অটো নেই, ভিড় বাসে নাভিশ্বাস দর্শনার্থী থেকে অফিসফেরতদের
  • ১৫ অক্টোবর, ২০২৬ ০৪:০০
Prefer us on Google

নিজস্ব প্রতিনিধি, কলকাতা: চতুর্থীর বিকালেই গড়িয়াহাট থেকে রাসবিহারী মোড় পর্যন্ত অটো চলাচল বন্ধ হয়ে গিয়েছে। ফলে, গণপরিবহণ বলতে সাধারণ মানুষের একমাত্র ভরসার জায়গা হয়ে ওঠে বাস। এদিকে, এদিন বিকাল থেকেই মেট্রোয় উপচে পড়েছে ভিড়। অগত্যা বাস ছাড়া কোথায় যাবে মানুষ? কিন্তু বাসেও কি জায়গা আছে? নেই। পুজোর শুরু থেকেই দক্ষিণ কলকাতার সাধারণ মানুষ বিপাকে পড়েছেন।

Advertisement

বহু প্রতীক্ষার পর যখন টালিগঞ্জ থেকে বিমানবন্দরগামী একটি সরকারি এসি বাস রাসবিহারী মোড়ে এসে দাঁড়াল, যেন প্রাণে বল পেলেন দীর্ঘক্ষণ দাঁড়িয়ে থাকা লোকজন। দরজা খুলতেই মুখ বের করে বাসের কনডাক্টর বললেন, ‘অরিজিনাল আধার কার্ড লাগবে মহিলাদের জন্য।’ একথা বলতেই অনেক মহিলা পিছিয়ে গেলেন। বিরক্ত হয়ে বলতে থাকলেন, ফোনে থাকলেই তো হয়! এখন এমন করছে কেন? আসলে ভিড় এড়াতেই হয়ত এই পন্থা। কিন্তু এই পদ্ধতিতে ভিড় এড়ানো যাচ্ছে না কিছুতেই। কারণ, বাস না পেয়ে রাস্তায় দাঁড়িয়ে ক্লান্ত মানুষজন ঠেলেঠুলে ভিড় বাসেই উঠে পড়ছেন। এদিকে, বেসরকারি বাসগুলির হাল আরও করুণ। সেখানে যাত্রীরা গেটে বাদুড়ঝোলা হয়ে যাচ্ছেন। রাসবিহারী মোড়ে দাঁড়িয়ে থাকা এক পুলিশ কর্মীকে এক তরুণী জিজ্ঞাসা করলেন, অটো চলছে না কেন? উত্তর এল, দুপুর তিনটের পর থেকে অটো বন্ধ। দুপুর তিনটের আগে কীরকম অবস্থা ছিল? অটো থাকলেও কি মানুষের খুব একটা সুবিধা হয়েছে? ঠাকুর দেখতে আসা এক তরুণ বলছিলেন, আমরা তো কলকাতায় প্রতিদিন আসি না। তাই খুব একটা জানি না। এদিন গড়িয়াহাট থেকে ত্রিধারা পর্যন্ত এসেছি ২০ টাকা অটোভাড়া দিয়ে। জানলে হেঁটেই চলে আসতাম। 
সন্ধ্যা যত এগিয়েছে, হয়রানি ততই বেড়েছে। অফিস ফেরত লোকজন বাসে ঝুলে ঝুলে প্রাণ হাতে নিয়ে বাড়ি ফিরেছেন। এক ব্যক্তি কালীঘাট মেট্রো স্টেশনে নেমে বললেন, মেট্রোয় যা ভিড়, এভাবে আরো দু’দিন কাটাতে হবে! এদিকে ঠাকুর দেখে যাঁরা আর পারছেন না, ক্লান্ত হয়ে রাস্তার ধারে দাঁড়িয়ে রয়েছেন, এমন কয়েকজন ভাবছিলেন উল্টোডাঙা পর্যন্ত অ্যাপ বাইক বুক করে ফিরবেন। কিন্তু এদিন সন্ধ্যায় দেশপ্রিয় পার্ক কিংবা গড়িয়াহাট থেকে অ্যাপ বাইক বা ক্যাব পাওয়াও ছিল হাতে চাঁদ পাওয়ার মতো। তার উপর ভাড়া ঊর্ধ্বমুখী। কী রকম? গড়িয়াহাট থেকে সায়েন্স সিটি যেতে অ্যাপ বাইক চাইছে ২০০ টাকা। কিন্তু মজার বিষয় হল, যাত্রীদের অভিযোগ, ২০০ টাকা দেখাচ্ছে ঠিকই। কিন্তু বাইকে চেপে গন্তব্যে যাওয়ার পরেই নির্ধারিত ভাড়া থেকে ২০ থেকে ৩০ টাকা বেশি দেখাচ্ছে। যাত্রীদের অভিযোগ, চতুর্থী থেকেই যদি এই অবস্থা হয়, তাহলে পুজোর বাকি দিনগুলি কী হবে? কসবার বাসিন্দা সুদীপ্ত সাহা বলছিলেন, আলিপুর থেকে বাড়ি ফিরতে কার্যত নাকানি চোবানি খেতে হয়েছে। এভাবে বাকি দু’দিন চললে, পুজোয় খরচ করার জন্য হাতে আর কিছু থাকবে না। সব টাকা বাড়ি ফিরতেই চলে যাবে।