নিজস্ব প্রতিনিধি, বারাসত: সোমবার রাতে তোলাবাজির অভিযোগে আদি ও নব্য বিজেপির মারপিটে মধ্যমগ্রামের কৈপুলে তীব্র উত্তেজনা ছড়ায়। আদি বিজেপির বেশ কয়েক জন জখম হয়েছে বলে অভিযোগ। এক কর্মীর বাড়িও ভাঙচুর করা হয়। হামলা ও মারপিটের ঘটনায় যুক্ত থাকার অভিযোগে মধ্যমগ্রাম থানার পুলিশ এক বিজেপিকর্মীকে গ্রেপ্তার করেছে। বিজেপি কর্মীদের অভিযোগ, দলের কিছু নেতা তৃণমূলের লোকেদের নিয়ে এলাকায় সন্ত্রাস ও তোলাবাজি শুরু করেছে। দলের জেলা নেতৃত্ব জানিয়েছে, পুলিশ আইন মেনে পদক্ষেপ করবে।
মধ্যমগ্রাম থানার কৈপুল গ্রাম বহুল চর্চিত। বহু বছর আগে সিপিএমের হাতে এখানেই আক্রান্ত হয়েছিলেন বিজেপি নেতা তপন সিকদার। তৃণমূলের আমলে গ্রামটি তৃণমূলের দখলে ছিল। সেই অবস্থায় আশিস প্রামাণিক, দীননাথ মণ্ডলের মতো অনেকে বিজেপির ঝাণ্ডা নিয়ে রাজনীতি করেছেন। ২০২১ সালের বিধানসভা নির্বাচনের পরে তাঁরা ঘরছাড়া হয়েছিলেন।
পালাবদলের পর রাতারাতি তৃণমূলের অনেকেই জার্সি বদলে বিজেপি হয়েছেন। এখন আদি বিজেপিরা দলে ব্রাত্য বলে অভিযোগ। অভিযোগ, দলের একাংশ তৃণমূলের হামলাকারীদের সঙ্গে নিয়ে দলভারী করেছে। এরপর দেদার তোলাবাজি শুরু হয়েছে। আদি কর্মীরা প্রতিবাদ করায় তাঁদের উপর হামলা করা হচ্ছে বলে অভিযোগ। সোমবার বিকালে পুরানো কর্মী আশিসকে ঘিরে বেধড়ক মারধর করা হয় বলে অভিযোগ। দীননাথ মণ্ডলের বাড়িতেও হামলা হয়।
খবর পেয়ে মধ্যমগ্রাম থানার পুলিশ রাতে গ্রামে গিয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণ করে। একজন হামলাকারীকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। বাকিদের খোঁজে তল্লাশি চালানো হচ্ছে। আক্রান্ত আশিস প্রামাণিক বলেন, ৪ তারিখের পর বিজেপিতে আসা লোকেদের তোলাবাজির প্রতিবাদ করেছিলাম। সেজন্যই হামলা করা হয়েছে।
অপর আক্রান্ত দীননাথ মণ্ডল বলেন, এলাকার বিদ্যুৎ সংযোগ বিচ্ছিন্ন করে আমার বাড়িতে হামলা ও মারধর করা হয়েছে। বিজেপি নেতা অনিন্দ্য বন্দ্যোপাধ্যায় বলেন, কৈপুল গ্রামে বিজেপির ভালো সংগঠন ছিল না। ভোটের পর এত বিজেপি এল কোথা থেকে? বিজেপির নাম ভাঙিয়ে তোলাবাজি করলে পুলিশ কড়া ব্যবস্থা নেবে।