


অরিজিৎ ঘোষাল, রানাঘাট: ধর্ম নয়, পরিচয় একটাই-আমরা ভারতবাসী। হাঁসখালি প্রচারমঞ্চ থেকে বিজেপির ধর্মীয় মেরুকরণের বিরুদ্ধে সুর চড়ালেন তৃণমূলের তারকা সাংসদ দেব।
শুক্রবার নদীয়ার কৃষ্ণগঞ্জ বিধানসভার তৃণমূল কংগ্রেস প্রার্থী সমীরকুমার পোদ্দারের সমর্থনে হাঁসখালি হাইস্কুলের মাঠে এক জনসভায় যোগ দিয়েছিলেন দেব। বৈশাখের তপ্ত দুপুরে প্রিয় তারকাকে দেখতে জনসভায় উপচে পড়েছিল মানুষের ভিড়। সেই ভিড়ের আবেগকে সাক্ষী রেখে বিজেপিকে কড়া ভাষায় আক্রমণ করলেন তিনি।
এদিন বক্তব্যের শুরু থেকেই দেবের নিশানায় ছিল গেরুয়া শিবিরের ধর্মীয় রাজনীতি। তিনি বলেন, ‘নির্বাচন কি ধর্ম নিয়ে হয়? নাকি আমাদের দৈনন্দিন জীবনের উন্নয়ন কিংবা রুজি-রুটি নিয়ে হয়? আমাদের সবার বড় পরিচয় একটাই—আমরা ভারতবাসী। যাঁরা ধর্ম নিয়ে রাজনীতি করে বিভেদ সৃষ্টি করে তাঁদের ভোট দেবেন না।’
রাজ্য সরকারের জনহতিকর প্রকল্পগুলিকে তুলে ধরে দেব বলেন, ‘মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় যা প্রতিশ্রুতি দেন, তা পালন করেন। সকলের ঘরে ঘরে পৌঁছে গিয়েছে লক্ষ্মীর ভান্ডার থেকে শুরু করে সবুজসাথী, স্বাস্থ্যসাথী, কন্যাশ্রীও যুবশ্রী। যেটা আর কোনও রাজ্যে পাওয়া যায় না একমাত্র পশ্চিমবঙ্গেই সম্ভব। আর সেটা সম্ভব হয়েছে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের হাত ধরে।’ সেই সঙ্গে আবাস যোজনা নিয়েও সরকারের সাফল্য তুলে ধরেন তিনি। বলেন, ‘বহু গরিব মানুষের মাথার উপর ছাদ ছিল না। মততা বন্দ্যোপাধ্যায় তাঁদের ছাদ দিয়েছেন। তাই, ভোট দেওয়ার আগে একবার অন্তত ভাববেন, ‘এসব সামাজিক সুরক্ষা দিচ্ছেন কে? উত্তর পাবেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। কথা যে রাখেন, ভোট দেব তাঁকেই। উন্নয়নের এই ধারা অব্যাহত রাখতে জোড়া ফুল চিহ্নে বোতাম টিপে সমীরবাবুকে বিপুল ভোটে জয়যুক্ত করুন। সভার শেষে অনুরাগীদের আবদারে সিনেমার সংলাপ নয়, বরং মানুষের পাশে থাকার বার্তা দিয়েই মাঠ ছাড়েন দেব।
দেবের এই নির্বাচনি জনসভায় তৃণমূল কর্মী-সমর্থক সহ সাধারণ মানুষের ঢল ছিল চোখে পড়ার মতো। পর্দার নায়ককে এক ঝলক দেখতে এবং তার বক্তব্য শুনতে কাতারে কাতারে মানুষ যোগ দেয় ওই জনসভায়। দেব মঞ্চে উঠতেই বাঁধভাঙা উচ্ছ্বাস-উন্মাদনা। উত্তরীয় পরিয়ে ফুলের তোড়া দিয়ে সংবর্ধন জানানো হয় তাঁকে। ফুলের তোড়াটি উপস্থিত ভক্তদের মাঝে ছুড়ে দেন। তাঁর এই ভালোবাসা দর্শকদের মুগ্ধ করে। দেব-ভক্তদের সামলাতে রীতিমতো হিমশিম খেতে হয় পুলিশও তৃণমূলের স্বেচ্ছাসেবকদের। তৃণমূল কর্মীদের দাবি, দেবের এই সভা কৃষ্ণগঞ্জ কেন্দ্রে শাসক শিবিরের আত্মবিশ্বাস অনেকটাই বাড়িয়ে দেয়। সেই সঙ্গে উপরি পাওনা তৃণমূলে যোগদান। দেবের সভার শেষে বিজেপি ছেড়ে বহু আদিবাসী পরিবারের সদস্য তৃণমূলে যোগদান করেন।