


সংবাদদাতা, বোলপুর: এবার থেকে বিশ্বভারতীর বয়েজ হস্টেলগুলিতে রাত করে ঢোকার দিন শেষ। নির্দিষ্ট সময়ের মধ্যে হস্টেলে ঢোকার পাশাপাশি রেজিস্টারে নাম নথিভুক্ত করা বাধ্যতামূলক করেছে কর্তৃপক্ষ। এমনটাই বিজ্ঞপ্তি মারফত জানানো হয়েছে। এতদিন এই নিয়ম ছাত্রীদের জন্যই প্রযোজ্য ছিল। তবে শৃঙ্খলা, নিরাপত্তা ও সঠিক পরিচালন ব্যবস্থার জন্যই বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রোক্টর অফিস হস্টেলে এই নিয়ম চালু করেছে বলে জানা গিয়েছে। নিয়ম কঠোর হলে বিভিন্ন হোস্টেলে বহিরাগতদের উপদ্রব কমবে বলেও মনে করছে সংশ্লিষ্ট মহল। এই সিদ্ধান্তে আবাসিক ছাত্রদের মধ্যে মিশ্র প্রতিক্রিয়া দেখা গিয়েছে।
দেশ-বিদেশের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে পড়ুয়ারা রবীন্দ্রনাথের স্মৃতিবিজড়িত শান্তিনিকেতনের ঐতিহ্যবাহী বিশ্বভারতীতে শিক্ষালাভ করতে আসেন। বিশ্বভারতীর অ্যাডমিশন প্রসপেক্টাস থেকে জানা গিয়েছে, বিশ্ববিদ্যালয়ের শান্তিনিকেতন ও শ্রীনিকেতন ক্যাম্পাসে ছাত্রীদের জন্য ১৪টি ও ছাত্রদের জন্য ১৭টি হস্টেল রয়েছে। রাত ৯টার মধ্যে হস্টেলে প্রবেশ বাধ্যতামূলক, এই নিয়ম ছাত্রীদের জন্য দীর্ঘদিন ধরেই চালু রয়েছে। তবে, ছাত্রদের জন্য তেমন কোনও নিয়ম না থাকায় সবাই ইচ্ছামতো হস্টেলে আসা-যাওয়া করত। তাই শৃঙ্খলা ও নিরাপত্তা জোরদার করতে কর্তৃপক্ষ ছাত্রদের জন্য নতুন নিয়ম জারি করেছে। বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়েছে, হস্টেলের ছেলেদের রাত সাড়ে ৯টায় নিজেদের উপস্থিতি রেজিস্টারে স্বাক্ষর করা বাধ্যতামূলক। শৃঙ্খলা, নিরাপত্তা এবং সঠিক হস্টেল ব্যবস্থাপনা নিশ্চিত করার জন্য এই নিয়ম কঠোর করা হয়েছে। স্বাক্ষরিত রিপোর্ট খতিয়ে দেখবেন এমটিএস, ওয়ার্ডেন ও সুপারভাইজার। প্রয়োজনীয় কারণে অনুপস্থিত থাকলে কর্তৃপক্ষকে আগে থেকে জানাতে হবে। বারবার অনুপস্থিত হলে শাস্তিমূলক ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
নির্দিষ্ট সময়ে ঢোকার পাশাপাশি আরও কিছু নিয়মকানুন জারি করেছে বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রোক্টর অফিস। বিশ্বভারতীর ভারপ্রাপ্ত জনসংযোগ আধিকারিক অতিগ ঘোষ বলেন, পড়ুয়াদের সুরক্ষা নিশ্চিত করা বিশ্ববিদ্যালয়ের কর্তব্য। তবে পড়ুয়াদের উচ্ছৃঙ্খল আচরণও কাম্য নয়। তাই ক্যাম্পাসের শৃঙ্খলা ফেরাতেই এই পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে। আশা করি পড়ুয়ারা সহযোগিতা করবে।