নিজস্ব প্রতিনিধি, কলকাতা: আজ চতুর্থী। অফিস-কাছারিতে ছুটির আমেজ। তার সঙ্গে চলছে কেনাকাটার ফিনিশিং টাচ। রাতে ঘুরে ঘুরে ঠাকুর দেখাও শুরু করে দিয়েছে শহরবাসীর একাংশ। পুজোর আমেজের সঙ্গে পাল্লা দিয়ে বাড়ছে যানজট। বাড়ছে সিগন্যালের স্টপেজ টাইম। পরিস্থিতির হাল ধরতে আজ, বুধবার থেকেই নামছে কলকাতা পুলিশ। পুজোয় শহরের রাস্তার যান চলাচল স্বাভাবিক রাখতে ব্লু-প্রিন্ট তৈরি লালবাজারের।
মহালয়ার পর থেকে শহরে যানজট আচমকাই বেড়ে গিয়েছে। পুজোর আগে শেষ কাজের সপ্তাহে তা আরও বড়ো আকার নিয়েছে। বারবার স্তব্ধ হচ্ছে মা ফ্লাইওভার, ই এম বাইপাস, পার্ক সার্কাস কানেক্টর। যানজট থেকে রেহাই পাচ্ছে না ধর্মতলা, সেন্ট্রাল অ্যাভিনিউ, শ্যামবাজার, উল্টোডাঙা, শিয়ালদহ, গড়িয়াহাট। পুজোর আগে শহরে কেন এত যানজট? কারণ ও প্রতিকারের উপায় দর্শালেন কলকাতার পুলিশ কমিশনার অজয় নন্দা। মঙ্গলবার তিনি লালবাজার ট্রাফিক বিভাগের একটি অনুষ্ঠানে এসে জানান, গত ৩ বছরে শহরে প্রায় ৬ লক্ষ যানবাহন বেড়েছে। সবচেয়ে বেড়েছে দু’চাকার গাড়ি ও প্রাইভেট কার। কিন্তু মূল শহরে রাস্তার দৈর্ঘ্য-প্রস্থ একই রয়েছে। শুধু তাই নয়, নিউটাউনের দিকে শহরের অনেকখানি বিস্তার হয়েছে। সেখানে ৪ লেনের রাস্তা। মা ফ্লাইওভার ধরে সেদিকে বহু গাড়ি যাতায়াত করে। ফ্লাইওভার মাত্র ২ লেনের। ফলে অতিরিক্ত চাপ পড়ছে ফ্লাইওভার ও ই এম বাইপাসে। ফলে বিস্তীর্ণ এলাকা চলে যাচ্ছে যানজটের কবলে। তবে পুজোর সময় এই পরিস্থিতির মোকাবিলা করতে তারা পুরোপুরি প্রস্তুত বলেই জানাচ্ছে লালবাজারের ট্রাফিক বিভাগ।
কী সেই ব্লু-প্রিন্ট? সিপি জানান, আজ বিকেল ৪টে থেকে ট্রাফিক বিভাগের অতিরিক্ত ১২ হাজার পুলিশকর্মী রাস্তায় নামবেন। শহরের গুরুত্বপূর্ণ পাঁচটি পয়েন্টে থাকবেন ডেপুটি কমিশনার পদমর্যাদার অফিসাররা। সেই সঙ্গে ২৬ হাজার টেম্পোরারি হোমগার্ড (টিএইচজি) মোতায়েন করা হচ্ছে। অর্থাৎ, মোট ৩৮ হাজার অতিরিক্ত ফোর্স যানবাহনের পাশাপাশি পথচারীদের চলাচল নিয়ন্ত্রণ করবেন। শপিং মল, বড়বাজার এলাকায় শেষ মুহূর্তের কেনাকাটা চলছে। সেখানেও ডেপুটি কমিশনার পদমর্যাদার অফিসারদের মোতায়েন করা হচ্ছে। ক্রাউড ম্যানেজমেন্টের পাশাপাশি চুরি, ছিনতাই, পকেটমারি, কেপমারিসহ অপরাধ রুখতেও নজরদারি চালাবে স্পেশাল সাদা পোশাকের টিম। কলকাতার পুলিশ কমিশনার জানিয়ে দিয়েছেন, আজ থেকেই শহরের বিভিন্ন রাস্তায় পার্কিং নিয়ে বিধিনিষেধ লাগু করা হচ্ছে। যত্রতত্র আর পার্কিং করা যাবে না। পার্কিং নিষেধাজ্ঞার প্রতীক সংশ্লিষ্ট এলাকায় আজ থেকে নির্দেশনামা হিসাবে ঝুলিয়ে দেওয়া হবে। রাসবিহারী অ্যাভিনিউ, হাতিবাগান, নিউ মার্কেট, শিয়ালদহ চত্বরে পার্কিং বন্ধ করে দেওয়া হচ্ছে। যানবাহনের গতি সচল রাখতে ও শহরকে যানজট মুক্ত রাখতে বেশ কিছু রাস্তায় ‘নো-এন্ট্রি’ করা হচ্ছে। সংশ্লিষ্ট এলাকায় মোতায়েন থাকা পুলিশ কর্মী ও অফিসাররা সাধারণ মানুষকে সেই মতো বিকল্প পথনির্দেশ দেবেন।



