Bartaman Logo
৮ অক্টোবর, ২০২৬

পুলিশের অনুমতির অপেক্ষা নয়, যন্তরমন্তর আন্দোলন নিয়ে কড়া বার্তা ককরোচদের

‘একটি দাবির সঙ্গেও আপস করব না। পুলিশের অনুমতির অপেক্ষাই বা কে করছে?’ বুধবার একথা সাফ জানিয়ে দিল ‘ককরোচ’রা।

পুলিশের অনুমতির অপেক্ষা নয়,  যন্তরমন্তর আন্দোলন নিয়ে কড়া বার্তা ককরোচদের
  • ৮ অক্টোবর, ২০২৬ ০৪:০০
Prefer us on Google

নিজস্ব প্রতিনিধি, নয়াদিল্লি: ‘একটি দাবির সঙ্গেও আপস করব না। পুলিশের অনুমতির অপেক্ষাই বা কে করছে?’ বুধবার একথা সাফ জানিয়ে দিল ‘ককরোচ’রা। তাদের স্পষ্ট দাবি, ‘জ্ঞানেশ কুমারের পদত্যাগ চাই। তাঁর বিরুদ্ধে ফৌজদারি মামলা চাই। এসআইআর বাতিল চাই। মানতে হবে।’ পাশাপাশি ককরোচ জনতা পার্টি জানিয়েছে, এসআইআর বাতিল করে ২০২৫ সালের ভোটার তালিকাকেই মান্যতা দিতে হবে। নির্বাচন কমিশনার নিয়োগ সংক্রান্ত ২০২৩ সালের যে আইন, তাও অবিলম্বে প্রত্যাহার করে নতুন নিয়ম প্রণয়ন করতে হবে। সেখানে সাধারণ মানুষের মতামতকে সবথেকে বেশি গুরুত্ব দিতে হবে। ‘ককরোচ’রা মোদি সরকারকে চ্যালেঞ্জ ছুঁড়ে জানিয়েছে, এর কোনোটির সঙ্গেই আপস করা হবে না। শনিবারের ‘যন্তরমন্তর ২.০’ কর্মসূচি নিয়ে বুধবার দিল্লি পুলিশকে ককরোচ জনতা পার্টি জানিয়ে এসেছে, ‘আন্দোলন শান্তিপূর্ণই হবে। জোর করে তাকে অশান্ত করার চেষ্টা করবেন না। আপনারা আন্দোলনকারীদের সঙ্গে সহযোগিতা করুন।’ 

Advertisement

এসআইআর প্রক্রিয়ায় কারচুপির অভিযোগ উঠেছে মুখ্য নির্বাচন কমিশনার জ্ঞানেশ কুমারের বিরুদ্ধে। তাঁর পদত্যাগের দাবিতে ইতিমধ্যেই উত্তাল হয়েছে দেশ। জেন জি তো বটেই। পথে নেমেছে বিরোধী রাজনৈতিক দলগুলিও। এই পরিস্থিতিতে আগামী শনিবার, মহালয়ায় মহাআন্দোলনের ডাক দিয়েছেন ‘ককরোচ’রা। স্বাভাবিক কারণেই ককরোচ জনতা পার্টির ১০ অক্টোবরের প্রস্তাবিত কর্মসূচিকে কেন্দ্র করে নিত্যদিন উত্তাপ বৃদ্ধি পাচ্ছে। এদিন সকালে পার্লামেন্ট স্ট্রিট থানায় যান ককরোচ জনতা পার্টির অন্যতম সদস্য সৌরভ দাস সহ জেন জির একটি বড়ো অংশ। সৌরভ বলেন, ‘আন্দোলন কর্মসূচি সম্পর্কে পুলিশকে অবগত করা আমাদের দায়িত্বের মধ্যে পড়ে। আমরা সেটিই করেছি। আমরা যে পুলিশকে এব্যাপারে অবগত করেছি, তা পুলিশ অ্যাকনলেজ করেছে এবং আমাদের 
একটি রিসিভড কপি দিয়েছে।’ কিন্তু ১০ অক্টোবরের কর্মসূচি নিয়ে পুলিশ তো কোনো অনুমতি 
দেয়নি? কার্যত চ্যালেঞ্জ ছুঁড়ে সৌরভ পাল্টা প্রশ্ন করেছেন, ‘ওদের কাছ থেকে অনুমতির জন্য কে অপেক্ষা করছে? আন্দোলন তো হচ্ছেই। এবার তল্পিতল্পা বেঁধে জ্ঞানেশ কুমারকে পাততাড়ি গোটাতে হবে।’ শনিবার ঠিক কতটা ঝাঁজ নিয়ে ‘ককরোচ’রা দিল্লিতে আন্দোলন শুরু করতে চলেছে, তা 
এমন মন্তব্যেই স্পষ্ট। আজ, বৃহস্পতিবার থেকে বেঙ্গালুরুর ফ্রিডম পার্কে শুরু হচ্ছে ককরোচ জনতা পার্টির আন্দোলন।  তাৎপর্যপূর্ণ বিষয়, ১০ অক্টোবরের আন্দোলন কর্মসূচিতে যোগ দেওয়ার জন্য বুধবারই সমস্ত ধর্মনিরপেক্ষ এবং গণতান্ত্রিক ছাত্র সংগঠনের কাছে চিঠি পাঠিয়েছে বামেরা। ওইদিন বামপন্থী ছাত্র সংগঠনগুলি একই দাবিতে পৃথক বিক্ষোভ কর্মসূচিতে শামিল হবে। ঘটনাচক্রে এদিনই এসআইআর ইস্যুতে উল্লেখযোগ্য বিবৃতি দিয়েছে মোদি সরকারের বিরোধিতায় সর্বভারতীয় কৃষক সংগঠনগুলির সম্মিলিত মঞ্চ, সংযুক্ত কিষান মোর্চা। সুপ্রিম কোর্টের কাছে ওই সংগঠন আর্জি জানিয়েছে যাতে, অবিলম্বে বিহার, কেরল, তামিলনাড়ু, অসম, পুদুচেরি এবং পশ্চিমবঙ্গের সাম্প্রতিক বিধানসভা নির্বাচনকে বাতিল ঘোষণা করা হয়। কারণ ওইসব রাজ্যের সাম্প্রতিক বিধানসভা নির্বাচন হয়েছে সেই এসআইআর তালিকার উপর ভিত্তি করে, যেখানে খোদ মুখ্য নির্বাচন কমিশনার জ্ঞানেশ কুমার ব্যাপক কারচুপি করেছেন বলে অভিযোগ উঠেছে। এহেন দাবি যোগ করছে নতুন মাত্রা।

Advertisement
সম্পর্কিত সংবাদ