সোমেন পাল, গঙ্গরামপুর: নিষিদ্ধ জঙ্গি সংগঠন জামাতুল মুজাহিদিন বাংলাদেশ (জেএমবি) সঙ্গে যোগের অভিযোগে পলাতক মজিবুর রহমানের খোঁজে বংশীহারিতে অভিযান চালাল জাতীয় তদন্তকারী সংস্থা এনআইএ। কাকভোরে পাঁচ সদস্যের এনআইএর তদন্তকারী দল বংশীহারি থানার বিশাল পুলিশ বাহিনীকে সঙ্গে নিয়ে কুশকারী গ্রামে মজিবুরের বাড়িতে পৌঁছয়। বাড়ির মালিক তথা মজিবুরের বাবা মিজানুর রহমানকে ডেকে তুলে দীর্ঘক্ষণ জিজ্ঞাসাবাদের পাশাপাশি বাড়িতে তল্লাশি চালানো হয়। মজিবুরের ঘরে বিভিন্ন নথি ও ডিজিটাল সামগ্রী খতিয়ে দেখেন তদন্তকারীরা বলে জানা গিয়েছে।
পুলিশ সূত্রে জানা গিয়েছে, পরিবারের দুই সদস্যকে আলাদা করে প্রায় পাঁচ ঘণ্টা ধরে জিজ্ঞাসাবাদ করেন এনআইএ আধিকারিকরা। মজিবুরের গতিবিধি, যোগাযোগ ও অনলাইনে তার কার্যকলাপ সম্পর্কে পরিবারের কাছ থেকে একাধিক তথ্য সংগ্রহ করা হয়। তল্লাশি ও জিজ্ঞাসাবাদ শেষে তদন্তকারী দল এলাকা ছাড়ে। ঘটনায় কুশকারী গ্রাম থেকে গোটা জেলা জুড়ে চাঞ্চল্য ছড়িয়েছে।
পরিবার সূত্রে জানা গিয়েছে, বছর আঠাশের মজিবুর রহমান বিএসসি পাশ করার পর সিভিল সার্ভিস পরীক্ষার প্রস্তুতি নিচ্ছিলেন। পরিবারের দাবি, পড়াশোনার পাশাপাশি দীর্ঘ সময় নিজের ঘরে অনলাইনে থাকতেন তিনি। স্থানীয়দের দাবি, মজিবুর অত্যন্ত মেধাবী ও শান্ত স্বভাবের ছিলেন। পাড়ায় কারুর সঙ্গে বিশেষ মেলামেশা করতেন না।
হরিরামপুর থানার পুলিশ সূত্রে জানা গিয়েছে, চলতি বছরের জানুয়ারি মাসে অসম পুলিশ মজিবুরের বিরুদ্ধে জঙ্গি যোগের অভিযোগে মামলা দায়ের করে।
তদন্তকারীদের দাবি, তিনি জেএমবির অসম মডিউলের সঙ্গে যুক্ত ছিলেন। মামলার খবর রাজ্যে পৌঁছনোর পর হরিরামপুর থানার পুলিশ তার বাড়িতে পৌঁছয়। তবে পুলিশের আসার বিষয়টি আঁচ করে মজিবুর আগেই বাড়ি ছেড়ে চলে যান বলে জানা গিয়েছে। প্রায় ৯ মাস ধরে তিনি নিখোঁজ রয়েছেন।
তদন্তকারী সূত্রের দাবি, মজিবুর সংগঠনের সদস্য সংগ্রহ, মতাদর্শ প্রচার ও নেটওয়ার্ক বিস্তারের মতো কাজে যুক্ত ছিলেন। তার একাধিক মোবাইল ফোন ও একাধিক ব্যাংক অ্যাকাউন্ট ও ইউপিআই আইডি থাকার তথ্য তদন্তে উঠে এসেছে।
মজিবুরের বাবা মিজানুর রহমান বলেন, প্রায় ন’মাস ধরে ছেলে বাড়িতে নেই। পুলিশ আসার পর থেকেই সে আর ফেরেনি। আমার ছেলে জঙ্গি সংগঠনের সঙ্গে যুক্ত এটা আমরা মানতে পারছি না। পড়াশোনা আর ধর্মচর্চা নিয়ে নিজের ঘরে থাকত। এনআইএ এসে ছেলের বিষয়ে জানতে চেয়েছে। কিছু নথিতে সই করিয়েছে।