সুজিত ভৌমিক, কলকাতা: বিমার কোটি কোটি টাকা নয়ছয়ের নয়া কেলেঙ্কারি সামনে এসেছে দক্ষিণ ২৪ পরগনা জেলায়। রীতিমতো একটি সংগঠিত চক্র দীর্ঘদিন ধরেই সক্রিয় সেখানে। প্রাথমিকভাবে জানা গিয়েছে, মূলত বারুইপুর, কুলতলি, বকুলতলা প্রভৃতি থানা এলাকায় চক্রটির দাপট মারাত্মক। সবক্ষেত্রেই ‘পথ দুর্ঘটনা’র গল্প ফেঁদে বিমার প্রায় ৩ কোটি টাকা নয়ছয়ের ছক কষেছে এই চক্রের কুশীলবরা।
এই কেলেঙ্কারি সামনে আসতেই বারুইপুর থানায় নজিরবিহীনভাবে মোট ৪৩ জনের বিরুদ্ধে এফআইআর দায়ের করা হয়েছে! তাদের মধ্যে ১২ জন ‘বাইকচালক’। আর বাকি ৩১ জন পথদুর্ঘটনায় ‘আহত’। কার্যত নজিরবিহীন এই বিমা কেলেঙ্কারির নেপথ্যে রয়েছেন দক্ষিণ ২৪ পরগনার এক আইনজীবী ও তাঁর শাগরেদ।
কীভাবে এই কেলেঙ্কারি সামনে এল? পুলিশ-প্রশাসনের এক সূত্র জানাচ্ছে, প্রথমত, সবক্ষেত্রেই পথদুর্ঘটনায় জড়িত বাইকচালক এবং বাইকের গায়ে এতটুকুও আঁচড় লাগেনি! অথচ, বাইকের ধাক্কায় গড়ে চার-পাঁচজন করে পথচারী আহত হচ্ছেন। তাঁদের আবার হাসপাতালে-নার্সিংহোমে ভরতি রেখে চিকিৎসাও করাতে হয়েছে। দ্বিতীয়ত, প্রতিটি পথদুর্ঘটনার ক্ষেত্রেই দেখা গিয়েছে, দুর্ঘটনার পর অনেকটা দেরিতে—গড়ে প্রায় ৩০ দিন পরে থানায় এফআইআর দায়ের করা হচ্ছে। তৃতীয়ত, দুর্ঘটনায় জখমদের মোবাইলের টাওয়ার লোকেশনসহ বাকি ‘ডিজিটাল ফুটপ্রিন্ট’ ঘাঁটতে গিয়ে দেখা যাচ্ছে—‘আহত পথচারী’ অকুস্থলের ১০-১৮ কিমির মধ্যেই ছিলেন না! চতুর্থত, হাসপাতালে চিকিৎসার নথি বলছে, জখমদের কেউ বাড়ির বাথরুমে কিংবা সিঁড়িতে পড়ে গিয়েছেন। কেউ-বা আহত হয়েছেন পুকুর পাড়ে পড়ে গিয়ে। কারও ক্ষেত্রে আঘাতপ্রাপ্তির কারণ ফুটবল খেলা। এমনকি আহতরা প্রথমে স্বাস্থ্যসাথি কার্ডে চিকিৎসা করিয়েছেন। তা সত্ত্বেও ঘটনার একমাস বাদে বাইক দুর্ঘটনার গল্প ফেঁদে দাবি করেছেন বিমার টাকা!
এসব ঘটনার প্রেক্ষিতে সংশ্লিষ্ট বিমা সংস্থা গত ৩০ সেপ্টেম্বর বারুইপুর থানায় মোট ৪৩ জনের বিরুদ্ধে লিখিত অভিযোগ দায়ের করে। তার ভিত্তিতে প্রতারণা, বিশ্বাসভঙ্গ এবং অপরাধমূলক ষড়যন্ত্রের মতো একাধিক জামিন অযোগ্য ধারায় এফআইআর দায়েরসহ তদন্তে নেমেছে বারুইপুর থানা। আইসি শান্তনু মিত্রের নেতৃত্বে পুলিশের একটি টিম সক্রিয় ভূমিকা নিয়েছে। এই অভিনব কেলেঙ্কারির তদন্তে নজরদারি করছেন বারুইপুরের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার অতীশ বিশ্বাস। তবে এখনো কাউকে গ্রেপ্তার করা যায়নি।