


কাজল মণ্ডল, ইসলামপুর: ‘বিদ্রোহী’ তকমা নিজেই সেঁটে নিয়েছিলেন ইসলামপুরের বিদায়ী বিধায়ক আব্দুল করিম চৌধুরী। সেই বিদ্রোহী সত্ত্বা কি এখনও জিইয়ে রাখবেন? এটিই এখন ইসলামপুরের রাজনীতিতে লাখ টাকার প্রশ্ন হয়ে উঠেছে।
রাজনৈতিক মহলের মতে, ১১ বার বিধায়ক নির্বাচিত হওয়ার পরেও এবার করিম সাহেবকে প্রার্থী করেনি তৃণমূল কংগ্রেস। দলের মধ্যেই করিম প্রতিপক্ষ হিসেবে পরিচিত কানাইয়ালাল আগরওয়ালকে দল প্রার্থী ঘোষণা করেছে। কানাইয়াবাবু প্রচারও শুরু করে দিয়েছেন। কিন্তু করিম সাহেবকে ইসলামপুরে দেখা যাচ্ছে না। ঘনিষ্ঠ মহল সূত্রে জানা গিয়েছে, তিনি কলকাতায় ঘাঁটি গেড়ে আছেন। এর আগে একাধিকবার দলের সিদ্ধান্তের বিরুদ্ধে আন্দোলন করেছেন। নেতৃত্বের কড়া ভাষায় সমালোচনা করতেও পিছুপা হতেন না। তিনি নিজেকে দলের বিদ্রোহী বিধায়ক বলে ঘোষণা করেছিলেন। কিন্তু এবার টিকিট না পাওয়ার পরেও এখনও নীরবতা ভাঙেননি। এই নীরবতা কি ঝড়ের পূর্বাভাস?
এনিয়ে রাজনৈতিক মহলে নানা জল্পনা ছড়িয়েছে। একাংশ বলছে, চৌধুরী সাহেব নির্দল প্রার্থী হতে পরেন। কেউ কেউ বলছেন, অন্যান্য রাজনৈতিক দল করিম সাহেবের সঙ্গে যোগাযোগ শুরু করেছে। একাংশ বলছে, তৃণমূলের শীর্ষ নেতৃত্ব করিম সাহেবের সঙ্গে যোগাযোগ করছে। নির্বাচনের পরে বড় কোনো পদে বসানোর সম্ভাবনার প্রতিশ্রুতিও উড়িয়ে দিচ্ছে না। তবে এখনও কোনো বিষয় পরিষ্কার নয়।
করিম সাহেবের নিজস্ব ভোটব্যাংক আছে। নির্দল কিংবা অন্য কোনো দল থেকে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করলে তৃণমূল প্রার্থীর কাছে বিষফোঁড়ার মতো পরিস্থিতি তৈরি হবে। সেক্ষেত্রে লড়াই সহজ হবে না। তাই তাঁকে হাতছাড়া করার ঝুঁকি তৃণমূল নেবে না। তেমনি বিরোধীরাও কাছে টানার চেষ্টা করতে পারে।
এদিকে প্রার্থী ঘোষণার পর এলাকায় না থাকা কিংবা প্রতিক্রিয়া না মেলায় অনুগামীদের মধ্যে উৎকণ্ঠা ছড়িয়েছে। তাঁরা দলের সিদ্ধান্তে ক্ষুব্ধ। গোটা বিষয়ে করিম সাহেবের ভূমিকা কী হবে? কোন পথে হাঁটবেন করিম, সেদিকেই তাকিয়ে আছেন অনুগামীরা।
দু’দিন থেকে একাধিকবার ফোন করা হলেও করিম চৌধুরী ফোন তোলেননি। ফলে প্রতিক্রিয়া পাওয়া যায়নি। মেসেজেরও উত্তর দেননি। কানাইয়ালাল আগরওয়াল অবশ্য ঐক্যের বার্তা দিয়েছেন। তিনি আগেই বলেছেন, করিম সাহেব তৃণমূল দল করেন। আমাদের কোনো দ্বন্দ্ব নেই। আমরা একজেট হয়ে নির্বাচন করব।