ওয়াশিংটন: নিজের উদ্যোগে অনেকগুলি যুদ্ধ থামিয়েছেন। এই দাবি করে গত কয়েক বছর ধরে নোবেল শান্তি পুরস্কারের তদ্বির করে চলেছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। এখনও শিঁকে ছেড়েনি। তবে দমে যাওয়ার পাত্র নন তিনি। এবার তিনি পুলিৎজার পুরস্কারের বায়না জুড়লেন। বুধবার সাউথ ক্যারোলিনায় মিড টার্ম ইলেকশনের প্রচার সারছিলেন তিনি। সেখানেই নোবেল না পাওয়ার আক্ষেপ ঝরে পড়ল মার্কিন প্রেসিডেন্টের কণ্ঠে। একই সঙ্গে তিনি পুলিৎজার পুরস্কার কেন পাবেন না, সেই প্রশ্নও তুলেছেন। পাশাপাশি ট্রাম্প জানিয়েছেন, এই দুই পুরস্কার না পেলেও তিনি কিছু মনে করেননি।
পাশাপাশি পুলিৎজার পুরস্কারের গ্রহণযোগ্যতা নিয়েও সন্দেহ প্রকাশ করেছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট। ট্রাম্পের মতে, তাঁর প্রচার শিবিরের সঙ্গে রাশিয়ার গোপন আঁতাত নিয়ে অনুসন্ধানী প্রতিবেদনের জন্য অনেককে এই পুরস্কার দেওয়া হয়েছিল। সেই পুরস্কার দেওয়ার সিদ্ধান্ত যথাযথ ছিল না। উল্লেখ্য, ২০১৬ সালের মার্কিন নির্বাচনে রাশিয়ার হস্তক্ষেপের অভিযোগ নিয়ে অনুসন্ধানী প্রতিবেদনের জন্য ‘দ্য নিউ ইয়র্ক টাইমস’ এবং ‘দ্য ওয়াশিংটন পোস্ট‘কে যৌথভাবে পুলিৎজার দেওয়া হয়। সেই পুলিৎজারই এখন প্রত্যাশা করছেন ট্রাম্প। তাঁর কথায়, ‘আমাকে নোবেল দেওয়া হয়নি। আমাকে পুলিৎজারও দেওয়া হয়নি। তবে লেখালিখির জন্য আমার পুলিৎজার প্রাপ্য।’ কোন লেখার জন্য তিনি পুলিৎজার চাইছেন, তা অবশ্য খোলসা করেননি মার্কিন প্রেসিডেন্ট।
এমনিতে নিজের সোশ্যাল মিডিয়া ট্রুথ সোশ্যালে বিভিন্ন বিষয়ে মন্তব্য করা ছাড়া ট্রাম্পের লেখা নজরে আসে না। তবে বাণিজ্য, বাণিজ্য কৌশল, রাজনীতির মতো বিষয়ে সহকারী লেখক হিসাবে অন্তত ২০টি বই লিখেছেন বলে দাবি করেছেন ট্রাম্প। তাঁর নামে প্রথম বইটি প্রকাশিত হয় ১৯৮৭ সালে। ‘ট্রাম্প: দি আর্ট অব দ্য ডিল’ বইটি সে বছর বেস্ট সেলার হয়েছিল। এদিন ট্রাম্পের আরও একটি কীর্তি সামনে এসেছে। মার্কিন প্রেসিডেন্টের এগজিকিউটিভ অর্ডার মেনে সম্প্রতি ‘লেক অন্টারিও‘র নাম বদলে ‘লেক আমেরিকা’ করেছে গুগল ম্যাপ। এরপরই নাকি তিনি অতলান্তিক মহাসাগরের নাম বদলে ‘ট্রাম্প মহাসাগর’ রাখার প্রস্তাব দিয়েছিলেন গুগলকে। তা শুনে গুগলের সিইও সুন্দর পিচাই বলেছিলেন, ‘না, না, না। এবার আর আমি এটা করব না।‘ এর যুক্তি হিসাবে পিচাই জানান, ‘মহাসাগরের বিষয়টি জটিল। এর আশেপাশে বহু দেশ রয়েছে। তাই দয়া করে এমন অনুরোধ করবেন না।’



