


আমাদের এই পৃথিবী সত্যিই এক বিচিত্র জায়গা। এখানে এমন অনেক কিছুই রয়েছে যার ব্যাখ্যা মেলা কঠিন। তেমনই কিছু জায়গার সঙ্গে তোমাদের পরিচয় করাচ্ছেন কমলিনী চক্রবর্তী।
শীতকালে যদি আর্কটিক সার্কেল অর্থাৎ সুমেরু বৃত্ত অঞ্চলে যাওয়া যায় তাহলে একটা দারুণ জিনিস দেখা যাবে। গোটা অঞ্চল জুড়ে নর্থ সি-র উপর ছড়িয়ে রয়েছে শ্বেতশুভ্র ফুল। সেই ফুল একাধিক ডাঁটির সাহায্যে একে অপরের গায়ে লেগে থাকে। নীল জলের উপর সাদা সাদা ফুল। ভেসে রয়েছে। কখনও বা কাছে দূরে সরেও যাচ্ছে তারা জলের স্রোতের সঙ্গে। কে এই সাগর জলে ভাসিয়ে দিল ফুলের রাশি? ভাবছ বুঝি, উত্তর সাগরের হিমশীতল জল কোনও পরী এসে এমন রূপে সাজিয়েছে? না, তেমন কোনও অলৌকিক কাণ্ড মোটেই নয়। এই ফুল তৈরি হয় সম্পূর্ণ প্রাকৃতিক নিয়মে। ফুলগুলো আয়তনে মাঝারি। এই ধর, ৩-৪ সেন্টিমিটার হবে। আর অসম্ভব পাতলা। প্রায় কাগজের মতো। সেই কারণেই এত সহজে ভেসে থাকতে পারে। অবাক লাগছে তো ভাবতে? এত উঁচুতে গাছপালা ছাড়াই কেমন করে ফুল ফুটল? আর সেই ফুল জলে ভাসছেই বা কীভাবে?
আসলে এর পিছনেও রয়েছে একটা বৈজ্ঞানিক কারণ। প্রবল শীতে উত্তর সাগরের জল যখন জমতে শুরু করে, তখন তার যে অংশে বেশি মাত্রায় নুন রয়েছে সেই অংশগুলো এমন ফুলের রূপ ধরে। তার কারণ, নুন জমে গিয়ে বরফের গায়ে ক্রিস্টাল তৈরি করে। তারপর তা এমনভাবে লেগে যায় যে, মনে হয় ফুলের পাপড়ি। আর সেই ফুলই ভেসে বেড়ায় নর্থ সি-র জলের উপর। সাগরের বাকি জল যে সম্পূর্ণ জমে যায় তাও নয়। জলের যে অংশ জমে না সেই অংশের উপর এই বরফ ও নুনের মিশ্রণে তৈরি শ্বেতশুভ্র ‘ফুলে’র রাশি ভেসে বেড়ায়। দেখলে মনে হয় জলের উপর কোনও অজানা কৌশলে একগুচ্ছ সাদা ফুল ছড়িয়ে দিয়েছেন ঈশ্বর। এটাই ফ্রস্ট ফ্লাওয়ার বা তুষার পুষ্প নামে পরিচিত। প্রকৃতির এমন অদ্ভুত খেয়াল বিশ্বের যত্রতত্র ছড়িয়ে রয়েছে। শুধু তাদের খুঁজে বের করে দেখে নেওয়ার অপেক্ষা।