নিজস্ব প্রতিনিধি, তমলুক: শ্বশুর-শাশুড়ির সঙ্গে প্রায় ছ’লক্ষ টাকা মূল্যের সোনার নেকলেস ও হার পরে একটি বিবাহবার্ষিকীর অনুষ্ঠানে যাচ্ছিলেন বধূ। হলদিয়ার ভবানীপুর থানার অধীন অশ্বত্থতলায় বাস থেকে বাড়বাজিতপুরগামী রাস্তা ধরে এগিয়ে যাচ্ছিলেন। সেইসময় আচমকা একটি বাইকে হেলমেট পরিহিত দুই যুবক এসে টেনেহিঁচড়ে বধূর গলা থেকে নেকলেস ও হার ছিনিয়ে মুহূর্তের মধ্যে উধাও হয়ে যায়। টানাহেঁচড়ার সময় রাস্তায় পড়ে গিয়ে গুরুতর জখম হন বধূ। ২০সেপ্টেম্বর রবিবারের ঘটনা। এরপর ওই বধূর একদিন চিকিৎসাধীন ছিলেন। পাশাপাশি মানসিকভাবে তিনি বিপর্যস্ত হয়ে পড়েন। তাঁর শ্বশুর কার্তিক পালের অভিযোগের ভিত্তিতে নন্দকুমার থেকে চুরি হওয়া নেকলেস ও হার উদ্ধার করল ভবানীপুর পুলিশ। ওই ঘটনায় জড়িত থাকার অভিযোগ দক্ষিণ ২৪পরগনার সাগর থেকে একজনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। জানা গিয়েছে, দক্ষিণ ২৪পরগনার ওই গ্যাং জলপথে খেয়াঘাট পেরিয়ে হলদিয়া শিল্পাঞ্চলে এসে প্রায়শই এভাবে ছিনতাই করত। ওই ঘটনার তদন্তে নেমে ভবানীপুর থানার পুলিশ দ্রুত সাফল্য পেল।
জানা গিয়েছে, সুতাহাটার বাবুপুর গ্রামের কার্তিক পাল, তাঁর স্ত্রী যমুনা পাল এবং পুত্রবধূ প্রিয়াঙ্কা পাল অশ্বত্থতলা বাসস্টপ থেকে এক আত্মীয়ের বাড়িতে যাচ্ছিলেন। সেখানে বিবাহবার্ষিকীর অনুষ্ঠান ছিল। প্রিয়াঙ্কার গলায় ৪০গ্রাম ওজনের সোনা ছিল। সেইসময় বাইকে দুই দুষ্কৃতী তাঁর সামনে গিয়ে ছিনিয়ে নেয়। রাস্তায় উপর পড়ে যান ওই যুবতী। যমুনাদেবী পুত্রবধূকে রাস্তা থেকে তুলতে ব্যস্ত হন। আর, কার্তিকবাবু দুষ্কৃতীদের পিছনে ধাওয়া করেন। কিন্তু, নিমেষে তারা চম্পট দেয়। ২২সেপ্টেম্বর এনিয়ে থানায় অভিযোগ দায়ের হয়। তারপর পুলিশ ঘটনার তদন্তে নেমে নন্দকুমারে এক কারিগরের বাড়ি থেকে চোরাই সোনা উদ্ধার করে। পাশাপাশি এক দুষ্কৃতীও ধরা পড়ে।
সম্প্রতি নোটের ভুয়ো বান্ডিল দেখিয়ে সোনার গয়না হাতানো এবং বাইকে এসে ছোঁ মেরে গয়না ছিনতাই গ্যাং দক্ষিণ ২৪পরগনা থেকে পূর্ব মেদিনীপুরে প্রায়শই হানা দিচ্ছে। পুজোর মুখে এনিয়ে সতর্ক থাকা জরুরি। গত ৮সেপ্টেম্বর পাঁশকুড়া জিআরপি স্টেশন এলাকায় নোটের ভুয়ো বান্ডিলের টোপ দিয়ে বৃদ্ধ দম্পতির ছ’লক্ষ টাকা মূল্যের সোনার গয়না হাতানোর অভিযোগ চারজনকে গ্রেপ্তার করে। বারুইপুর, মন্দিরবাজার, কুলপি এবং জয়নগর থানা এলাকা থেকে তারা পূর্ব মেদিনীপুরে এসে বয়স্ক, গ্রামীণ সাধাসিধে মহিলাদের টার্গেট করে গয়না লুট করে নিত।
কার্তিকবাবু বলেন, পুত্রবধূর ছিনতাই হওয়া গয়না উদ্ধার হয়েছে বলে শনিবার রাতে পুলিশ জানিয়েছে। আমরা একটা অনুষ্ঠানবাড়িতে যাচ্ছিলাম। এমন অবাঞ্ছিত ঘটনার মুখোমুখি হতে হবে কল্পনাও করিনি। ভবানীপুর থানার ওসি প্রসেনজিৎ বিশ্বাস বলেন, সাগর থেকে একজনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। ছিনতাই হওয়া সোনাও উদ্ধার হয়েছে। ছিনতাই করার পর ওরা খেয়াঘাট পেরিয়ে নন্দীগ্রামে পৌঁছেছিল। সেখান থেকে একজন বাইকটি নিয়ে ফেরিঘাট পেরিয়ে সাগরে ফিরে যায়। অন্যজন প্রাইভেট গাড়িতে সোনার গয়না নিয়ে নন্দকুমারে যায়। সেখানে গয়না বিক্রি করে গাঢাকা দিয়েছিল।