নিজস্ব প্রতিনিধি, আসানসোল: কিছুদিন আগেই দুর্গাপুরের নিউ টাউনশিপ থানা পরিদর্শনে এসেছিলেন পুলিশ কমিশনার প্রণব কুমার। আভ্যন্তরীণ নানা বিষয় খতিয়ে দেখতে গিয়ে গিয়ে তিনি দেখেন এক পুলিশ কর্মী এই থানায় আট বছর ধরে কমর্রত রয়েছেন। কনস্টেবল থেকে এএসআইয়ে প্রমোশন পেয়েছেন। তবু তাঁর বদলি হয়নি। সেই দিনই পুলিশ কর্মীকে থানা থেকে সরিয়ে পুলিশ লাইনে ক্লোজ করা হয়।
এরপরই আসানসোল-দুর্গাপুর পুলিশ কমিশনারেটের শীর্ষ কর্তারা প্রতি থানায় পুলিশ কর্মী ও অফিসাররা কে কত বছর কাজ করছেন, তা খোঁজ নেওয়া শুরু করেন। সেখানে নজরে এসেছে প্রায় প্রতি থানাতেই দু’-একজন পুলিশকর্মী ও অফিসার রয়েছেন, যাঁরা পাঁচ থেকে আট বছর পর্যন্ত একই থানায় কর্মরত। বদলির সব রকম নিয়ম ভেঙে প্রভাব খাটিয়ে একই থানায় থেকে গিয়েছেন তাঁরা। এইসব শিকড় গজিয়ে ওঠা অফিসারদের বদলি করতে তৎপর হয়েছেন আসানসোল দুর্গাপুর পুলিশ কমিশনারেটের পুলিশ কমিশনার প্রণব কুমার।
প্রণববাবু বলেন, এক একজন অফিসার একই থানায় বহু বছর কর্মরত থেকে গিয়েছেন। নিয়ম মেনে আমরা তাঁদের বদলি করছি। বিষয়টি নিয়ে পুলিশ মহলে শোরগোল পড়েছে। শিল্পাঞ্চলে রয়েছে একাধিক ‘ক্রিম’ থানা। যেখানে পোস্টিং পাওয়াকে পুলিশ মহলে প্রাইজ পোস্টিং হিসাবে ধরা হয়। তৃণমূল জমানায় একটি লবি সক্রিয় ছিল, যার দৌলতে কিছু নির্দিষ্ট অফিসাররাই সেই সব ‘ভালো’ থানার ওসির চেয়ার পেতেন। বড় অফিসার হওয়ায় কোনো বড় নির্বাচন এলে তাঁদের সরে যেতে হত। নির্বাচন মিটলে ফের পুরনো থানায় ফিরে আসতেন সেই অফিসার। ওই লবির অনেক অফিসারই ইডি, সিবিআইয়ের স্ক্যানারে রয়েছে। যদিও তাঁদের মধ্যে মনোরঞ্জন মণ্ডল ছাড়া কেউ গ্রেপ্তার হয়নি। এই লবির পোস্টিং ছাড়াও তৃণমূল আমলে এমন কিছু অফিসার ছিলেন যাঁরা শাসক দলের বিশেষ পছন্দের। কার্যত তাঁরাই বকলমে থানা চালাতেন। থানার ক্যান্টিনের খরচ জোগানোই হোক বা থানার বাইরে মামলার নিস্পত্তি করতে তাঁদের জুড়ি মেলা ভার। এদের কেউ ডাকবাবু নামে পরিচিত, কাউকে আবার ক্রাইসিস ম্যানেজার বলা হয়। চক্ষুলজ্জার খাতিরে থানার ওসি আইসিদের বদলি করা হলেও এরা কিন্তু একই থানায় বছরের পর বছর থেকে গিয়েছে। কোনো গুরুতর অভিযোগ এলেও এরাই বিষয়টি প্রথমে খতিয়ে দেখে বা অন্য কোনো বিষয়ও তারাই ম্যানেজ করে। বছরের পর বছর তারা এই কাজ করায় যথেষ্ট প্রভাবশালী হয়ে উঠেছে। শাসক দলের নেতাদের সঙ্গেও সুসম্পর্ক গড়ে ওঠায় তাঁদের জন্য বদলিও করা যেত না। রাজ্যে পালা বদলের পর পুলিশ মহলের এই সংস্কৃতিই বদলাতে তৎপর হয়েছেন পুলিশ কমিশনার।