Bartaman Logo
২৪ জুলাই, ২০২৬
বর্তমান / রাজ্য

ট্রাফিক ফাইন মেটাতে লিঙ্কে ক্লিক প্রতারণার শিকার এনটিপিসির ইঞ্জিনিয়ার

সাইবার অপরাধীদের জাল এবার আরও সুক্ষ্ম, আরও অভিনব। ট্রাফিক আইন লঙ্ঘনের ভুয়ো মেসেজে ক্লিক করে প্রতারণাত শিকার হলেন ফরাক্কা তাপবিদ্যুৎ কেন্দ্রের এক ইঞ্জিনিয়ার

ট্রাফিক ফাইন মেটাতে লিঙ্কে ক্লিক প্রতারণার শিকার এনটিপিসির ইঞ্জিনিয়ার
  • ১৫ মার্চ, ২০২৬ ১৪:০৩
Prefer us on Google

সংবাদদাতা, জঙ্গিপুর: সাইবার অপরাধীদের জাল এবার আরও সুক্ষ্ম, আরও অভিনব। ট্রাফিক আইন লঙ্ঘনের ভুয়ো মেসেজে ক্লিক করে প্রতারণাত শিকার হলেন ফরাক্কা তাপবিদ্যুৎ কেন্দ্রের এক ইঞ্জিনিয়ার। ট্রাফিক ফাইন মেটানোর নাম করে পাঠানো একটি লিঙ্কে ক্লিক করতেই কয়েক দফায় তাঁর ব্যাংক অ্যাকাউন্ট তুলে নেওয়া হয় ২ লক্ষ ৪১ হাজার টাকা। ফরাক্কার এনটিপিসি ইঞ্জিনিয়ার বরুণকুমার মণ্ডলের বাড়ি বাকুড়া জেলায় হলেও তিনি কর্মসূত্রে বিগত ১০ বছর ধরে ফরাক্কাতেই থাকেন। শনিবার তিনি ফরাক্কা থানায় প্রতারণার লিখিত অভিযোগ দায়ের করেছেন। অভিযোগ পেয়ে পুলিশ ও সাইবার সেল তদন্ত শুরু করেছে। প্রাথমিক তদন্তে পুলিশের অনুমান, এটি এক নতুন ধরনের ‘ফিশিং’ বা ‘ম্যালওয়্যার’ অ্যাটাক, যেখানে সরকারি চালানের নাম করে ব্যবহারকারীর মোবাইল ফোন প্রতারকরা তাদের নিয়ন্ত্রণে নিয়ে নিচ্ছে।

Advertisement

জঙ্গিপুর সাইবার থানার পুলিশ অফিসার জানিয়েছেন, কেউ কোনো অজানা লিঙ্ক ওপেন করবেন না। এ বিষয়ে বারবার মানুষকে সচেতন করা হচ্ছে। প্রতারকরা নতুন নতুন পন্থা অবলম্বন করে মানুষকে ঠকাচ্ছে। বিষয়টি তদন্ত করে দেখা হচ্ছে।
বরুণবাবু বলেন, শুক্রবার তাঁর হোয়াটসঅ্যাপে একটি মেসেজ আসে। তাতে দাবি করা হয়েছিল, ট্রাফিক নিয়ম ভঙ্গ করেছেন। সে জন্য নির্দিষ্ট অঙ্কের জরিমানা ধার্য করা হয়েছে। মেসেজের সঙ্গেই দেওয়া ছিল একটি লিঙ্ক, যা দেখতে হুবহু সরকারি পরিবহণ দপ্তরের চালানের মতো। সেই লিঙ্কে তিনি ক্লিক করেন। লিঙ্ক খোলার কয়েক ঘণ্টা পরেই চার দফায় তাঁর অ্যাকাউন্ট থেকে টাকা তুলে নেয় প্রতারকরা। দু›টি বেসরকারি ক্রেডিট কার্ড ও রাষ্ট্রায়ত্ত ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্ট থেকে মোট চারবারে তাঁর অ্যাকাউন্ট থেকে মোট ২ লক্ষ ৪১ হাজার টাকা হাতিয়ে নেওয়া হয়। তড়িঘড়ি তিনি ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্ট লক করেন। সাইবার বিশেষজ্ঞদের মতে, এই ধরণের প্রতারণায় অপরাধীরা সাধারণত ভুয়ো ফাইল বা ম্যালওয়্যার ব্যবহার করে। লিঙ্কে ক্লিক করলেই ফোনের সমস্ত তথ্য ও ওটিপি সরাসরি পৌঁছে যায় প্রতারকদের সার্ভারে।
বরুণবাবু বলেন, এই ধরনের মেসেজ দেখে অবাক হয়েছিলাম। প্রথমে লিঙ্কটি ওপেন করে সেটি সঠিক মনে না হওয়ায় তা ডিলিটও করে দিই। এরপর রাতে টাকা কাটার মেসেজ আসে। থানায় লিখিত অভিযোগ দায়ের করেছি। 
পুলিশ জানিয়েছে, যে সব অ্যাকাউন্টে টাকা স্থানান্তরিত হয়েছে, সেগুলি ফ্রিজ করার প্রক্রিয়া শুরু হয়েছে। তবে খোয়া যাওয়া টাকা আদৌ ফিরে পাওয়া যাবে কি না, তা নিয়ে দুশ্চিন্তায় রয়েছেন ওই ইঞ্জিনিয়ার।

Advertisement
সম্পর্কিত সংবাদ