সংবাদদাতা, রামপুরহাট: নলহাটি ও রামপুরহাটের একাধিক স্থানে টানা অভিযান চালাল কেন্দ্রীয় তদন্তকারী সংস্থা এনআইএ। মঙ্গলবার দিনভর চলা এই অভিযানে নলহাটির বাহাদুরপুর গ্রাম থেকে দুই পাথর ব্যবসায়ীকে আটক করে জিজ্ঞাসাবাদ করা হয় এবং পরবর্তীতে তাঁদের নির্দিষ্ট দিনে এনআইএ হেড কোয়ার্টারে হাজিরার নোটিস দিয়ে ছেড়ে দেওয়া হয়। এর পাশাপাশি রামপুরহাট পুরসভার ১৭ নম্বর ওয়ার্ডে এক বিস্ফোরক ব্যবসায়ীর বাড়িতে প্রায় সাড়ে তিন ঘণ্টা তল্লাশি চালান তদন্তকারীরা।
পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা গিয়েছে, কয়েক মাস আগে নলহাটিতে একটি বাইক থেকে প্রচুর পরিমাণ বিস্ফোরক উদ্ধার করেছিল পুলিশ। ঘটনায় গ্রেপ্তার করা হয় রামপুরহাটের রদিপুর গ্রামের বাসিন্দা বাইক চালক চাঁদ লেটকে। পরবর্তীতে এই ঘটনার তদন্তভার যায় এনআইএ-র হাতে। সেই তদন্তের সূত্র ধরেই মঙ্গলবার সকালে নলহাটি পাথর শিল্পাঞ্চলের বাহাদুরপুর গ্রামে হানা দেন আধিকারিকরা। সেখান থেকে দুই পাথর ব্যবসায়ীকে আটক করা হয়। জিজ্ঞাসাবাদ শেষে নোটিস ধরিয়ে তাঁদের ছেড়ে দেওয়া হয়।
অন্যদিকে, মঙ্গলবার সন্ধ্যা সাড়ে সাতটা নাগাদ রামপুরহাট পুরসভার ১৭ নম্বর ওয়ার্ডের বিস্ফোরক ব্যবসায়ী রাহুল শেখের বাড়িতে হানা দেয় এনআইএ-র দল। রাত ১১টা পর্যন্ত সেখানে দীর্ঘ তল্লাশি ও লাইসেন্স পরীক্ষা করেন আধিকারিকরা।
অভিযান প্রসঙ্গে ব্যবসায়ী রাহুল শেখ বলেন, আমি তিন বছর ধরে ঝাড়খণ্ড ও ওড়িশায় অ্যামোনিয়াম নাইট্রেট সরবরাহের ব্যবসা করছি। এনআইএ আধিকারিকরা এসে নিয়মমাফিক লাইসেন্স ও কাগজপত্র পরীক্ষা করেছেন। আমরা বৈধ ব্যবসা করি। কিন্তু অনেকে অবৈধ বিস্ফোরকের কারবার করলেও তাদের বিরুদ্ধে কোনো ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে না। রাহুলের বাবা সমীর শেখও জানান, অবৈধভাবে অনেক বিস্ফোরক কারবার চলছে। এগুলি চলছে কীভাবে, সেটা জানার জন্যই তদন্ত করছে এনআইএ। আধিকারিকদের সমস্ত কাগজপত্র দেখানো হয়েছে এবং তাঁরা সেগুলির প্রিন্ট আউট নিয়ে গিয়েছেন। যদিও স্থানীয় সূত্রের দাবি, এর আগে বিস্ফোরক সংক্রান্ত বিষয়ে গ্রেপ্তার হয়েছিলেন সমীর।
উল্লেখ্য, এর আগে গত ২৫ জুলাই বাহাদুরপুর ও কালীপুর গ্রামের মধ্যবর্তী একটি গুদাম থেকে প্রচুর বিস্ফোরক উদ্ধার করেছিল এনআইএ। সে সময়ে হরিওকা গ্রামের মহম্মদ রাকিব শেখকে গ্রেপ্তার করা হয়। সম্প্রতি এনআইএ-র হাতে গ্রেপ্তার হয়েছে সফিউল শেখ, সুরেশ সরেন ও মোতাহার খান নামের আরও তিন অবৈধ বিস্ফোরক কারবারি। এবার বাহাদুরপুরের দুই ব্যবসায়ীকে নোটিস এবং রামপুরহাটে তল্লাশির এই ঘটনায় সমগ্র শিল্পাঞ্চল জুড়ে তীব্র চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে।