নিজস্ব প্রতিনিধি, তমলুক: স্বামীর পরকীয়ার প্রতিবাদ করায় গৃহবধূকে খুনের অভিযোগ উঠল। মৃতদেহ নিয়ে বধূর শ্বশুরবাড়িতে বিক্ষোভ দেখালেন বাপেরবাড়ির লোকজন। তালাবন্ধ ঘরে ভাঙচুরও চালানো হয়। মৃতার নাম শিবানী মিদ্যা ধাড়া(২৯)। সোমবার রাতে নন্দকুমার থানার মহোদধিপুর গ্রামে ওই ঘটনায় ব্যাপক উত্তেজনা ছড়ায়। ঘটনাস্থলে নন্দকুমার থানার ওসি উজ্জ্বলকুমার নস্কর সহ পুলিস বাহিনী এলে তাদের ঘিরে বিক্ষোভ চলে। পুলিস মৃতার শ্বশুর, শাশুড়ি এবং নন্দাইকে গ্রেপ্তার করেছে। মৃতার স্বামী পলাতক। মঙ্গলবার ধৃত তিনজনকে তমলুক সিজেএম আদালতে তোলা হলে বিচারক জামিনের আবেদন খারিজ করেন। মৃতার শ্বশুর ও শাশুড়িকে সাতদিন পুলিসি হেফাজতে পাঠানো হয়েছে। নন্দাইকে ১৪দিন জেল হেফাজতে পাঠিয়েছেন বিচারক।
Advertisement
জানা গিয়েছে, ছ’বছর আগে নন্দকুমার থানার মহোদধিপুর গ্রামের রবীন্দ্রনাথ ধাড়ার সঙ্গে ওই থানার সাউতানচক গ্রামের শিবানীর বিয়ে হয়। ওই দম্পতির এক পুত্রসন্তান আছে। অভিযোগ, রবীন্দ্রনাথের সঙ্গে প্রতিবেশী এক বধূর বিবাহ বর্হিভূত সম্পর্ক রয়েছে। এনিয়ে স্বামী-স্ত্রীর মধ্যে অশান্তি হতো। একাধিকবার গ্রামে সালিশি করে মিটমাটের চেষ্টা হয়েছে। কিন্তু, পরকীয়া সম্পর্ক ঘিরে দু’জনের মধ্যে প্রায়শই ঝামেলা হতো। রবিবার ওই বধূর ঝুলন্ত দেহ উদ্ধার হয়। তাঁকে তমলুক মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হলে চিকিৎসক মৃত ঘোষণা করেন। সোমবার ওই বধূর দেহ ময়নাতদন্ত হয়। বধূকে খুনের পর ঝুলিয়ে দেওয়া হয়েছে বলে বাপেরবাড়ির লোকজন অভিযোগ করেন। বধূর গলায় ও চোয়ালে কালো দাগ রয়েছে। তাঁদের অভিযোগ, গলায় লোহার রড চেপে খুন করা হয়েছে। তারপর দেহ ঝুলিয়ে দেওয়া হয়েছে।
সোমবার সন্ধ্যায় ওই বধূর বাপেরবাড়ির লোকজন মৃতদেহ নিয়ে মহোদধিপুর গ্রামে তাঁর শ্বশুরবাড়িতে নিয়ে যান। তখন বাড়িতে তালা ঝুলিয়ে সকলেই বেপাত্তা ছিল। দেহ রেখে বধূর বাপেরবাড়ির লোকজন ও পাড়া প্রতিবেশীরা ক্ষোভে ফেটে পড়েন। তাঁরা তালা ভেঙে ভিতরে ঢোকার চেষ্টা করেন। ইট দিয়ে জানালার কাচ ভেঙে দেওয়া হয়। ঘটনায় ব্যাপক উত্তেজনা ছড়ায়। খবর পেয়ে নন্দকুমার থানার পুলিস ঘটনাস্থলে পৌঁছয়। নিহত বধূর দাদা বলরাম মিদ্যা বলেন, গত ছ’বছর ধরে আমার বোন শ্বশুরবাড়িতে অত্যাচারিত ও লাঞ্ছিত হয়েছে। জামাইয়ের সঙ্গে প্রতিবেশী এক বধূর অবৈধ সম্পর্ক রয়েছে। সেই সম্পর্কের জন্য প্রায়ই ঝামেলা হতো। বোন প্রতিবাদ করলে আমাদের বাড়ি থেকে টাকা আনার জন্য চাপ দিত। এভাবে দিনের পর দিন আমার বোনকে ব্ল্যাকমেল করা হতো। একাধিকবার গ্রামে সালিশি সভা হয়েছে। আমরা বোনের শ্বশুরবাড়িতে এসে মিটমাটের চেষ্টা করেছি। কিন্তু, ওরা বোনকে খুন করে দেবে ভাবতে পারিনি। এই ঘটনায় বোনের স্বামী, শ্বশুর, শাশুড়ি, ননদ এবং নন্দাই সকলেই জড়িত। আমরা প্রত্যেকের কঠোর শাস্তি চাই। সকলের বিরুদ্ধে থানায় খুনের মামলা দায়ের করা হয়েছে। নন্দকুমার থানার ওসি উজ্জ্বল নস্কর বলেন, ওই ঘটনায় তিনজনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। শ্বশুর, শাশুড়িকে হেফাজতে নেওয়া হয়েছে। বাকি অভিযুক্তদেরও গ্রেপ্তার করা হবে।



