Bartaman Logo
৮ অক্টোবর, ২০২৬
বর্তমান / কলকাতা

ক্যাবের ভিতর উদ্ধার মালিকের দেহ! রহস্য, মুখে আঘাত, পা বাঁধা দড়ি দিয়ে

ট্যাংরার ডিসি দে রোডে অ্যাপ ক্যাবের ভিতর পাওয়া গেল গাড়ির মালিক তথা চালকের দেহ। পিছনের সিটের সামনে খালি জায়গায় পড়েছিল দেহটি। পা বাঁধা।

ক্যাবের ভিতর উদ্ধার মালিকের দেহ! রহস্য, মুখে আঘাত, পা বাঁধা দড়ি দিয়ে
  • ৮ অক্টোবর, ২০২৬ ০৪:০০
Prefer us on Google

নিজস্ব প্রতিনিধি, কলকাতা: ট্যাংরার ডিসি দে রোডে অ্যাপ ক্যাবের ভিতর পাওয়া গেল গাড়ির মালিক তথা চালকের দেহ। পিছনের সিটের সামনে খালি জায়গায় পড়েছিল দেহটি। পা বাঁধা। গলায় শ্বাসরোধের চিহ্ন। মুখে ঘুসি মারার ফলে রক্তক্ষরণ হয়েছে। বুধবার সকাল দশটা নাগাদ দেহ উদ্ধার ঘিরে চাঞ্চল্য ছড়ায়। মৃতের নাম ভগবান প্রসাদ গুপ্তা (৪৫)। 

Advertisement

পুলিশের অনুমান, যুবককে অন্য কোথাও খুন করে ট্যাংরায় গাড়ি সমেত রেখে পালায় দুষ্কৃতীরা। ভগবানের হাতের সোনার আংটি-চেন, মোবাইল ও নগদ টাকা খোয়া গিয়েছে। অপহরণ ও খুনের মামলা রুজু করে তদন্তে নেমেছে এন্টালি থানা। লুটে বাধা পেয়ে ওই অ্যাপ ক্যাবের মালিককে খুন করা হয়ে থাকতে পারে বলে মনে করছে পুলিশ। সিসি ক্যামেরার ফুটেজের সূত্র ধরে অভিযুক্তদের খোঁজ চলছে। 
পুলিশ সূত্রে খবর, ভগবান বড়তলা এলাকায় থাকতেন। পরে মধ্যমগ্রামের দোলতলার মেঠোপাড়ায় চলে যান। তাঁর স্ত্রী পুলিশকে জানিয়েছেন, মঙ্গলবার বিকাল সাড়ে তিনটে নাগাদ গাড়ি সার্ভিসিং করাতে যাচ্ছেন বলে বের হন। স্ত্রীকে বলে যান, কিছুক্ষণের মধ্যেই ফিরে আসবেন। রাত সাড়ে আটটা নাগাদ তিনি স্বামীর মোবাইলে ফোন করলে দেখেন, সেটি বন্ধ। পরে আরও কয়েকবার ফোন করেও তাঁকে পাননি। রাতভর বিভিন্ন জায়গায় খোঁজাখুঁজি করেও সন্ধান মেলেনি। 
বুধবার সকাল দশটা নাগাদ ডিসি দে রোডের বাসিন্দারা দেখেন, একটি ক্যাব দাঁড়িয়ে রয়েছে অনেকক্ষণ ধরে। জানালার কাচ তোলা। একজন গাড়িতে উঁকি মেরে দেখেন, পিছনের সিটের সামনে থাকা ফাঁকা জায়গায় এক ব্যক্তির দেহ পড়ে রয়েছে। তাঁরা এন্টালি থানায় খবর দেন। অফিসাররা এসে দেখেন, গাড়ি লক করা। চাবিওয়ালা ডেকে গাড়ির লক খোলেন তাঁরা। দেখা যায়, মৃতের গলায় শ্বাসরোধের চিহ্ন রয়েছে। মুখে ঘুসি মারায় রক্ত বেরিয়েছে। পা বাঁধা। গাড়ির নম্বরের সূত্র ধরে জানা যায়, সেটির মালিক ভগবান প্রসাদ গুপ্তা। দোলতলা এলাকায় বাড়ি। তাঁর বাড়িতে খবর দেন অফিসাররা। দুপুরে পরিবারের লোকজন থানায় পৌঁছন।
তদন্তে নেমে পুলিশের অনুমান, গাড়িতে যাত্রী সেজে অপরাধীরা উঠে  থাকতে পারে। যুবককে আগ্নেয়াস্ত্র দেখিয়ে ভয় দেখানোর পর তাঁকে টেনে পিছনের সিটে নিয়ে আসা হয়। ছিনতাইয়ে বাধা পেয়ে খুন করা হয়ে থাকতে পারে। এরপর গাড়ি চালিয়ে ট্যাংরা এলাকায় এসে সেখানে গাড়ি ও দেহ রেখে যায়। যুবকের কারও সঙ্গে বিবাদ রয়েছে কি না, খতিয়ে দেখা হচ্ছে।   গাড়িটি কোন রুটে এসেছে জানতে দোলতলা সংলগ্ন রাস্তা, ভিআইপি রোড, রাজারহাট নিউটাউনের রাস্তা, বাইপাসসহ বিভিন্ন জায়গার সিসি ক্যামেরার ফুটেজ বিশ্লেষণ করা হচ্ছে। মৃতের মোবাইলের কল ডিটেইলস ঘেঁটে দেখা গিয়েছে, শেষ টাওয়ার লোকেশন মধ্যমগ্রামে। তিনি কার কার সঙ্গে কথা বলেছিলেন জানার চেষ্টা করছে পুলিশ।

Advertisement
সম্পর্কিত সংবাদ