Bartaman Logo
৯ জুন, ২০২৬
বর্তমান / রাজ্য

বৃষ্টির কোনও দেখাই নেই , রোদে কাহিল অবস্থা সব্জির

বৃষ্টির কোনও দেখাই নেই , রোদে কাহিল অবস্থা সব্জির
  • ১৪ মে, ২০২৫ ০৪:০০
Prefer us on Google

সংবাদদাতা, বহরমপুর: বৃষ্টির অভাবে ধুঁকছে সব্জি চাষের জমি। শুষ্ক আবহাওয়া ও প্রখর তাপে বেগুন, পটল, করলা, ভেণ্ডি সহ একাধিক সব্জির উৎপাদন কমেছে। তীব্র গরমে ফল নষ্ট হয়ে যাচ্ছে। চাতক পাখির মতো এখন আকাশের দিকেই চেয়ে রয়েছেন জেলার সব্জি চাষিরা। অধিকাংশ এলাকায় চাষিরা দু’বেলা সাবমার্সিবল চালিয়ে জলসেচ করে সব্জি বাঁচিয়ে রাখার মরিয়া প্রচেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছেন। পাশাপাশি রোগ পোকার আক্রমণ ঠেকাতে কার্যত চাষিদের নাজেহাল অবস্থা দাঁড়িয়েছে। চাষিদের দাবি, এই উত্তাপ আর কিছুদিন চললে গাছ ঝলসে যাবে। কোনও ফসলই রক্ষা পাবে না। রোগ প্রতিরোধে সব্জি চাষে খরচাও বাড়ছে।

Advertisement

বৃষ্টিতে কৃপণ আকাশ। আকাশে বৃষ্টির মেঘ জমলেও কার্যত বৃষ্টির দেখা নেই। জেলাবাসী আকাশের দিকে চেয়ে হতাশ হয়ে পড়ছেন। পাশাপাশি তীব্র গরমে মানুষ হাঁসফাঁস করছেন। কার্যত অনাবৃষ্টির কারণে সব থেকে বেশি বেকায়দায় পড়েছেন সব্জি চাষিরা। একটানা দশদিনের বেশি বৃষ্টি না হওয়ায় সব্জির জমি শুকোচ্ছে। চাষিদের দাবি, বেগুন সহ পটল, করলা গাছের পাতা হলুদ হয়ে যাচ্ছে। অকালে পেকে ফল নষ্ট হয়ে যাচ্ছে। সাবমার্সিবল চালিয়ে দু’বেলা  সেচ দিয়ে জলের সমস্যা মেটানো গেলেও প্রখর উত্তাপ থেকে গাছ বাঁচাতে পারছেন না চাষিরা। বেগুন চাষিদের দাবি, তাপে গাছের পাতা হলুদ হয়ে যাওয়ায় উৎপাদন কমেছে। বেগুনের বৃদ্ধি ব্যাহত হচ্ছে। বড়ঞা ব্লকের পারশালিকার রবীন্দ্রনাথ ঘোষ দু’বিঘা জমিতে বেগুন চাষ করেছেন। তিনি বলেন, বেগুন গাছে ডগা ছিদ্রকারী ও ফল ছিদ্রকারী পোকার আক্রমণ বেড়েছে। পাশাপাশি সাদা মাছির উপদ্রবও চরমে। রোগ পোকা ঠেকাতে সকাল বিকেল দু’বেলা কীটনাশক স্প্রে করতে হচ্ছে। তাতে চাষের খরচা অনেকটা বাড়ছে।
পটল, করলা চাষিরাও একইরকম সমস্যায় পড়েছেন। চাষিদের দাবি, ছোট আকারেই ফল অকালে পেকে গিয়ে ঝরে যাচ্ছে। রোদে ঝলসে গিয়ে গাছ সবুজ রং হারাচ্ছে। দু’বেলা জলসেচ দিয়েও গাছ সতেজ রাখা যাচ্ছে না। সারগাছি এলাকার পটল চাষি আল্লারাখা শেখ বলেন, বাজারে পটলের ভালো দাম রয়েছে। কিন্তু গরমের দাপটে ফলন কমে গিয়েছে। ফলে লাভের অঙ্কও তলানিতে এসে ঠেকেছে। এই পরিস্থিতিতে আকাশের বৃষ্টি এবং ঠান্ডা আবহাওয়াই গাছ বাঁচাতে পারে।
বেশ কয়েকদিন থেকেই বিকেলের দিকে আকাশে কালো মেঘের সঞ্চার হচ্ছে। সোমবার বেলডাঙা-২ ব্লক এলাকায় ঝড়বৃষ্টি হলেও বেলডাঙা-১ ব্লক ও জেলার বাকি অংশে বৃষ্টির ছিটেফোঁটা প্রভাবও পড়েনি। মঙ্গলবার দুপুর থেকে আকাশে মেঘ জমতে দেখে আশায় বুক বাঁধতে শুরু করেছেন চাষিরা।

Advertisement
সম্পর্কিত সংবাদ