নিজস্ব প্রতিনিধি, রায়গঞ্জ: প্রধান প্রতিপক্ষ বলতে চারটি মাত্র রাজনৈতিক দল- বামফ্রন্ট, কংগ্রেস, তৃণমূল এবং বিজেপি। কিন্তু ভোটের লড়াইয়ে প্রাসঙ্গিকতা থাকুক বা না থাকুক, কেউ কারো জায়গা ছাড়তে নারাজ। এসইউসিআই হোক বা আমরা বাঙালি, কিংবা নির্দল। সবাই এবার বিধানসভা ভোটের লড়াইয়ে শামিল। ফলে উত্তর দিনাজপুর জেলার ন’টি বিধানসভা আসনের জন্য মনোনয়ন জমা দেওয়া প্রার্থী সংখ্যা গিয়ে দাঁড়িয়েছে ১৩০।
এই প্রার্থী তালিকা বিশ্লেষণ করে দেখা যাচ্ছে, এবার করণদিঘি আসনে সবথেকে বেশি প্রার্থী মনোনয়ন জমা দিয়েছেন। এখানে বাম, কংগ্রেসে, তৃণমূল, বিজেপি প্রার্থী সহ ২৩ জন প্রার্থী প্রতিদ্বন্দ্বিতার জন্য মনোনয়ন জমা দিয়েছেন। যার মধ্যে বামফ্রন্ট, কংগ্রেস, তৃণমূল এবং বিজেপির প্রার্থী বাদ দিলে এই বিধানসভা আসনে ১৯ জন প্রার্থী আছেন। যাঁদের মধ্যে এসইউসি, ভূমিপুত্র ইউনাইটেড পার্টি, ইন্ডিয়া মজলিস এ ইত্তেহাদুল মুসলেমিন সংগঠনের প্রার্থীরা আছেন। উল্লেখযোগ্যভাবে এই আসনে নির্দল তিন প্রার্থীর সঙ্গে বাম, তৃণমূল, বিজেপি প্রার্থীদের নাম এবং পদবীর হুবহু মিল রয়েছে।
প্রশাসনের স্ক্রুটিনিপর্বে করণদিঘি আসনে ৭ জনের মনোনয়ন বাতিল হয়েছে বলে জানা গিয়েছে। এছাড়াও ইসলামপুর আসনে ১ টি, গোয়ালপোখরে ১ টি, হেমতাবাদ ১ টি, কালিয়াগঞ্জ আসনে ২ টি মনোনয়ন বাতিল হয়েছে বলে জেলা প্রশাসন সূত্রে জানা গিয়েছে। বাদবাকি সবকটি রাজনৈতিক দল এবং সংগঠনের বেশিরভাগ প্রার্থীর দাবি, ভোটে তাঁরাই জিতবেন। যদিও সাংগঠনিক দক্ষতা, জনসংযোগের উপর রাজনৈতিক দলের প্রার্থীদের জয় পরাজয় নির্ভর করবে। সেদিক থেকে বিজেপির দাবি, সংগঠন ব্যাপক সক্রিয়। বিজেপির জেলা সভাপতি নিমাই কবিরাজ বলেন, এবার ব্যাপক জয়ের লক্ষ্যেই আমরা এগচ্ছি। অন্যদিকে, জোরালো দাবি তৃণমূলেরও। তৃণমূলের জেলা সভাপতি কানাইয়ালাল আগরওয়াল বলছেন, আমাদের প্রার্থীরাই বিগত বছরের কাজের নিরিখে জয়যুক্ত হবেন। বামফ্রন্ট, কংগ্রেসের মতো দলগুলিও জয়ের ব্যাপারে আশাবাদী।
জেলা প্রশাসন সূত্রে খবর, চোপড়ায় মোট ৯ জন মনোনয়ন জমা দিয়েছেন। ১৩ জন ইসলামপুর আসনে। গোয়ালপোখরে ১২ জন, চাকুলিয়ায় ১৪ জন মনোনয়ন জমা দিয়েছেন। হেমতাবাদ ও কালিয়াগঞ্জে আসনের জন্য ১৫ জন করে প্রার্থী মনোনয়ন জমা দিয়েছেন। রায়গঞ্জ ১৪ এবং ইটাহারে ১৫ জন প্রার্থীর মনোনয়ন জমা পড়েছে।