সংবাদদাতা, গঙ্গারামপুর: কুশকারীর বাড়িতে বসে মজিবুর রহমান ও তাঁর স্ত্রীকে দীর্ঘক্ষণ জিজ্ঞাসাবাদ চালাল এনআইএ। জামাতুল মুজাহিদিন বাংলাদেশ জেএমবি ও অসম মডিউলের সদস্যদের সঙ্গে যোগাযোগের সূত্র ধরে তদন্তে নেমেছে কেন্দ্রীয় তদন্তকারী সংস্থা। তদন্তকারী সূত্রের দাবি, সমাজমাধ্যমে বিভিন্ন গ্রুপের সঙ্গে যোগাযোগের মাধ্যমে নিষিদ্ধ সংগঠনের সদস্যদের সঙ্গে ঘনিষ্ঠতা তৈরি হয় মজিবুরের। তবে জিজ্ঞাসাবাদে উঠে আসা তথ্য নিয়ে এনআইএর কোনো আধিকারিক মুখ খোলেননি। এদিন রাতেই বিশেষ আদালতে মজিবুরকে তোলা হয়। বিচারক পাঁচদিনের ট্রানজিট রিমান্ডে তাকে অসমে নিয়ে যাওয়ার আরজি মঞ্জুর করেন।
বৃহস্পতিবার রাতে বিহারের একটি গোপন আস্তানা থেকে মজিবুর ও তাঁর স্ত্রীকে আটক করে গঙ্গারামপুরের মহকুমা পুলিশ আধিকারিক শুভতোষ সরকারের নেতৃত্বাধীন বিশেষ দল। পরে তাঁদের বংশীহারি থানায় নিয়ে আসা হয়। শনিবার অসমের গুয়াহাটি থেকে এনআইএর তিন সদস্যের দল কুশকারীতে মজিবুরের বাড়িতে পৌঁছে জিজ্ঞাসাবাদ শুরু করেন। বাড়িটি ঘিরে রাখে বিশাল পুলিশ বাহিনী।
তদন্তকারী সূত্রের খবর, পড়াশুনোর সময় সমাজমাধ্যমে বিভিন্ন গ্রুপের সঙ্গে যুক্ত হয়েছিলেন মজিবুর। সেখান থেকে জেএমবি ও অসম মডিউলের কয়েকজন সদস্যের সঙ্গে তাঁর ঘনিষ্ঠতা তৈরি হয়। গত জানুয়ারিতে অসমে তাঁর বিরুদ্ধে জঙ্গিযোগের মামলা হওয়ার পর বাড়ি ছেড়ে পালিয়ে যান তিনি। পরে দিল্লিতে এক পরিচিত মহিলার সঙ্গে আত্মগোপন করেন ও তাঁকে বিয়ে করেন বলে সূত্রের খবর। ওই মহিলার ভূমিকা ও সংগঠনের কার্যকলাপ সম্পর্কে তাঁর কতটা ধারণা ছিল তা খতিয়ে দেখছেন তদন্তকারীরা।
প্রায় ১০ দিন আগে এনআইএ-র দল মজিবুরের বাড়িতে গিয়েছিল। তখন তাঁর বাবা মিজানুর রহমান ছেলের সঙ্গে যোগাযোগের কথা অস্বীকার করেন বলে সূত্রের খবর। পরে ছেলের অবস্থান সম্পর্কে তথ্য পাওয়ার পর বিহারে অভিযান চালিয়ে দু’জনকে আটক করা হয় বলে দাবি তদন্তকারীদের। এদিকে, বাড়িতে জিজ্ঞাসাবাদের সময় তদন্ত সংক্রান্ত কিছু নথি পাশের বাড়ি থেকে আনা হয় বলে স্থানীয় সূত্রে জানা গিয়েছে।
শনিবার চার ঘণ্টারও বেশি সময় ধরে জিজ্ঞাসাবাদের পর মজিবুরকে গ্রেপ্তার করে বংশীহারি থানায় নিয়ে যায় এনআইএ। তাঁর ল্যাপটপ ও মোবাইল ফোন বাজেয়াপ্ত করার বিষয়টি তদন্তের আওতায় রয়েছে। এলাকায় কেন্দ্রীয় বাহিনী মোতায়েন থাকায় কুশকারীতে চাপা উত্তেজনা ছড়ায়। রবিবার গঙ্গারামপুর মহকুমা আদালতে মজিবুরকে পেশ করে নিজেদের হেফাজতে নেওয়ার আবেদন জানাতে পারে এনআইএ। এরপর তাঁকে অসমে নিয়ে গিয়ে জিজ্ঞাসাবাদের পরিকল্পনা রয়েছে বলে সূত্রের খবর।
জেলা পুলিশের এক আধিকারিক জানান, অসম থেকে আসা এনআইএ দল অভিযুক্তের বাড়িতে জিজ্ঞাসাবাদ চালিয়ে তাঁকে গ্রেপ্তার করেছে। তদন্তে কেন্দ্রীয় সংস্থাকে প্রয়োজনীয় সহযোগিতা করছে জেলা পুলিশ।মজিবুরের বাবা মিজানুর রহমান বলেন, আমার ছেলেকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। তাকে মূলস্রোতে ফেরানোর একটা সুযোগ দিক প্রশাসন।



