


উনিশ শতক যেন বাঙালির কাছে দীর্ঘ নিদ্রার পর জাগরণের পালা। একই সময়ে এত মনীষীর উত্থান এর আগে বা পরে আর কখনও আমাদের ভাগ্যে ঘটেছে বলে মনে হয় না। আরও একবার আমরা ফিরে তাকাব আমাদের অতীতের সবচেয়ে গৌরবময় অধ্যায়ের দিকে।
রাজা ভট্টাচার্য: ‘প্যারী! ও প্যারী!’ আধো ঘুমের মধ্যে প্যারীচাঁদ শুনতে পাচ্ছিলেন, কেউ ঊর্ধ্বশ্বাসে তাঁর নাম ধরে চিৎকার করে চলেছে। কিছুক্ষণের জন্য তাঁর মনে হল, তিনি স্বপ্ন দেখছেন।
একটু পরেই অবশ্য তাঁর ঘুম পুরোপুরি ভেঙে গেল। এইবার আর বুঝতে অসুবিধা হল না, বাইরে থেকে যে গলাটা ভেসে আসছে, সেটা তাঁর চেনা।
রাধানাথ এত ভোরে তাঁকে ডাকাডাকি করছেন কেন? কোনও বিপদ-আপদ ঘটে গেল না তো?
যত তাড়াতাড়ি সম্ভব একটা চাদর গায়ে জড়িয়ে সদর দরজা খুলে বাইরে এসে দাঁড়ালেন প্যারীচাঁদ মিত্র। সত্যিই রাধানাথ দাঁড়িয়ে রয়েছেন বাড়ির সামনের রাস্তায়। এই ভোরবেলাতেও তাঁর পরনে পুরোপুরি সাহেব পোশাক। উদ্বিগ্ন প্যারীচাঁদ জিজ্ঞাসা করলেন,‘কী হয়েছে, রাধা? এত সকালে এমনভাবে? বাড়িতে সকলে সুস্থ আছে তো?’
রাধানাথ একগাল হেসে বললেন, ‘আমার বাড়িতে আবার আমি ছাড়া আছে কে? আর আমি যে বেশ সুস্থ আছি, সে তো দেখেই বুঝতে পারছ।’
‘তাহলে এমন চিৎকার করছিলে কেন? আমি তো ভাবলাম বাড়িতে ডাকাত পড়েছে!’
‘আর ডাকাত এসে তোমার নাম ধরে ডাকছে! এই বুদ্ধি নিয়ে তুমি মাসিক পত্রিকা বের করছ?’
প্যারীচাঁদ হেসে ফেলে বললেন, ‘আগে ভিতরে এসো। আজকাল সকালে আমি এক কাপ চা খাই। তুমি খাবে?’
রাধানাথ এসব শিষ্টাচারের তোয়াক্কা না করে বললেন, ‘ওসব পরে হবে। আগে বল দেখি, এবারের পত্রিকা পড়ে তোমার স্ত্রী কী বললেন?’
এইবার প্যারীচাঁদ হা হা করে হেসে উঠলেন, ‘একথা জানার জন্য তুমি সাত-সকালে এসে গৃহস্থের বাড়িতে হানা দিয়েছ?’
রাধানাথ ব্যস্ত গলায় বললেন, ‘না না, হাসির কথা নয়! ওইটে আগে জানা দরকার। বাড়ির মহিলারা যদি বুঝতে না পারেন, তবে সে ছাই ভাষা দিয়ে কী হবে?’
আবার হাসলেন প্যারীচাঁদ। তারপর বন্ধুকে নিশ্চিন্ত করার জন্য বললেন, ‘কাল রাতেই পুরো পত্রিকা তার পড়া হয়ে গিয়েছে। খুব খুশি।’
‘তার মানে সবটা বুঝতে পেরেছে বল?’ এইবার রাধানাথের মুখ উজ্জ্বল হয়ে উঠল, ‘আমি তো তোমাকে বারবার বলেছি, বাড়ির মহিলারা যদি কোনও ভাষা পড়ে সম্পূর্ণ বুঝতে না পারেন, তাহলে বুঝতে হবে সেই ভাষা সর্বত্রগামী হচ্ছে না। বিদ্যাচর্চা কি কেবল পুরুষের একচেটিয়া সম্পত্তি নাকি? মহিলারা সমাজের অর্ধাংশ। তাদের শিক্ষিত করে না তুললে গোটা সমাজ পিছিয়ে পড়ে। একটা কথা মনে রেখ প্যারী। শিক্ষিত মায়ের সন্তান কক্ষনও নিরক্ষর হয় না।’
প্রায় স্নেহের দৃষ্টিতে বন্ধুটির দিকে তাকিয়ে রইলেন প্যারীচাঁদ মিত্র। রাধানাথ শিকদার তাঁর একেবারে ছেলেবেলার বন্ধু। দীর্ঘদিন দু’জনে হিন্দু কলেজে একসঙ্গে পড়াশোনা করেছেন। অঙ্কে তার মতো তুখোড় গোটা স্কুলে আর কেউ ছিল না। এমনি তো আর ডক্টর টাইটলার রাধাকে এত ভালোবাসতেন না! অর্থাভাবের কারণে ফার্স্ট ক্লাসে পড়ার সময়ই রাধানাথকে চাকরি নিতে হয়েছিল জি টি সার্ভে অফিসে। এই অফিসের কাজেই তাঁকে চলে যেতে হয় ভারতের উত্তর-পশ্চিমাঞ্চলে। জীবনের বেশিরভাগ সময়টা রাধানাথ সেখানেই কাটিয়েছেন, আর এমন একটি অমর কীর্তি স্থাপন করে এসেছেন, যার কোনও তুলনা হয় না। ‘পিক ফিফটিন’ যে পৃথিবীর সবচেয়ে উঁচু পাহাড়চূড়া, সেটা তিনিই অঙ্ক কষে বের করেছিলেন। এখন সেটার নাম মাউন্ট এভারেস্ট। এই নামটা দেওয়ার পেছনেও রাধানাথেরই বুদ্ধি আছে। প্রাক্তন সার্ভেয়ার জেনারেল জর্জ এভারেস্টের নামটা রাধানাথই আগ বাড়িয়ে প্রস্তাব করেছিলেন, যাতে আর কেউ পৃথিবীর সর্বোচ্চ পর্বতশৃঙ্গের নাম কুইন ভিক্টোরিয়ার নামে না দিয়ে দেয়।
হাতমুখ ধুয়ে ফিরে এসে প্যারীচাঁদ দেখলেন, ইতিমধ্যে রাধানাথ সদ্য-প্রকাশিত ‘মাসিক পত্রিকা’র পাতায় ডুব দিয়েছেন। দীর্ঘদিন উত্তর-পশ্চিমে থাকার ফলে রাধানাথ বাংলা প্রায় ভুলে গিয়েছিলেন, স্পষ্ট হিন্দি টানে ইংরেজি মিশিয়ে বাংলা বলতেন। অথচ গত বছর অবসর নিয়ে ফিরে আসার পর থেকে সেই রাধানাথই উঠে পড়ে লেগেছেন এমন একটা বাংলা গদ্য ভাষা তৈরি করতে, যা মহিলারাও পড়লে বুঝতে পারবেন। বিদ্যাসাগরের তৈরি সংস্কৃত-ঘেঁষা বাংলা গদ্য ভাষা তাঁর দু’চক্ষের বিষ। অবসরের কয়েক দিন পরেই একদিন একটা বিচিত্র প্রস্তাব নিয়ে প্যারীচাঁদের বাড়িতে চলে এসেছিলেন রাধানাথ। বলেছিলেন, ‘এখন তো আর হাতে কোনও কাজ নেই। চল ভাই, দু’জনে মিলে এমন একটা পত্রিকা তৈরি করব, যা বাড়ির মহিলারা পাঠ করবেন। তাঁরা যদি পিছিয়ে পড়েন, তাহলে সমাজ কোনওদিন উন্নতি করতে পারবে না। জ্ঞানের ভাগ তাঁদের দেওয়া চাই। আর তার জন্য চাই এমন সহজ সরল ভাষা, যা তাঁরাও বুঝতে পারেন।’
মাসিক পত্রিকা আজ সত্যই ঘরে ঘরে ছড়িয়ে পড়েছে। এর পাঠক মূলত মহিলারা। রাধানাথ নিজে লেখালেখির বিষয়ে মোটেই পটু নন। কিন্তু প্যারীচাঁদকে তিনি ক্রমাগত উৎসাহ দিয়ে চলেছেন। আর তারই ফল হিসেবে এই সংখ্যা থেকে প্যারীচাঁদ লিখতে শুরু করেছেন একটি অদ্ভুত রচনা। তার নাম দেওয়া হয়েছে ‘আলালের ঘরের দুলাল’। ঠিক এই ধরনের কিছু এর আগে বাংলা ভাষায় লেখা হয়নি। কতটা ইংরেজি নভেলের ধাঁচে লেখাটাকে সাজিয়েছেন প্যারীচাঁদ। সেটা নিয়েই আসলে রাধানাথের এত উৎকণ্ঠা, যে কারণে তিনি ভোরবেলায় ছুটে এসেছেন বন্ধুর বাড়িতে।
এক কাপ চা হাতে নিয়ে আরাম করে বসলেন প্যারীচাঁদ। তারপর জিজ্ঞাসা করলেন, ‘একটা কথা বল দেখি রাধা। সকলেই আজ বিদ্যাসাগর মশাইয়ের ভাষার অনুগামী। তোমার হঠাৎ এমন উল্টো-বুদ্ধি হল কেন?’
হাতের পত্রিকাটি টেবিলের উপর নামিয়ে রেখে মৃদু হাসলেন রাধানাথ। তারপর বললেন, ‘জানোই তো ভাই, আমার বরাবর উল্টো বুদ্ধি। জরিমানা দিয়েও এই রোগ সারেনি।’
এই খবরটি প্যারীচাঁদের কাছেও নতুন। তিনি অবাক হয়ে বললেন, ‘অত বড় চাকরি করতে তুমি! তোমাকে আবার জরিমানা করল কে?’
রাধানাথ বললেন, ‘ওই যে বললাম— উল্টো বুদ্ধি! একবার দেরাদুনে থাকতে খোদ ম্যাজিস্ট্রেটের সঙ্গে লড়াই লাগিয়ে দিয়েছিলাম।’
‘বল কী হে! এই গল্প তো শুনিনি!’ সাগ্রহে একটু এগিয়ে বসলেন প্যারীচাঁদ।
রাধানাথের চোখ অন্যমনস্ক হয়ে গেল, যেন তিনি কলকাতার ঘরটিতে বসেই দেখতে পাচ্ছেন দেরাদুনের সেই উন্মুক্ত আকাশ, প্রকাণ্ড উপত্যকা আর দিগন্ত জুড়ে ভেসে থাকা বরফে-ঢাকা পাহাড়চূড়া। তাঁর মনে পড়ে যাচ্ছে সেই বিচিত্র ঘটনা।
‘সেদিনও রোজকার মতো অফিসে বসে কাজ করছি, বুঝলে। তখন জিওলজিক্যাল সার্ভের হিসেব-নিকেশের সব দায়িত্বই আমার ঘাড়ে।’
‘পাহাড়ের উচ্চতার হিসেব নিশ্চয়?’
‘হ্যাঁ। পাহাড়ে উঠে তো আর পাহাড়টাকে মাপা যায় না। যন্ত্রপাতি দিয়ে মাপজোক করতে হয়, তারপর ঘরে বসে সেই মাপের ভিত্তিতে হিসেব। তা একদিন অমন কাজ চলছে, এমন সময় আমার সহকারী ছুটে এসে বললে— ভ্যানসিটার্ট সাহেব সার্ভে অফিসের কয়েকজন কুলিকে আর্দালি পাঠিয়ে তুলিয়ে নিয়ে গেছেন।’
‘সে কী হে! কেন?’
‘কিছু ভারী মাল বয়ে নিয়ে যেতে হবে পাহাড়ি পথে।’
‘এই ভ্যানসিটার্ট সাহেবই কি ম্যাজিস্ট্রেট ছিলেন?’ জিজ্ঞাসা করলেন প্যারীচাঁদ।
‘ঠিক ধরেছ। সেই কথা শুনে আমার বেজায় খারাপ লাগল। এরা কেউ কেউ কালা আদমিকে মানুষ বলেই মনে করে না, সে আমি ভালো মতোই জানি। কিন্তু এইভাবে আমাকে না জানিয়ে সাহেব আমার লোকদের তুলে নিয়ে যায় কোন সাহসে?’
‘বটেই তো!’
‘তার চাইতেও বড় কথা, আমার সহকারী পরিষ্কার বললে— যে সব মালপত্র সাহেব তাদের দিয়ে বওয়াবে বলে ঠিক করেছেন, সেই মাল তোলা মানুষের সাধ্যের বাইরে।’
‘এ কী অন্যায় কথা! গাড়িতে বা ঘোড়ার পিঠে...’
‘সেটাই তো! আমি একেবারে খেপে গেলাম, বুঝলে! সোজা বেরিয়ে এসে সাহেবের আর্দালিদের ডেকে বললাম, আমি কুলিদের পাঠাব না। একজনও যাবে না। এদের নিয়ে যেতে হলে খোদ ম্যাজিস্ট্রেট সাহেব যেন লিখিত পরোয়ানা পাঠান। রিটন অর্ডার।’
‘বাপ রে! বলে দিলে?’
‘একদম! তারা কুলি। ঘোড়া নয়, মানুষ।’
প্যারীচাঁদ সহর্ষে বললেন, ‘শাবাশ! তারপর? ম্যাজিস্ট্রেট সাহেব তো নির্ঘাত আরও লাল
হয়ে গেলেন?’
রাধানাথ হাসলেন, ‘গেলেন বইকি! সোজা আমার নামে কমপ্লেন করে পাঠালেন— আমি সরকারি কাজে বাধাদান করছি।’
‘কিন্তু ইনিই তো ম্যাজিস্ট্রেট! বিচার হল কোথায়?’
‘এদের তো আবার এসব গুণ বিলক্ষণ আছে। আর এক সিভিলিয়ানের কাছে আমাদের পাঠানো হল। সেখানেই আমার বিচার হল। সকলেই পরামর্শ দিল— আমি যেন ম্যাজিস্ট্রেট সাহেবের কাছে ক্ষমা চেয়ে নিই। হাজার হলেও জেলার দণ্ডমুণ্ডের কর্তা। আমি সোজা উড়িয়ে দিলাম।’
‘এই জন্যই তুমি তখন বলছিলে, খোদ ম্যাজিস্ট্রেট সাহেবের সঙ্গেই লড়াই লাগিয়ে দিয়েছিলে। এবার বুঝেছি।’ ‘শেষমেষ বিচারে আমার দুশো টাকা জরিমানা হল।’
‘দুশো টাকা!’ সত্যি সত্যিই আঁতকে উঠলেন প্যারীচাঁদ, ‘দুশো টাকায় কলকাতায় একটা জমি কেনা যায়, রাধা!’ ‘দিয়ে দিলাম জরিমানা। কিন্তু সেই সিভিলিয়ানকে মুখের উপরে বললাম— কালা আদমি হলে তো আর তার কষ্ট কমে যায় না সাহেব! এই পাহাড়ি উঁচু-নিচু পথে এত ভারী মালপত্র বহন করে চলাচল করা কারও পক্ষেই সম্ভব নয়। আমি জরিমানা দিয়ে দিচ্ছি বটে, কিন্তু তাতে অন্যায়টা ন্যায্য হয়ে যাচ্ছে না।’
‘শুনে সেই সিভিলিয়ান কী বললেন?’
‘ওদের তো জানো। স্বজাতির সামনে এসব কথার উত্তর দেয় না। আমি অবশ্য খবর পাচ্ছিলাম, ভিতরে ভিতরে গরিব কুলিদের এভাবে কষ্টসাধ্য কাজে বাধ্য করার ব্যাপারে রীতিমতো ঝড় উঠে গিয়েছে।’
‘আচ্ছা। তার মানে কথাটি সিভিলিয়নের মনে ধরেছিল।’
‘সেটা অবশ্য ক’দিন পরেই বোঝা গেল। পরের মাসের গোড়াতে একটা নোটিশ বেরল। নোটিশ তো নয়, একেবারে অর্ডার। কুলিদের তাদের ইচ্ছার বিরুদ্ধে শ্রমসাধ্য কাজে বাধ্যতামূলকভাবে নিয়োগ করা যাবে না।’
প্যারীচাঁদ সোল্লাসে প্রায় চেঁচিয়ে উঠলেন, ‘সাধু সাধু! কত গরিব মানুষ যে তোমার কল্যাণে যন্ত্রণা থেকে বেঁচে গেল, তার ঠিক নেই। তারা নিশ্চয়ই দু’হাত তুলে তোমাকে আশীর্বাদ করেছিল।’
এতক্ষণে রাধানাথের মুখে ফুটে উঠল স্মিত হাসির রেখা। তিনি বললেন, ‘এরা সব গরিব কুলি। শিক্ষা নেই। হাতে করে মস্ত মোরগ নিয়ে চলে আসত। বলত— বাবু, খেয়ো। ব্যস। হয়ে গেল কৃতজ্ঞতা জানানো! সোজা সরল সব মানুষ।’
হেলান দিয়ে বসে সামনের দেওয়ালের দিকে শূন্যদৃষ্টিতে তাকিয়ে রইলেন রাধানাথ শিকদার। দেখলেই বোঝা যায়, এই মুহূর্তে তাঁর মন ডুবে গিয়েছে স্মৃতির অতলে। পৃথিবীর সর্বোচ্চ পর্বতশৃঙ্গকে পরিমাপ করার চাইতে ঢের প্রিয় সুখস্মৃতি তাঁর কাছে এই ঘটনাটি। একদল দরিদ্র পাহাড়ি কুলিকে সাহেবদের নির্যাতনের হাত থেকে বাঁচানো।
‘আচ্ছা থাক এসব পুরনো কথা।’ হঠাৎ বর্তমানে ফিরে এসে সোজা হয়ে বসলেন রাধানাথ, ‘‘এবার তাহলে ‘আলালের ঘরের দুলাল’-এর পরের পর্বটা লিখে ফেল প্যারী। খুব সহজ ভাষায়, এমনি করেই লিখবে, বুঝলে, যাতে একেবারে সাধারণ ঘরের মহিলারাও নিজেরাই পড়ে অর্থ উদ্ধার করতে পারেন।’’
মুগ্ধ চোখে ছেলেবেলার বন্ধুর দিকে তাকিয়ে রইলেন বাংলা ভাষায় লেখা প্রথম ‘উপন্যাসে’র রচয়িতা প্যারীচাঁদ মিত্র। এখন তিনি জানেন, এই স্ত্রীশিক্ষার জন্য রাধানাথের লড়াইটাও আসলে একটা প্রতিবাদ।