বহিরাগতদের প্রবেশের অনুমতি ছিলো না! সেই জমিদারবাড়ির পুজোই এখন সর্বজনীন
  • ২০ অক্টোবর, ২০২৬ ০৪:০০
Prefer us on Google

নিজস্ব প্রতিনিধি, রায়গঞ্জ: দুর্গাপুজোয় আনন্দ করা, অফুরন্ত ভোগ, প্রসাদ পাওয়ার সুযোগ থাকলেও। সাধারণ বহিরাগতদের জন্য নাগর নদীপাড়ে বাহিন জমিদারবাড়ির পুজো প্রাঙ্গনে প্রবেশের অনুমতি ছিলো না। কালচক্রে সেই জমিদারবাড়ি বর্তমান অবস্থা প্রায় জরাজীর্ণ। জমিদার বাড়ির কোথাও দেওয়াল ফুঁড়ে, কোথাও ঝুল বারান্দায় লতানো ঝোপঝাড়, বট, অশ্বত্থের শাখা প্রশাখা বিস্তার করে চলেছে। খসে পড়ছে পলেস্তারা। হাতি বেঁধে রাখার স্তম্ভগুলো ধীরে ধীরে জীর্ণ হচ্ছে। সেই জমিদারির অস্তিত্ব মুছে তীব্রতা কমেছে, জাঁকজমকের। বাহিন জমিদারবাড়ির পুজোর হাত বদল হয়ে এখন তা সর্বজনীন। ভারত সেবাশ্রম সংঘের বাহিন মিলন মন্দির সার্বজনীন পুজো কমিটির নেতৃত্বে গ্রামবাসীরাই এখন এই পুজোর হর্তাকর্তা। কিন্তু আজও জমিদারবংশের পুরোনো রীতিনীতি মেনেই পুজো হয়ে চলেছে মা দুর্গার। যেখানে বাহিন সহ পাশ্ববর্তী  লহুজগ্রাম, মাকড়া, কুমারজোল, মধুবন থেকে হাজার হাজার মানুষ পুজো দেখতে আসেন। এখনো নাগর নদী পেরিয়ে বিহারের বারসই জেলার নয়াটোলা, বিঘোর প্রভৃতি প্রত্যন্ত গ্রাম থেকে কৌতুহলী দর্শনার্থীদের ভিড় উপচে পড়ে এখানে। 

Advertisement

রায়গঞ্জ শহর থেকে প্রায় ৯ কিমি দূরে বিহার ঘেঁষা নাগর নদী পাড়ে জমিদারবাড়ির প্রাঙ্গণে এখন চলছে পুজোর চূড়ান্ত প্রস্তুতি। চাঁদা তোলা হচ্ছে বাড়ি বাড়ি গিয়ে। বাজেট সামান্য হলেও স্বতঃস্ফূর্ততা আগের চেয়ে কয়েকগুণ বেশি রয়েছে বলে দাবি করেন পুজো কমিটির সভাপতি সমর দাস। তিনি বলেন, পুজোয় আনন্দ করা, ভোগ প্রসাদ খাওয়ার সুযোগ থাকলেও জমিদারি আমলে পুজো মন্ডপে বহিরাগত সাধারণ দর্শনার্থীরা প্রবেশ করতে পারতেন না। তবে সর্বজনীন হিসেবে পুজো শুরুর পর থেকে মন্দিরে অবাধ প্রবেশ সকলের। ষষ্ঠী থেকে নবমী প্রতি সন্ধ্যায় গানের আসরে, গ্রামের উৎসাহী ছেলেমেয়েরা  স্বতঃস্ফূর্তভাবে অংশগ্রহণ করে এখন। আর তা দেখতে বিহার বাংলা সীমান্তে নাগর নদীর পাড়ে  নজরকাড়া ভিড় জমে।

ব্রিটিশ আমলে অবিভক্ত দিনাজপুরের জমিদার ঈশ্বরচন্দ্র রায় দুর্গাপুরের জমিদার বাড়ি ছেড়ে বাহিনে নাগর নদীর পাড়ে জমিদারি দেখভালের জন্য বিস্তৃর্ণ এলাকা জুড়ে দোতলা ভবন নির্মাণ করান। ইংরেজ আমল থেকেই জমিদার ঈশ্বরচন্দ্র রায়ের আয়োজনে দুর্গাপুজো হয়। তবে ব্রিটিশ বিদায়ের পর ধীরে ধীরে জমিদারি  প্রথা বিদায় নেয়। জমিদার বাড়ির বংশধরেরাও অন্যত্র চলে যান। ক্রমে বাহিন জমিদারবাড়ির দুর্গাপুজোর দায়িত্ব নেন স্থানীয় গ্রামবাসীরা। দীর্ঘ ৭৮  বছর ধরে বাহিন গ্রামের বাসিন্দারাই এই পুজো সামলাচ্ছেন।