নিজস্ব প্রতিনিধি, শিলিগুড়ি: পর্যটনের ভরা মরশুম। পাহাড়মুখী পর্যটকরা। তাই বিভিন্ন মহলের আপত্তিতে সিকিম, কালিম্পংয়ের লাইফ লাইন ১০ নম্বর জাতীয় সড়ক বন্ধ রাখার সময়সীমা পরিবর্তন করল ন্যাশনাল হাইওয়ে অ্যান্ড ইনফ্রাস্ট্রাকচার ডেভেলপমেন্ট কর্পোরেশন (এনএইচআইডিসিএল)। তারা সন্ধ্যা ৭টার পরিবর্তে রাত ৯টায় বন্ধ করবে জাতীয় সড়কের দু’টি জায়গা, ২৯ মাইল ও রবিঝোরা। কারণ, বিপজ্জনক সংশ্লিষ্ট দু’টি অংশে সংস্কার কাজ হবে। এজন্যই প্রথম পর্যায়ে আগামী বুধবার থেকে ১৫ অক্টোবর পর্যন্ত রাতভর সংশ্লিষ্ট সড়ক বন্ধ থাকবে। পুজোর মুখে এনিয়ে রীতিমতো উদ্বিগ্ন পর্যটন ব্যবসায়ীরা। তাঁরা গভীর রাতে কিংবা পর্যটন ব্যবসার অফ সিজেনে ওই কাজ করার দাবি তুলেছেন।
কালিম্পংয়ের জেলাশাসক কুহুক ভূষণ বলেন, পুলিশের রিপোর্ট অনুসারে এনএইচআইডিসিএল মেরামোতির জন্য রাস্তা বন্ধ রাখার সময় সন্ধ্যা ৭টার পরিবর্তে রাত ৯টা করেছে। এনিয়ে কারও আপত্তি থাকলে প্রশাসনের কাছে জানাবেন। তা নিয়ে এনএইচআইডিসিএলের সঙ্গে আলোচনা করা হবে।
শিলিগুড়ির সঙ্গে কালিম্পং ও প্রতিবেশী রাজ্য সিকিমের সরাসরি সংযোগ রক্ষা করেছে ১০ নম্বর জাতীয় সড়ক। এজন্যই এই জাতীয় সড়ক কালিম্পং ও সিকিমের লাইন লাইন হিসাবে পরিচিত। এই সড়কের সেভক থেকে রংপো পর্যন্ত অংশ কালিম্পং জেলার অধীনে। এর একদিকে পাহাড়। আরএকদিকে তিস্তা নদী। ধস ও তিস্তা নদীর থাবায় রাস্তাটির ২৯ মাইল ও রবিঝোরা অংশ বিধ্বস্ত। ওই দু’টি এলাকায় সংস্কারে উদ্যোগী হয়েছে এনএইচআইডিসিএল।
প্রশাসন ও স্থানীয় সূত্রে খবর, ওই দু’টি জায়গার একাংশ নদীর খাদের দিকে ধসে গিয়েছে। সেখানে রাস্তা অনেকটাই সংকীর্ণ। আবার আরএক জায়গায় পাহাড়ের উঁচু অংশ থেকে মঝেমধ্যেই পাথর, নুড়ি, মাটি, গাছ পড়ছে। তাই বিপজ্জনক জায়গা দু’টিতে ঢাল সুরক্ষা ও ধস প্রতিরোধের কাজ করা হবে। এজন্যই বুধবার থেকে ১৫ অক্টোবর পর্যন্ত রাতভর যান নিয়ন্ত্রণ করা হবে। রাত ৯টা থেকে সকাল ৬টা পর্যন্ত বন্ধ থাকবে যান চলাচল। একইভাবে ২৬ অক্টোবর থেকে ৫ নভেম্বর পর্যন্ত রাস্তাটি বন্ধ করা হবে।
প্রশাসনের একাংশ জানান, ওই কাজ পাহাড়ের ধারে হবে। তাই দিনে যান চলাচল স্বাভাবিক থাকলেও রাতে রাস্তাটি পুরোপুরি বন্ধ রাখা হচ্ছে। শ্রমিকদের নিরাপত্তা ও কাজ দ্রুত শেষ করার জন্যই এমন পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে।
এনিয়ে হিমালয়ান হসপিটালিটি অ্যান্ড ট্যুরিজম ডেভেলপমেন্ট নেটওয়ার্কের সাধারণ সম্পাদক তন্ময় গোস্বামী বলেন, ওই রাস্তার কাজ নিয়ে আপত্তি নেই। কিন্তু, এখন পর্যটনের ভরা মরশুম। তাই ওই কাজ গভীর রাতে করলে পর্যটক সহ ট্যুর অপারেটর, গাইড, হোটেল ও হোমস্টে মালিক, গাড়ি চালক সকলের সুবিধা হয়। কিংবা রাস্তার কাজটি অফ সিজেনে করলে আরও ভালো হয়। এই প্রস্তাব এনএইচআইডিসিএল’কে দেওয়া হয়েছে।