Bartaman Logo
৯ জুন, ২০২৬
বর্তমান / রাজ্য

জামালপুরে প্রখর রোদে পড়ে থেকে মৃত্যু দেড়মাসের শিশুর, বাবা-মাকে খুঁজছে পুলিস

বাঁকুড়া-মশাগ্রাম রেল লাইনের ধারে পড়ে রয়েছে ফুটফুটে শিশু।

জামালপুরে প্রখর রোদে পড়ে থেকে মৃত্যু দেড়মাসের শিশুর, বাবা-মাকে খুঁজছে পুলিস
  • ২ এপ্রিল, ২০২৫ ০৪:০০
Prefer us on Google

নিজস্ব প্রতিনিধি, বর্ধমান: বাঁকুড়া-মশাগ্রাম রেল লাইনের ধারে পড়ে রয়েছে ফুটফুটে শিশু। পরনে সবুজ রঙের জামা। ঠিক যেমনভাবে বাচ্চারা শুয়ে থাকে তেমনভাবেই ছিল। পাশ দিয়ে তীব্র গতিতে ছুটে চলছে ট্রেন। তাতেও শিশুটির ঘুম ভাঙছিল না। মশাগ্রাম স্টেশন থেকে কিছুটা দূরে ফাঁকা জায়গায় পড়ে থাকা শিশুটি এক আরপিএফ কর্মীর নজরে আসে। কাছে গিয়ে দেখেন, শিশুটি নিস্তেজ হলেও বেঁচে রয়েছে। তড়িঘড়ি তাকে জামালপুর ব্লক স্বাস্থ্যকেন্দ্রে নিয়ে যাওয়া হয়। কিন্তু হাসপাতালে পৌঁছনোর আগেই শিশুটি মারা গিয়েছে বলে চিকিৎসক জানিয়ে দেন। বলেন, আগে আনলে হয়তো বাঁচানো যেত। এখন আর কিছুই করার নেই।

Advertisement

এমন অমানবিক ঘটনায় তাজ্জব হয়ে গিয়েছে পুলিস থেকে এলাকার বাসিন্দারা। এমনটা কোনও বাবা, মা করতে পারে, তা কেউ ভেবে উঠতে পারছেন। ভাবার কথাও নয়। স্থানীয় বাসিন্দারা বলেন, জেলায় মৃত ভ্রুণ উদ্ধারের ঘটনা প্রায়ই ঘটে। বলতে গেলে এই খবর মানুষের যেন গা সাওয়া হয়ে গিয়েছে। বেশিরভাগ সময় কন্যা ভ্রুণ উদ্ধার হয়। বর্ধমান শহরে হামেশাই তা দেখা যায়। কিন্তু একমাসের পুত্র সন্তানকে এভাবে রেল লাইনের ধারে ফেলে যাওয়ার ঘটনা আগে দেখা যায়নি। স্থানীয়দের দাবি, তীব্র রোদ, গরমে শিশুটির মৃত্যু হতে পারে। 
পুলিস সূত্রে জানা গিয়েছে, শিশুর শরীরে কোথাও আঘাতের চিহ্ন ছিল না। মৃতদেহ ময়নাতদন্তের জন্য বর্ধমান মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে। ময়নাতদন্তর রিপোর্ট সামনে আসার পর বিষয়টি পরিষ্কার হবে। বর্ধমান দক্ষিণের মহকুমা পুলিস আধিকারিক অভিষেক মণ্ডল বলেন, অত্যন্ত নিন্দনীয় ঘটনা। কে বা কারা শিশুটিকে ফেলে রেখে গিয়েছিল, তা তদন্ত করে দেখা হচ্ছে। শিশুটির বাবা বা মাকে চিহ্নিত করা যায়নি। 
জামালপুর থানার পুলিস জানিয়েছে, কারও শিশু নিখোঁজ রয়েছে কি না, তা তদন্ত করে দেখা হচ্ছে। সিভিক ভলান্টিয়ারদেরও খোঁজ নেওয়ার ব্যাপারে কাজে লাগানো হচ্ছে। অনেক সময় কন্যা শিশু হত্যা করার প্রবণতা একাংশের মধ্যে দেখা যায়। কিন্তু পুত্র সন্তান এভাবে ফেলে রাখার নজির খুব একটা নেই।
মশাগ্রাম এলাকার বাসিন্দা দিলীপ বারুই বলেন, ঘটনা শুনে শিউরে উঠেছিলাম। কতটা অমানবিক হলে কেউ এরকম কাজ করতে পারে। যারা এই নৃশংস অপরাধ করেছে, তাদের বিরুদ্ধে কড়া পদক্ষেপ করা হোক। শিশুটি অসুস্থ হলে তাকে পরিবারের লোকজন হাসপাতালে নিয়ে যেতে পারত। সরকারি হাসপাতালে বিনামূল্যে চিকিৎসা করা হয়। সেটা না করে কেন শিশুটিকে ফেলে রেখে গেল? এটা নিয়ে তদন্ত হওয়া দরকার। 
এক পুলিস আধিকারিক বলেন, এমনও হতে পারে শিশুটিকে আগেই মেরে ফেলার চেষ্টা হয়েছিল। মারা গিয়েছে ভেবেই হয়তো তাকে কেউ বা কারা ফেলে রেখে গিয়েছিল। শিশুটির বাবা, মা তাকে ফেলে দিয়ে গিয়েছিল, নাকি কেউ শত্রুতাবশত সন্তান চুরি করে এই ঘটনা ঘটিয়েছে, তা খতিয়ে দেখা হচ্ছে।

Advertisement
সম্পর্কিত সংবাদ