নিজস্ব প্রতিনিধি, কলকাতা: পশ্চিমবঙ্গ ও ওড়িশা উপকূল লাগোয়া উত্তর-পশ্চিম বঙ্গোপসাগরে যে নিম্নচাপটি তৈরি হয়েছে সেটি আগামী দিনে কিছুটা শক্তি বৃদ্ধি করবে। আবহাওয়া দপ্তর জানিয়েছে, এটি সুস্পষ্ট নিম্নচাপ হিসাবে উত্তর ওড়িশা ও গাঙ্গেয় পশ্চিমবঙ্গের উপর আসবে। তবে আপাতত নিম্নচাপের যা গতিপ্রকৃতি তাতে আবহাওয়াবিদরা মনে করছেন, এর প্রভাবে দক্ষিণবঙ্গের তুলনায় ওড়িশায় বৃষ্টির পরিমাণ তুলনামূলকভাবে বেশি হবে। জুলাই মাসের শুরুতে বঙ্গোপসাগরের প্রায় একই জায়গায় একটি নিম্নচাপ তৈরি হয়েছিল। সেটি গভীর নিম্নচাপে পরিণত হয়ে ওড়িশা অতিক্রম করে মধ্য ভারতের দিকে সরে যায়। এই নিম্নচাপের প্রভাবে বিহার, ঝাড়খণ্ড, পূর্ব উত্তরপ্রদেশ এবং উত্তর ভারতেও বৃষ্টি বাড়বে। আশা আবহাওয়া দপ্তরের। উত্তর ভারত থেকে বিস্তৃত মৌসুমি অক্ষরেখাও এখন দক্ষিণবঙ্গের উপর আছে।
আবহাওয়া দপ্তর জানিয়েছে, নিম্নচাপের প্রভাব দক্ষিণবঙ্গে আজ বৃহস্পতিবার বেশি থাকবে। শুক্রবার-শনিবারও থাকবে কিছুটা। আজ রথযাত্রার দিন দুই মেদিনীপুর, ঝাড়গ্রাম, বাঁকুড়া ও পুরুলিয়া জেলার কোনো কোনো অংশে ভারী থেকে অতিভারী বৃষ্টির সম্ভাবনা আছে। এজন্য জারি করা হয়েছে ‘কমলা’ সতর্কতা। কলকাতা, দুই ২৪ পরগনা, হাওড়া ও হুগলি জেলার কিছু স্থানে আজ ভারী বৃষ্টির সম্ভাবনা রয়েছে। তাই সংশ্লিষ্ট এলাকার জন্য দেওয়া হয়েছে ‘হলুদ’ সতর্কতা।
উল্লেখ্য, ২৪ ঘণ্টার মধ্যে কোনো এলাকায় ২০০ মিমি পর্যন্ত বৃষ্টির সম্ভবনা থাকলে ‘অতিভারী’ এবং ১১০ মিমি পর্যন্ত বৃষ্টির সম্ভাবনার ক্ষেত্রে ‘ভারী’ বৃষ্টির সতর্কতা দেওয়া হয়। আগামীকাল শুক্রবার এবং শনিবার পশ্চিমাঞ্চলের কয়েকটি জেলায় ভারী বৃষ্টির সতর্কতা থাকছে। রবি ও সোমবার ভারী থেকে অতিভারী বৃষ্টির সতর্কতা দেওয়া হয়েছে উত্তরবঙ্গের পাহাড় ও লাগোয়া এলাকার জন্য।
তবে বুধবার সন্ধ্যা পর্যন্ত দক্ষিণবঙ্গে বৃষ্টির পরিমাণ খুব বেশি বাড়েনি। সকাল পর্যন্ত ২৪ ঘণ্টার মধ্যে বাঁকুড়ার কংসাবতীতে রাজ্যের মধ্যে সর্বোচ্চ পরিমাণ—৬০ মিমি বৃষ্টি হয়েছে। এইসময়ে অন্যত্র উল্লেখ করার মতো বৃষ্টি হয়েছে—বাঁকুড়ায় ৪৫, আসানসোলে ৩৯, ডায়মন্ডহারবারে ২৮, ঝাড়গ্রামে ২২ এবং কলকাতায় ৯ মিমি।