Bartaman Logo
৯ সেপ্টেম্বর, ২০২৬
বর্তমান / কলকাতা

বালি-বেলুড়ে ২৮টি হোটেলকে নোটিস, জাতীয় সড়কের লজেও চলবে অভিযান

তারাপীঠ ও কলকাতায় পরপর অগ্নিকাণ্ডের ঘটনার পর হোটেল-লজগুলিতে অগ্নি-নিরাপত্তা ব্যবস্থা খতিয়ে দেখতে রাজ্যজুড়ে বিশেষ নির্দেশিকা জারি হয়েছে।

বালি-বেলুড়ে ২৮টি হোটেলকে নোটিস,  জাতীয় সড়কের লজেও চলবে অভিযান
  • ২৪ আগস্ট, ২০২৬ ০৪:০০
Prefer us on Google

নিজস্ব প্রতিনিধি, হাওড়া: তারাপীঠ ও কলকাতায় পরপর অগ্নিকাণ্ডের ঘটনার পর হোটেল-লজগুলিতে অগ্নি-নিরাপত্তা ব্যবস্থা খতিয়ে দেখতে রাজ্যজুড়ে বিশেষ নির্দেশিকা জারি হয়েছে। সেই নির্দেশিকা মেনে বালি, বেলুড় ও লিলুয়া এলাকায় শনিবার থেকে অভিযান শুরু করেছে দমকল। হোটেল, লজ, গেস্ট হাউস, ব্যাঙ্কোয়েট হল ও নার্সিংহোম মিলিয়ে প্রায় ৩০টি প্রতিষ্ঠানে স্পেশাল ভিজিট চালানো হয়। এর মধ্যে ২৮টি হোটেল-লজকে ইতিমধ্যেই নোটিস দেওয়া হয়েছে বলে দমকল সূত্রে জানা গিয়েছে। হাওড়া শহর, বালি, বেলুড়ের পাশাপাশি জাতীয় সড়ক সংলগ্ন সাঁতরাগাছি ও ধূলাগড় এলাকাতেও চলবে অভিযান।

Advertisement

শনিবার দুপুরে বালি ফায়ার স্টেশনের ওসি সোমনাথ প্রামাণিকের নেতৃত্বে দমকলের আধিকারিকরা বিভিন্ন প্রতিষ্ঠান ঘুরে অগ্নি-নির্বাপণ ব্যবস্থা, ইমার্জেন্সি এগজিট এবং অগ্নি-নিরাপত্তা বিধি ঠিকমতো মানা হচ্ছে কি না, তা খতিয়ে দেখেন। দমকল সূত্রে খবর, গত জুন মাসে সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানগুলিকে অগ্নি-নিরাপত্তা সংক্রান্ত নিয়ম মেনে চলার নির্দেশ দেওয়া হয়েছিল। শনিবারের পরিদর্শনে ফের নির্ধারিত চারটি গুরুত্বপূর্ণ গাইডলাইন কঠোরভাবে মেনে চলার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। পরিদর্শনে বেশ কয়েকটি পুরানো হোটেলের পরিকাঠামো নিয়েও উদ্বেগ প্রকাশ করেছে দমকল। দমকলের দাবি, বহু পুরানো হোটেল ভবনে মাত্র একটি সিঁড়ি রয়েছে। অগ্নিকাণ্ডের মতো জরুরি পরিস্থিতিতে যা বিপজ্জনক হয়ে উঠতে পারে। পাশাপাশি অধিকাংশ জায়গায় অগ্নিনির্বাপণ ব্যবস্থা যথাযথ নয় বলে পরিদর্শনে উঠে এসেছে। ওসি সোমনাথ প্রামাণিক বলেন, প্রায় ২৮টি হোটেলকে নোটিস ধরানো হয়েছে। বাকি হোটেলগুলির পরিদর্শনও দ্রুত শেষ করা হবে। সমস্ত প্রতিষ্ঠান পরিদর্শনের পর বিস্তারিত রিপোর্ট উচ্চপদস্থ কর্তৃপক্ষের কাছে পাঠানো হবে। তাঁর কথায়, অগ্নি-নিরাপত্তার ক্ষেত্রে কোনো গাফিলতি বরদাস্ত করা হবে না। নির্দেশিকা বা দমকলের নিয়ম না মানলে সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানের বিরুদ্ধে আইন অনুযায়ী কড়া আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
ইতিমধ্যেই হাওড়া স্টেশন সংলগ্ন পুরানো বহুতল আবাসনগুলিতে বেআইনিভাবে হোটেল-লজের কারবার নিয়ে সক্রিয় হয়েছে পুলিশ ও দমকল। ইতিমধ্যেই যৌথভাবে বেশ কিছু হোটেলে পরিদর্শন চালানো হয়েছে। প্রায় সব ক্ষেত্রেই অগ্নি-নির্বাপণ ব্যবস্থায় চরম গাফিলতি ধরা পড়েছে। দমকল সূত্রে জানা গিয়েছে, কোনা এক্সপ্রেসওয়ে ও জাতীয় সড়ক সংলগ্ন হোটেলগুলিতেও আগামী দিনে অগ্নি-নির্বাপণ ব্যবস্থা খতিয়ে দেখতে অভিযান চালানো হবে। বিশেষ করে হ্যাংস্যাং ক্রসিং থেকে সাঁতরাগাছি পর্যন্ত বেশ কয়েকটি হোটেলে ফায়ার এগজিট নিয়ে অভিযোগ রয়েছে। বিষয়টি নজরে এসেছে দমকল আধিকারিকদের। একইভাবে ধূলাগড় এলাকাতেও অবৈধভাবে একাধিক লজের কারবার চলছে বলে অভিযোগ। দ্রুত সেই জায়গাগুলি পরিদর্শন করা হবে।

Advertisement
সম্পর্কিত সংবাদ