নয়াদিল্লি: হিন্দু ধর্ম থেকে ইসলাম গ্রহণ করলে জাতিগত সংরক্ষণের সুবিধা মিলবে না। বৃহস্পতিবার একটি মামলায় এমনই জানাল সুপ্রিম কোর্ট। আদালতের পর্যবেক্ষণ, হিন্দু, শিখ ও বৌদ্ধ ধর্মানুসারী ছাড়া অন্য কোনো ব্যক্তিকে তফসিলি জাতিভুক্ত হিসাবে বিবেচনা করা যায় না। ধর্ম পরিবর্তনের সঙ্গে সঙ্গেই অনগ্রসর শ্রেণির তকমা শেষ হয়ে যায়। এর আগে মাদ্রাজ হাইকোর্ট রায় দিয়েছিল, ধর্মান্তরিতদের মুসলিম অনগ্রসর শ্রেণি হিসাবে বিবেচনা করা যাবে না। এদিন সেই রায়ই বহাল রাখল বিচারপতি প্রশান্ত কুমার মিশ্র ও বিচারপতি শ্রী চন্দ্রশেখরের বেঞ্চ। শীর্ষ আদালতের পর্যবেক্ষণ, আগে অনগ্রসর জাতির সদস্য ছিলেন এই যুক্তিতে নতুন ধর্মের অনগ্রসর শ্রেণিতে তাঁদের যুক্ত হওয়া যাবে না।
এই মামলার শুরু সমীর আহমেদ নামে এক ব্যক্তির আবেদন ঘিরে। ২০১৫ সালে হিন্দু থেকে মুসলিম হন সমীর। ২০১৬ সালে গেজেট বিজ্ঞপ্তির মাধ্যমে বিষয়টি নথিভুক্ত হয়। এরপরেই ‘মুসলিম লেব্বাই’ সম্প্রদায় হিসাবে নথিভুক্ত হওয়ার দাবি জানান তিনি। সেই দাবি খারিজ করে দেয় স্থানীয় প্রশাসন। মামলা গড়ায় হাইকোর্টে। এরই মধ্যে ২০২৪ সালে তামিলনাড়ু সরকার ঘোষণা করেন, ধর্ম পরিবর্তন করার পরও সংরক্ষণের সুবিধা মিলবে। তামিলনাড়ু সরকারের যুক্তি ছিল, ধর্ম পরিবর্তন করার পরও কোনো ব্যক্তির প্রতিকূল পরিস্থিতির পরিবর্তন হয় না। ২০২৬ সালে সেই সমীরের আবেদন খারিজ করে দেয় হাইকোর্ট। তামিলনাড়ু সরকারের সিদ্ধান্তকেও অসাংবিধানিক বলে রায় দেয়। সেই রায়কে চ্যালেঞ্জ করেই শীর্ষ আদালতের দ্বারস্থ হয়েছিল রাজ্য সরকার।



