নিজস্ব প্রতিনিধি, কলকাতা: প্রতিমা নিরঞ্জনে ক্রেনের ব্যবহার যাবে না। আগেই সেই কথা ঘোষণা করেছিলেন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী। তার উপর বিভিন্ন ঘাটে প্রতিমা নিরঞ্জনে পুলিশের নানা নিয়ম-বিধি। নির্দিষ্ট সংখ্যায় ধাপে ধাপে গাড়ি ঢুকবে ঘাটে, প্রতিমা জলের কাছে নিয়ে যেতে ক্রেন বা ট্রলির ব্যবহার করা যাবে না—সব মিলিয়ে নিয়মের গেরোয় দুর্গাপুজোর ভাসানে বিভ্রাট-দুর্ভোগেরই অভিযোগ উঠল। তার উপর বৃহস্পতিবার সকাল থেকে বাবুঘাটে প্রতিমা নিরঞ্জন করা যায়নি। কারণ, চক্ররেলের গেট বন্ধ। প্রতিমা নিয়ে এসেও ঠায় দাঁড়িয়ে থাকতে হয়েছে পুজো উদ্যোক্তাদের। তা নিয়ে বাজেকদমতলায় পুলিশের সঙ্গে রীতিমতো বচসা চলে। বেলা প্রায় সাড়ে তিনটে নাগাদ রেলের গেট তোলা হলে প্রতিমা বিসর্জন-পর্ব শুরু হয় বাবুঘাটে।
প্রতিমা জল থেকে তুলতে সমস্যা হওয়ায় ক্রেনের ব্যবস্থা ছিল বাবুঘাটের বাজেকদমতলা ঘাট, নিমতলা ঘাট সহ একাধিক জায়গায়। একটা সময় আবার ক্রেন খারাপ হয়ে গিয়েছিল বলেও অভিযোগ। এদিকে রাস্তায় গাড়ি থেকে নামিয়ে গঙ্গা পর্যন্ত বড়ো প্রতিমা নিয়ে আসার জন্য বাবুঘাট কিংবা নিমতলা ঘাটে প্রমাণ সাইজের ট্রলিও রাখা ছিল। কিন্তু, সেগুলির ব্যবহার নজরে পড়েনি। এক পুজো কমিটি লোডিং গাড়ির পাটাতনে প্রতিমা উঠিয়ে নিরঞ্জনের জন্য বাবুঘাটে ঢোকাতে গেলে বাধা দেয় পুলিশ। সব প্রতিমাকেই দড়ি বেঁধে কুলিরা টেনে জলের কাছে নিয়ে গিয়েছেন। অভিযোগ, যন্ত্রের ব্যবহার না হওয়ায় প্রতিমার ভাসানের গতিও এবার শ্লথ হয়েছে। ভাসান দিতে এসে ঘণ্টার পর ঘণ্টা দাঁড়িয়ে থেকেছেন উদ্যোক্তারা। যদিও কলকাতা পুরসভার দাবি, দশমীর দিন অর্থাৎ বুধবার বিকাল থেকে বৃহস্পতিবার সকাল ৭টা পর্যন্ত শুধু বাবুঘাটেই ৫৭০টি প্রতিমা বিসর্জন হয়েছে। শহরের মোট ২০টি গঙ্গার ঘাট ও ১০১টি পুকুর মিলিয়ে দশমীতেই প্রায় ১৯০০টি ঠাকুর ভাসান দেওয়া হয়েছে। একাদশীর রাত পর্যন্ত আরও প্রায় চারশো ঠাকুর বিসর্জন হয়েছে। তবে, একটি সূত্র বলছে, গতবার শুধু দশমীতেই ২২০০ প্রতিমা নিরঞ্জন হয়েছিল।
এদিন সকালে বাবুঘাটে রেলের গেট বন্ধ থাকায় সকাল থেকে প্রতিমা নিরঞ্জন নিয়ে গোল বাঁধে। বেলেঘাটা, এন্টালির একাধিক পুজো কমিটির কর্তা প্রতিমা সাহা, সুদীপ্ত কর্মকার, নরেন মল্লিকরা বলেন, ‘কোনো বছর তো এমন দুর্ভোগ হয় না! সকাল থেকে এসে দাঁড়িয়ে। ঝামেলা করাতে অবশেষে সাড়ে তিনটে নাগাদ গেট খোলে। তারপর বড়ো বড়ো প্রতিমা নিরঞ্জন হয়েছে।’ তাহলে কি সরকারি পর্যায়ের সমন্বয়ের অভাব ছিল? পুরসভার এক কর্তা বলেন, এমনটা কেন হল বলতে পারব না। আবার রেলের দাবি, পুলিশের লিখিত চিঠি অনুসারে নিরঞ্জনের সময় চক্ররেলের গতিবিধি নিয়ন্ত্রণ করা হয়। কখন ট্রেন চলবে আর কখন চলবে না, আগেই সব ঘোষণা ছিল। এমনটা কেন হল, খতিয়ে দেখতে হবে।



