টোটো-ভোগান্তি নেই, ভিআইপি দাপট উধাও! সপ্তমীর ভিড়েও স্বস্তি হাওড়া শহরে
  • ১৮ অক্টোবর, ২০২৬ ০৪:০০
Prefer us on Google

নিজস্ব প্রতিনিধি, হাওড়া: সপ্তমীর বিকাল থেকেই হাওড়ার রাজপথে জনজোয়ার। হাওড়া ময়দান থেকে সালকিয়া, শিবপুর থেকে আন্দুল রোড- সন্ধ্যা নামতেই দর্শনার্থীদের ঢল উপচে পড়ে মণ্ডপে মণ্ডপে। তবে এত ভিড়ের মধ্যেও এবার তেমন বিশৃঙ্খলার ছবি দেখা গেল না। জিটি রোডে টোটো চলাচলে নিষেধাজ্ঞা এবং বড় পুজোগুলিতে পৃথক ভিআইপি প্রবেশপথ না থাকায় অনেকটাই স্বস্তিতে সাধারণ মানুষ। যদিও সন্ধ্যার মুখে আচমকা বৃষ্টি ও ঝোড়ো হাওয়া সাময়িকভাবে পুজোর আনন্দে একটু ঘাটতি এনে দেয়।

Advertisement

ষষ্ঠীতে শহরের রাস্তায় তুলনায় ভিড় কম থাকলেও সপ্তমীর বিকাল গড়াতেই বদলে যায় ছবিটা। সালকিয়া, শ্রীরাম ঢ্যাং রোড, নেতাজি সুভাষ রোড, আন্দুল রোড, মন্দিরতলা-সহ বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ রাস্তার দু’ধারে মানুষের ঢল নামে। ড্রেনেজ ক্যানাল রোড, ক্যারি রোড, পঞ্চাননতলা রোড এবং বেনারস রোডেও ভিড় ছিল চোখে পড়ার মতো। পুজোর মরশুমে শহরের এই রাস্তাগুলিতে যান চলাচল ও দর্শনার্থীদের ভিড় সামলানো বরাবরই চ্যালেঞ্জের। তার উপর জিটি রোডে টোটোর দাপটে পরিস্থিতি আরও জটিল হয়ে উঠত। এ বার সেই সমস্যা অনেকটাই এড়ানো গিয়েছে বলে মনে করছেন শহরবাসীর একাংশ। 
একই ছবি হাওড়া ময়দান চত্বরেও। মেট্রো স্টেশনে দলে দলে দর্শনার্থী ঢুকেছেন, আবার অনেকে সেখান থেকেই শহরের বিভিন্ন মণ্ডপে যাওয়ার জন্য এগিয়েছেন। ভিড় থাকলেও টোটোর জট না থাকায় যাতায়াতে স্বস্তি মিলেছে। বড় পুজো মণ্ডপগুলিতে পৃথক ভিআইপি গেট না থাকায় খুশি সাধারণ দর্শনার্থীরাও। তাঁদের বক্তব্য, আগে বিশেষ প্রবেশপথের কারণে দীর্ঘক্ষণ লাইনে দাঁড়িয়ে থাকতে হতো। এবার সেই বিভাজন না থাকায় অনেকটা নিশ্চিন্তে প্রতিমা দর্শন করা যাচ্ছে।
কিন্তু সন্ধ্যা সাতটা নাগাদ আচমকা বৃষ্টি শুরু হতেই বদলে যায় পরিস্থিতি। প্রায় ৪৫ মিনিটের প্রবল বর্ষণ ও ঝোড়ো হাওয়ায় রাস্তায় বেরনো মানুষ আশ্রয়ের খোঁজে ছোটাছুটি শুরু করেন। ছাতা ছাড়াই ঠাকুর দেখতে বেরিয়ে অনেক যুবক-যুবতীকে ভিজে একাকার হতে হয়। মন্দিরতলায় বাইকে প্রতিমা দর্শনে আসা এক যুগলের কথায়, এমন সময় বৃষ্টি শুরু হয়েছিল যে বাইক থামিয়ে কোথাও আশ্রয় নেওয়ার সুযোগও মেলেনি। ফলে পুরোপুরি ভিজেই ফিরতে হয়েছে। আচমকা বৃষ্টিতে উদ্বেগে পড়েন পুজো উদ্যোক্তারাও। চ্যাটার্জিহাট থানা এলাকার একটি বড় পুজো কমিটির উদ্যোক্তাদের কথায়, বৃষ্টিতে সব পরিকল্পনাই কার্যত ভেস্তে গেল। এখন পুজোর বাকি দিনগুলিতে আবহাওয়া কেমন থাকে, সেটাই দেখার।