নিজস্ব প্রতিনিধি, কলকাতা: বেতন নামমাত্র। সর্বদা রাস্তায় কাজ করলেও দুর্ঘটনাজনিত বিমা নেই। নেই মেডিক্লেমও। দুর্ঘটনায় মৃত্যু হলে মৃতের পরিবার সামান্য সুযোগ সুবিধাটুকুও পায় না। সবমিলিয়ে বিধাননগর কমিশনারেটে এনকেডিএ’র অধীনে কর্মরত প্রায় ২০ ট্রাফিক সুপারভাইজার ও ১৪৭ সিভিক ভলান্টিয়ার চরম নিরাপত্তাহীনতায় রয়েছেন বলে অভিযোগ করেছেন।
তাঁদের বক্তব্য, বিধাননগর কমিশনারেটের অধীনে তাঁরা কাজ করেন কিন্তু তাঁদের বেতন দেয় এনকেডিএ। কমিশনারেট সিভিকদের মাইনে বাড়িয়েছে। কিন্তু এনকেডিএ বেতন বাড়ায়নি সুপারভাইজারদের। তাঁদের অভিযোগ, ১৩ বছরের চাকরিজীবনে মাত্র একবার বেড়েছিল। এখন মাস মাইনে পেতে ১৯ বা ২০ তারিখ হয়ে যায়। বার্ষিক ইনক্রিমেন্ট হয় না। এই মূল্যবৃদ্ধির বাজারে সংসার চালানো প্রায় অসম্ভব হয়ে উঠেছে।
নিউটাউনের ট্র্যাফিক সুপারভাইজার ও ভলান্টিয়ারদের দাবি, রাজ্যের সিভিক ভলান্টিয়ারদের ক্ষেত্রে যে ধরনের আর্থিক সুবিধা দেওয়া বা বেতন পুনর্বিন্যাস হয় তাঁদের ক্ষেত্রেও সে বিষয়গুলি বিবেচনা করা হোক। এছাড়া ইপিএফ, মেডিক্লেম, দুর্ঘটনাজনিত বিমা, অবসরকালীন সুবিধা এবং সাপ্তাহিক ছুটির ব্যবস্থা করুক কর্তৃপক্ষ। তাঁরা জানান, ২০১৮ সালে বইমেলায় ডিউটি করতে যাওয়ার পথে সুমিত সেন বারাসতে দুর্ঘটনার শিকার হয়েছিলেন। তারপর তিনি স্বাভাবিকভাবে চলাফেরা করতে অক্ষম। এর পাশাপাশি মর্মান্তিক দুর্ঘটনার শিকার হন দেবদুলাল রায়। ২০২৪ সালে ডিউটিতে যাওয়ার পথে রাজারহাটে তাঁর দুর্ঘটনা ঘটে। মৃত্যু হয়। তাঁর পরিবার যথেষ্ট আর্থিক সহায়তা বা ক্ষতিপূরণ পায়নি। ট্রাফিক সুপারভাইজার শ্রীদীপ কর, সোমনাথ মিত্র, কৌশিক কুণ্ডু, সৌমিত্র মণ্ডল, রূপা সরকারদের অভিযোগ, ‘তাঁদের নিজেদের বাইক ব্যবহার করে ডিউটি করতে হয়। মাসে সামান্য তেল দেয় কর্তৃপক্ষ। এর বাইরে বাইকের চাকা বা যন্ত্রাংশ খারাপ হলে বা সার্ভিসিং করাতে, কিংবা বিমা ইত্যাদি খরচ নিজেকেই বহন করতে হয়। তাঁরা সাপ্তাহিক ছুটি পর্যন্ত পান না।’ ভলান্টিয়ারদের দাবি, ‘দুর্ঘটনাজনিত বিমা, মেডিক্লেম, অবসরকালীন সুবিধা, ইপিএফ, নিয়মিত বেতন বৃদ্ধি, সাপ্তাহিক ছুটি ইত্যাদির ব্যবস্থা করা হোক।’
তাঁদের বক্তব্য, ‘শহরের রাস্তায় যানজট সামলাতে, দুর্ঘটনার সময় ছুটে যেতে, রোদ-বৃষ্টি উপেক্ষা করে ঘণ্টার পর ঘণ্টা দাঁড়িয়ে থাকতে হয়। ভিআইপি মুভমেন্ট থেকে উৎসব, বইমেলা থেকে পুজো, গুরুত্বপূর্ণ সরকারি অনুষ্ঠান ইত্যাদি সব ক্ষেত্রে ট্রাফিক ব্যবস্থা সামলান তাঁরা। অথচ সেই কর্মীদের নিজেদের ভবিষ্যৎ সবচেয়ে অনিশ্চিত। এই ব্যবস্থা অবিলম্বে পাল্টানো দরকার।’