহিষের রক্তে লেখা তালপাতার পুঁথিই দুর্গা হিসাবে পুজিত চক্রবর্তী পরিবারে
  • ১১ অক্টোবর, ২০২৬ ০৪:০০
Prefer us on Google

সংবাদদাতা, রঘুনাথপুর: কাশীপুরের দেবী বাড়ীর পুজোর নিয়ম মেনে জিতাষ্টমীর পরদিন থেকে পাড়া ব্লকের আনাড়ার চক্রবর্তী পরিবারে মায়ের পুজো শুরু হয়। দেবীর বাড়ি অনুসারে পুজোপাঠ হলেও এখানে পুজো ভিন্ন ধরনের। এখানে মায়ের মন্দির রয়েছে। কিন্তু মন্দিরে কোনো প্রতিমা থাকে না। মহিষের রক্ত দিয়ে লেখা একটি তালপাতার পুঁথি রয়েছে। তাতে মা চণ্ডী লেখা রয়েছে। শতাধিক বছর ধরে এখানে সেই তাল পাতার পুঁথিকে দুর্গা হিসেবে পুজো করা হয়। এক সময় পুজোয় ছাগ বলির প্রথা ছিল। তবে করোনার পর থেকে বলি প্রথা তুলে দেওয়া হয়েছে। আনাড়ায় চক্রবর্তী পরিবারে দুর্গা পুজোয় ১৬ দিন ধরে উন্মাদনা থাকে। বাড়ির পুজোয় পরিবারের সবাই আনন্দে শামিল হন।

Advertisement

চক্রবর্তী পরিবারের সদস্যদের মধ্যে বিধান চক্রবর্তী জানান, প্রায় ১০০ বছর আগে কনৌজ থেকে পরিবারের সদস্য বনমালী পণ্ডিত পুঁথিটি নিয়ে এসেছিলেন। তাঁর পাণ্ডিত্যের জন্য কাশীপুরের রাজা তাঁকে নিয়ে এসেছিলেন। সেই পুঁথি নিয়ে তিনি পুজো শুরু করেন। তাঁরা ছিলেন কাশীপুর রাজার ব্রাহ্মণ। তাই কাশীপুরের রাজার অনুমতি নিয়ে পুঁথিকে দেবী হিসেবেই পুজো করা হয়। নিয়ম মেনে কাশীপুরের দেবী বাড়ির নির্ঘণ্ট ধরে এখানে পুজো হয়। পুজোয় এখানে কলা বৌ থাকে না। তবে নবপত্রিকা দিয়ে মায়ের পুজো শুরু হয়। রীতি অনুযায়ী মা চণ্ডী এখানে পুজিত হন। সপ্তমীর দিন মাকে আহ্বান করা হয়। অষ্টমীতে দু’বার পুজো হয়। সকালে দুর্গা ও সন্ধ্যায় ভৈরবী হিসেবে পুজো করা হয়। দশমীতে মাকে অভিনব প্রথায় বিদায় দেওয়া হয়। মাকে বিদায়ের সময় একটি থালায় মন্দিরের বাইরে রৌদ্রের মধ্যে চ্যাং মাছ পোড়া এবং পান্তা ভাত নিবেদন করা হয়। এখানে মাকে বিসর্জন দেওয়া হয় না।
পরিবারের সদস্যা শুক্লা চক্রবর্তী বলেন, কর্মসূত্রে যাঁরাই বাইরে থাকেন, পুজোর সময় সকলে বাড়ি আসেন। সবাই মিলে আনন্দ ফুর্তি হয়। রীতি অনুসারে এখানে পরিবারের কোনো মহিলা মায়ের ভোগ রান্না করতে পারেন না। ব্রাহ্মণ রাঁধুনী এসে ভোগ রান্না করে মাকে পরিবেশন করেন। পরে পরিবারের মহিলারা সেই ভোগ সবাইকে বিলি করেন। পুজোর চার দিন প্রদীপ জ্বালানোর পাশাপাশি রাত জাগতে হয়। মাকে (তালপাতার পুঁথিকে) কিছুক্ষণ রোদ্দুরে রাখার পর আবার সযত্নে মন্দির রেখে দেওয়া হয়। এখানে মন্দিরে মা চণ্ডী বছরভর বিরাজ করেন। -নিজস্ব চিত্র