


সংবাদদাতা, ইসলামপুর: ডালখোলা পুরসভার নিজস্ব তিনটি অ্যাম্বুলেন্স থাকলেও একটিও চলছে না। ভাড়া করা অ্যাম্বুলেন্স দিয়ে পরিষেবা দিচ্ছে কর্তৃপক্ষ। এতে লাভের চাইতে লোকসানই বেশি হচ্ছে বলে দাবি কর্তৃপক্ষের। এই পরিস্থিতি থেকে ঘুরে দাঁড়াতে পুর প্রশাসনের সদর্থক পদক্ষেপ নেই বলে অভিযোগ উঠেছে বিভিন্ন মহল থেকে।
পুরসভা সূত্রে খবর, নিজস্ব তিনটি অ্যাম্বুলেন্সের মধ্যে একটি বিকল। দু’টির কাগজপত্র ঠিক নেই। ইতিমধ্যে একটির কাগজপত্র ঠিক করার জন্য পরিবহণ দপ্তরে যোগাযোগ করা হয়েছিল। কিন্তু তাতে প্রায় ৮০ হাজার টাকা খরচ দেখে পিছিয়ে গিয়েছে পুর কর্তৃপক্ষ।
পুর চেয়ারম্যান তনয় দে বলেন, এগজিকিউটিভ অফিসার পুরসভা অফিসে বসছেন না। অ্যাম্বুলেন্স বিষয়ে পদক্ষেপ নিতে এগজিকিউটিভের সঙ্গে আলোচনা করে সিদ্ধান্ত নিলে ভালো হয়। কারণ, এখানে টাকা খরচের ব্যাপার রয়েছে।
পুরসভার নিজস্ব অ্যাম্বুলেন্সগুলি মেরামত করা হবে কি না,কাগজপত্র ঠিক করা হবে কি না, সেবিষয়েও স্পষ্ট কিছু জানাতে পারছে না পুরসভা। চেয়ারম্যানের কথায়, আমরা এখন কিছুই করতে পারছি না। তবে এই বিষয়ে শীঘ্রই পদক্ষেপ করা হবে।ডালখোলায় সরকারি স্বাস্থ্য পরিষেবা পেতে ভরসা একমাত্র একটি প্রাথমিক স্বাস্থ্য কেন্দ্র। সেখান থেকে বেশিরভাগ রোগীকে রেফার করা হয়। শহর থেকে প্রায় ৭০ কিমি দূরে ইসলামপুর মহকুমা হাসপাতাল কিংবা প্রায় ৬০ কিমি দূরে রায়গঞ্জ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নিয়ে যেতে হয় রোগীকে। প্রাইভেট গাড়ি কিংবা অ্যাম্বুলেন্সে অনেক খরচ। সরকারি অ্যাম্বুলেন্সে সেই খরচ অনেক কম। পুরসভার তিনটি অ্যাম্বুলেন্স বর্তমানে বসে আছে। তাই বাধ্য হয়ে প্রাইভেট অ্যাম্বুলেন্সে করেই রোগীকে মহকুমা হাসপাতাল কিংবা মেডিকেলে নিয়ে যেতে হয় পরিজনদের। এজন্য হাজার হাজার টাকা খরচ করতে হয়।
পুরসভার ভাইস চেয়ারম্যান ফিরোজ আহমেদ বলেন, এনবিএসটিসির একটি অ্যাম্বুলেন্স পুরসভাকে ভাড়ায় দিয়েছে। মাসে ৫ হাজার টাকা ভাড়া। সেই অ্যাম্বুলেন্সের মাসিক ভাড়া, চালকের খরচ, তেল খরচ বাদ দিলে লাভ কিছুই হচ্ছে না। পুরসভার অ্যাম্বুলেন্সগুলি মেরামত করে যাতে চালানো যায় সেবিষয়ে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।