Bartaman Logo
৯ জুন, ২০২৬

পহেলগাঁও হামলা: আইএসআই-লস্কর যোগ পরিষ্কার, দাবি এনআইএ রিপোর্টে

পহেলগাঁও হামলা: আইএসআই-লস্কর যোগ পরিষ্কার, দাবি এনআইএ রিপোর্টে
  • ৩ মে, ২০২৫ ১৫:০৫
Prefer us on Google

শ্রীনগর: পহেলগাঁও হামলার নেপথ্যে রয়েছে পাকিস্তানি গোয়েন্দা সংস্থার (আইএসআই) হাত। হামলার আগে লস্কর-ই-তোইবার সঙ্গে নিয়মিত যোগাযোগ রেখেছিল তারা। গত ২২ এপ্রিল বৈসরণ উপত্যকায় হামলার প্রাথমিক রিপোর্টে এমনই দাবি করল জাতীয় তদন্তকারী সংস্থা (এনআইএ)। সূত্রের খবর, পহেলগাঁওতে হামলার ছক কষা হয়েছিল পাকিস্তানে লস্কর প্রধানের কার্যালয়ে। সেখানে আইএসআইয়ের ঊর্ধ্বতন আধিকারিকদের অঙ্গুলিহেলনে ঠিক করা হয় চূড়ান্ত রুটম্যাপ। জানা গিয়েছে, পাক অধিকৃত কাশ্মীরে লস্কর গোষ্ঠীর সঙ্গে নিয়মিত যোগাযোগ রাখত সন্ত্রাসবাদীদের হ্যান্ডলাররা। বেতাব উপত্যকায় অস্ত্র লুকিয়ে রেখেছিল তারা। 

Advertisement

পহেলগাঁও হামলার পর ঘটনার দায় স্বীকার করেছিল লস্করের ছায়া সংগঠন দ্য রেজিস্ট্যান্স ফোর্স। তবে ক্রমাগত আন্তর্জাতিক চাপ বাড়তে থাকায় এই দাবি থেকে সরে আসে তারা। বরং সাইবার হ্যাকিংয়ের ফলে ‘ভুলবশত’ এই দাবি করা হয়েছিল বলে জানায় তারা। ২০২৪ সালে গান্ধেরবালের জেড-মোড় টানেলের কাছে এক সন্ত্রাসবাদী হামলায় প্রাণ হারিয়েছিলেন সাতজন। এই হামলার সঙ্গে পহেলগাঁওয়ের হামলার যোগসূত্র পেয়েছেন তদন্তকারীরা। জানা গিয়েছে, লস্কর সমর্থিত একটি ইউনিটের সদস্যরাই জড়িত রয়েছে এই দুই হামলার নেপথ্যে। এই গোষ্ঠীর এক সদস্য জুনায়েদ আহমেদ ভাটকে ডিসেম্বরে এনকাউন্টারে নিকেশ করা হয়েছে। আর এক সন্দেহভাজন হাসিম মুসা পহেলগাঁও হামলায় সক্রিয় ভূমিকায় ছিলেন বলে জানা গিয়েছে। সে পাক প্যারা ফোর্সের প্রাক্তন কম্যান্ডো।  
পহেলগাঁও কাণ্ডের পর ধৃত জঙ্গিদের জিজ্ঞাসাবাদ করে জানা গিয়েছে, ২২ এপ্রিলের অনেক আগেই ভারতে ঢুকে পড়েছিল তারা। সম্ভবত তারিখটি ১৫ এপ্রিল। বৈসরণ উপত্যকা ছাড়াও অরু উপত্যকা, অ্যামিউজমেন্ট পার্ক, বেতাব ভ্যালিতেও রেইকি করেছিল তারা। জঙ্গিরা দেখে, এই জায়গাগুলির মধ্যে সবচেয়ে কম নিরাপত্তা বৈসরণেই। সে কারণে হামলার জন্য বেছে নেওয়া হয় এই উপত্যকাকে। এদেশে ওভার গ্রাউন্ড ওয়ার্কারদের সহায়তায় স্থানীয়দের সঙ্গে মিশেছিল তারা। মূলত চারজন ওভার গ্রাউন্ড ওয়ার্কার জঙ্গিদের সহায়তা করেছিল। হামলার পর থেকেও কঠোর নিরাপত্তার চাদরে মুড়ে ফেলা হয়েছে বৈসরণ উপত্যকা। ফরেন্সিক ও ইলেকট্রনিক তথ্য সংগ্রহ করছেন তদন্তকারীরা। ঘটনাস্থল থেকে উদ্ধার ৪০টির বেশি কার্তুজ  রাসায়নিক বিশ্লেষণের জন্য পাঠানো হয়েছে। ঘটনাস্থলের থ্রিডি ম্যাপিংও করা হয়েছে। আশেপাশের মোবাইল টাওয়ারও খতিয়ে দেখা হচ্ছে। 
জানা গিয়েছে, হামলার কয়েকদিন আগে থেকে উপত্যকায় স্যাটেলাইট ফোন ব্যবহারের হার অস্বাভাবিক হারে বেড়ে যায়। বৈসরণ এলাকায় অন্তত তিনটি স্যাটেলাইট ফোন সক্রিয় ছিল বলে খবর। এগুলির মধ্যে দু’টি ফোনের সিগন্যাল শনাক্ত করে বিশ্লেষণ করা হয়েছে। জানা গিয়েছে, শুক্রবার পর্যন্ত ১৫০ জনের বেশি ব্যক্তিকে হেফাজতে নেওয়া হয়েছে। তাদের মধ্যে ওভার গ্রাউন্ড ওয়ার্কারদের পাশাপাশি জামাত-ই-ইসলামির, হুরিয়ত কনফারেন্সের মতো নিষিদ্ধ সংগঠনের সদস্যও রয়েছে। 

সম্পর্কিত সংবাদ