পাটনা: মহারাষ্ট্রের প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী একনাথ সিন্ধের মতোই অবস্থা হবে নীতীশ কুমারের? চলতি বছরের শেষেই বিহারে বিধানসভা ভোট। সেখানে এনডিএ জিতলে মুখ্যমন্ত্রীর কুর্সি হারাতে হবে নীতীশকে? হরিয়ানার মুখ্যমন্ত্রী নায়েব সিং সাইনির মন্তব্য এমনই জল্পনা উস্কে দিয়েছে। গত রবিবার দিল্লিতে একটি অনুষ্ঠানে সাইনি বলেছেন, ‘সম্রাট চৌধুরীর নেতৃত্বে আমরা (বিজেপি) বিহারে বিজয় পতাকা উত্তোলন করব।’ মঞ্চে বিহারের উপ মুখ্যমন্ত্রী সম্রাটকে পাশে নিয়ে সাইনির এই মন্তব্য জোর শোরগোল শুরু হয়েছে। প্রশ্ন উঠেছে, এনডিএ ভোটে জিতলে বিহারের মুখ্যমন্ত্রী হবেন বিজেপির সম্রাট? এই পরিস্থিতিতে ড্যামেজ কন্ট্রোলে নামতে হয়েছে স্বয়ং সম্রাটকে। সোমবার তিনি বলেছেন, ‘নীতীশের নেতৃত্বেই এনডিএ ফের বিহারে ক্ষমতায় আসবে।’ একই সুর শোনা গিয়েছে রাজ্য বিজেপির সভাপতি দিলীপ জয়সওয়ালের গলাতেও।
যদিও এতে চিঁড়ে ভেজেনি। বিরোধীরা ২০২৪ সালের মহারাষ্ট্র ভোটের প্রসঙ্গ তুলে খোঁচা দিচ্ছেন। মহারাষ্ট্রে ভোটে জেতার পর উপ মুখ্যমন্ত্রী দেবেন্দ্র ফড়নবীশকেই মুখ্যমন্ত্রী বেছে নিয়েছিল বিজেপি। ডেপুটির কাছে কুর্সি হারাতে হয়েছিল শরিক শিবসেনা (সিন্ধে) নেতা সিন্ধেকে। বিরোধীদের দাবি, ভোটের আগেই নীতীশকে কোণঠাসা করতে চাইছে বিজেপি। অস্বস্তিতে পড়ে বিষয়টিকে খাটো করে দেখাতে চেয়েছে নীতীশের দল জেডিইউ। দলের মুখপাত্র নীরজ কুমার বলেছেন, ‘সাইনিজি যাঁর প্রসঙ্গে এই মন্তব্য করেছেন, তিনি (সম্রাট) নিজেও বলছেন, বিহারের ভোটে নীতীশের নেতৃত্বেই লড়াই করবে এনডিএ। অমিত শাহও একই কথা বলছেন। অন্য কারও বক্তব্যের কোনও গুরুত্ব নেই।’
এনডিএ শিবিরের এই টানাপোড়েনের মধ্যে মুখ খুলেছেন বিরোধী দলনেতা তেজস্বী যাদব। আসন্ন ভোটে আসনরফা নিয়ে আলোচনা করতে আজ মঙ্গলবার বৈঠকে বসছে আরজেডি ও কংগ্রেস। তার আগে আরজেডি নেতা তেজস্বীর কটাক্ষ, ওদের নিজেদের মধ্যেই লড়াই শুরু হয়ে গিয়েছে। তবে রাজ্যের মানুষ আর এনডিএর পুরনো গাড়িতে চড়বেন না। মহাজোটই সরকার গঠন করবে।