Bartaman Logo
৩০ জুলাই, ২০২৬

নিটের প্রশ্নফাঁস মামলা: ১৩ জনের বিরুদ্ধে চার্জশিট পেশ সিবিআইয়ের, ‘জড়িত নয় এনটিএ’

২০২৬ সালের নিট-ইউজির প্রশ্নফাঁস মামলায় ১৩ জন অভিযুক্তের বিরুদ্ধে চার্জশিট জমা দিল সিবিআই।

নিটের প্রশ্নফাঁস মামলা: ১৩ জনের বিরুদ্ধে চার্জশিট পেশ সিবিআইয়ের, ‘জড়িত নয় এনটিএ’
  • ৩০ জুলাই, ২০২৬ ০৪:০০
Prefer us on Google

নয়াদিল্লি: ২০২৬ সালের নিট-ইউজির প্রশ্নফাঁস মামলায় ১৩ জন অভিযুক্তের বিরুদ্ধে চার্জশিট জমা দিল সিবিআই। বুধবার দিল্লির রাউস অ্যাভিনিউ আদালতে বিশেষ ফাস্ট ট্র্যাক কোর্টে ওই চার্জশিট পেশ করে সিবিআইয়ের ইকোনমিক অফেন্সেস উইং। ছাত্র আন্দোলনের প্রেক্ষাপটে  কয়েকদিন আগেই প্রশ্নফাঁসে জড়িতদের কঠোর শাস্তির ব্যবস্থা করতে কিছুদিন আগেই ফাস্ট ট্র্যাক কোর্ট গঠনের ঘোষণা করেছিলেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি। 

Advertisement

এদিন সিবিআইয়ের চার্জশিটে ৩৬০ জন সাক্ষী, ৪২২টি নথি ও ৪৩টি বাজেয়াপ্ত সামগ্রীর কথা উল্লেখ করা হয়েছে।  অভিযুক্ত ১৩ জনের মধ্যে নিট আয়োজনের দায়িত্বে থাকা ন্যাশনাল টেস্টিং এজেন্সি (এনটিএ)-র জীববিদ্যা, রসায়ন ও পদার্থবিদ্যার তিন বিশেষজ্ঞের নাম রয়েছে। এছাড়া মহারাষ্ট্রের লাতুর ও পুনেরর দুটি কোচিং প্রতিষ্ঠানের কর্তার নামও চার্জশিটে উল্লেখ করা হয়েছে। বাকি অভিযুক্তরা মিডলম্যান হিসাবে কাজ করেছেন। তাঁদের মধ্যে একজন ডাক্তার।
তবে, নিটের প্রশ্নফাঁসের ক্ষেত্রে প্রাতিষ্ঠানিক দুর্নীতি হয়নি বলেই দাবি করেছে কেন্দ্রীয় তদন্তকারী সংস্থা। সিবিআই জানিয়েছে, এনটিএ এই দুর্নীতির সঙ্গে জড়িত নয়। অপরাধমূলক ষড়যন্ত্র নয়, গুরুতর পদ্ধতিগত ত্রুটি ও অসাবধানতার জন্যই প্রশ্নপত্র ফাঁস হয়ে গিয়েছিল। এই ধরনের ঘটনা এড়াতে এনটিএ’র দায়িত্বজ্ঞানহীন আধিকারিকদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া এবং সংস্থা পরিচালনায় সামগ্রিক বদলের সুপারিশ করতে পারে সিবিআই।
চার্জশিটে সিবিআই জানিয়েছে, এনটিএ সরাসরি এই দুর্নীতির সঙ্গে জড়িত না থাকলেও এই প্রশ্নফাঁস চক্র বিভিন্ন রাজ্যে ছড়িয়ে রয়েছে। এই প্রসঙ্গে অন্যতম অভিযুক্ত প্রহ্লাদ কুলকার্নির কথা উল্লেখ করেছে তারা। অবসরপ্রাপ্ত অধ্যাপক কুলকার্নি এনটিএ’র রসায়ন বিশেষজ্ঞ হিসাবে কাজ করতেন। তদন্তে উঠে এসেছে, ৫ লক্ষ টাকা পেয়ে বিশেষ কোচিং ক্লাসে কুলকার্নি রসায়নের প্রশ্নপত্র পরীক্ষার্থীদের বলে দিয়েছিলেন। এই বিষয়ে মধ্যস্থতাকারী হিসাবে কাজ করেছিলেন মনীষা ওয়াঘমারে নামে অপর অভিযুক্ত। সূত্রের খবর, তদন্তের জন্য ডিজিটাল ও ফরেনসিক প্রমাণের উপরও বিশেষ নজর দিয়েছিল সিবিআই। টেলিগ্রাম অ্যাপের সাহায্যে কীভাবে প্রশ্নপত্র পিডিএফ ফরম্যাটে দেশের বিভিন্ন প্রান্তে ছড়িয়ে দেওয়া হয়েছিল, তার সূত্র বাজেয়াপ্ত হওয়া বিভিন্ন মোবাইল ফোন থেকে উদ্ধার করা হয়েছে। এছাড়া হাতে লেখা প্রশ্নও মোবাইলে ছবি তুলে ছড়িয়ে দেওয়া হয়। ফরেনসিক পরীক্ষায় দেখা গিয়েছে, নিটের জন্য এনটিএ যে ‘মাস্টার কোয়েশ্চন সেট’ তৈরি করেছিল, তার সঙ্গে ১১১টি ফাঁস হওয়া প্রশ্ন মিলে গিয়েছে। হাতে লেখা প্রশ্নের সঙ্গে অভিযুক্তদের যোগসাজশ প্রমাণে হস্তলিপি বিশেষজ্ঞদের সাহায্যও নিচ্ছে সিবিআই।

Advertisement
সম্পর্কিত সংবাদ