পঞ্চমীতেই লক্ষাধিক দর্শনার্থী, জনজোয়ার কল্যাণীতে
  • ১৬ অক্টোবর, ২০২৬ ০৪:০০
Prefer us on Google

সংবাদদাতা, কল্যাণী: পঞ্চমীতেই জনসমুদ্র। উঁচু থেকে দেখলে শুধুই কালো মাথার সারি। পিচের রাস্তা প্রায় দৃষ্টিগোচরই হয় না। আর রাস্তায় দাঁড়ালে চোখে পড়বে, ঝলমলে পোশাক। বাহারি জুতো। রংচঙে লিপস্টিক, বাচ্চাদের হাতে বেলুন, আইসক্রিম বা খেলনা। সকলে চলেছেন প্যান্ডেলের দিকে। সেখানে দুর্গাও সম্ভবত অপেক্ষা করছেন দর্শনার্থীদের সঙ্গে আলাপ করবেন বলে।

Advertisement

জনসমুদ্র হয়ে ওঠা কল্যাণীতে চতুর্থী থেকেই শুরু হয়েছে ঠাকুর দেখার ভিড়। বৃহস্পতিবার সকাল থেকে তা বাড়তে শুরু করে, যেন বাঁধ ভেঙে গিয়েছে উৎসাহের। উদ্যোক্তারা বলছেন, ‘দিন যত এগবে, ভিড় ততই বাড়বে বলে আমরা আশাবাদী।’ পুলিশ সূত্রেও খবর, দৈনিক লক্ষাধিক মানুষের সমাগম হচ্ছে। তা উত্তরোত্তর বাড়বে। চলতি বছরের ট্রেন্ড অনুযায়ী, এখনও পর্যন্ত এ-ব্লকের তুলনায় বি-ব্লকের পুজো মণ্ডপগুলিতে ভিড় বেশি হচ্ছে।
এ-নাইন স্কোয়ার পার্ক, আইটিআই মোড় ব্যবসায়ী সমিতির পুজো এবং রথতলা সর্বজনীনকে কেন্দ্র করে দর্শনার্থীদের ভিড় চোখে পড়ার মতো বাড়ছে। এছাড়াও সেন্ট্রাল পার্ক, বোর্ড পার্ক ছাড়াও কয়েকটি পুজো আছে যেখানে সকাল থেকে মাঝরাত পর্যন্ত কার্যত ফাঁকাই হচ্ছে না মণ্ডপ চত্বর। দর্শনার্থীদের চাপে ট্রেনগুলিতেও তিলধারণের জায়গা থাকছে না। পাশাপাশি শহরের প্রধান রাস্তাগুলিতে বাড়ছে যানজট। যানজটের মূলে মূলত টোটোর আইন ভাঙার প্রবণতা। পুজোর এই বিপুল জনসমাগমকে ইতিবাচক হিসাবেই দেখছেন উদ্যোক্তারা। প্রতীক বন্দ্যোপাধ্যায় কল্যাণীর এক পুজোর উদ্যোক্তা। তিনি বলেন, ‘দুর্গাপুজো মানুষের আবেগ। শহরের পুজোকে ভালোবেসে অন্যান্য জায়গা থেকে আমাদের শহরে আসছেন দর্শনার্থীরা। আমরা তাঁদের সাদরে আমন্ত্রণ জানাচ্ছি। পাশাপাশি দেখুন, ভিড়কে কেন্দ্র করে বহু মানুষের রুটি-রুজির সংস্থান হচ্ছে। তাঁরা সকলে খুশি। এই সমাগম আমাদেরও আশ্বস্ত করছে।’ 
পুলিশ সূত্রে খবর, কল্যাণীর তিনটি বড়ো পুজোকে কেন্দ্র করে মূলত ছোটো-বড়ো মিলিয়ে প্রায় ৫০টি ড্রপগেট এবং বেশ কয়েকটি পুলিশ ক্যাম্প তৈরি করা হয়েছে। ভিড় সামলাতে ও আইনশৃঙ্খলা রক্ষায় পুজোর দিনগুলি শহরজুড়ে মোতায়েন থাকবে প্রায় ২৫০ পুলিশ এবং ১০০ সিভিক ভলান্টিয়ার। তাঁদের সঙ্গে থাকবে অনেক স্বেচ্ছাসেবক।
দর্শনার্থীদের এই ঢল নিয়ে খুশির আবহাওয়া উদ্যোক্তাদের মধ্যে। যদিও এর পাশাপাশি ক্ষোভ আছে শহরের বাসিন্দাদের একাংশের মধ্যে। তাঁদের অভিযোগ, গত কয়েকবছরের মতো এবারও পুজোর ভিড়ের কারণে পরিচ্ছন্নতা হারাচ্ছে সাজানো গোছানো, নিরিবিলি কল্যাণী। শহরের প্রধান রাস্তাগুলির বিভিন্ন জায়গায় পড়ে থাকছে খাবারের প্যাকেট, জলের বোতল ও খাবারের উচ্ছিষ্ট। এর ফলে শহরের পরিবেশ নষ্ট হচ্ছে। পাশাপাশি যানবাহনের চাপে বাড়ছে যানজট। সাধারণ মানুষকে ভোগান্তির মুখে পড়তে হচ্ছে। এই বিষয়গুলি নিয়ে সোশ্যাল মিডিয়াতে রীতিমতো সরব কল্যাণীর বহু বাসিন্দা। শান্তি বালা নামে কল্যাণীর এক বাসিন্দা বলেন, ‘গতবছর বাড়ির পাঁচিল টপকে ভিতরে ঢুকে মলত্যাগ করে গিয়েছিল কেউ। এবছরও ভিড় বাড়ছে। তাই চিন্তায় আছি। এই নোংরামো সহ্য করা অসম্ভব।’ অন্যদিকে উত্তর ২৪ পরগনার বারাসত থেকে আসা দর্শনার্থী সুখেন দাস বলেন, ‘আমাদের বারাসত শহরের কালীপুজো বা কলকাতার দুর্গাপুজোয় যখন লক্ষ লক্ষ মানুষ ভিড় করেন তখন আমরা তাঁদের সাদরে গ্রহণ করি। কল্যাণী শান্ত, নিরিবিলি জায়গা বলে এত ভিড়ে বাসিন্দাদের অসুবিধা হচ্ছে। কয়েকবছর পর সবটাই অভ্যাস হয়ে যাবে।’
সবমিলিয়ে, পুজোর ভিড়ে কল্যাণীর জনপ্রিয়তা বাড়ছে একদিকে। অন্যদিকে  শহরের পরিচ্ছন্নতার ঘাটতি, যানজট নিয়ন্ত্রণে সমস্যা এবং দর্শনার্থীদের একাংশের সচেতনতার অভাব যন্ত্রণা বাড়াচ্ছে শহরবাসীর। এসব সমস্যা মোকাবিলাই এখন বড়ো চ্যালেঞ্জ প্রশাসনের কাছে।