নিজস্ব প্রতিনিধি, নয়াদিল্লি: সংসদে সাবলীল হওয়ার চেষ্টা করছেন বিদ্রোহী তৃণমূলের ২০ সাংসদ। এতদিন তৃণমূল সাংসদদের দেখলেই তাঁদের ‘মুখ ঘুরিয়ে নেওয়া’র মতো দৃশ্য দেখা যেত। বুধবার এর পুনরাবৃত্তি হল না। বরং সৌগত রায়, মহুয়া মৈত্রদের সঙ্গে খোশগল্প করতে দেখা গেল আবু তাহের খান, খলিলুর রহমান, অসিত কুমার মাল, শতাব্দী রায়দের। যদিও উভয় পক্ষই বলছে, ‘সৌজন্য।’ গত ২০ জুলাই সংসদের বাদল অধিবেশন শুরু থেকে এতদিন এমন দৃশ্য দেখা
যায়নি। এমনকী ঘাসফুল শিবিরে ‘অপারেশন লোটাসে’র অন্যতম কাণ্ডারি অমিত শাহ ঘনিষ্ঠ কেন্দ্রীয় মন্ত্রী ভূপেন্দ্র যাদবকেও দেখা গেল মকর দ্বারের সামনে সৌগত রায়কে দেখে দাঁড়িয়ে যেতে। শুধু তাই নয়, এদিন সংসদের ক্যান্টিনেও অমিত শাহ-জেপি নাড্ডার সঙ্গে দেখা হয় সৌগতবাবুরর। একেও ‘সৌজন্য’ সাক্ষাৎই আখ্যা দিয়েছেন তৃণমূল সাংসদ।
এদিন সংসদে ভূপেন্দ্রকে দেখে সৌগতবাবু বলেন, ‘এই তো অপারেশন লোটাসের আসল লোক।’ মুচকি হেসে কেন্দ্রীয় পরিবেশ মন্ত্রী বলেন, ‘নেহি দাদা! অপারেশন লোটাস নেহি। বলুন পদ্মফুল।’ স্পষ্ট বাংলা উচ্চারণ শুনে সৌগতবাবুর মন্তব্য, আপনি তো পুরো বাংলা শিখে নিয়েছেন। ‘আপ সে হি তো শিখা। পিছলে ১০ সাল আপকা সাথ হমারা সম্বন্ধ হ্যায়।’— পালটা দিলেন ভূপেন্দ্রও। পাশে দাঁড়ানো শতাব্দীও হাসতে হাসতে খোঁচা দিয়ে বললেন, ‘সৌগতদার তো আমাকে ধন্যবাদ দেওয়া উচিত। আমি তৃণমূলের উপদলনেত্রীর পদ ছাড়লাম বলেই তো আপনি পেলেন। এত প্রবীণ হয়েও তৃণমূল কি আপনাকে সম্মান দিয়েছে?’
যদিও নতুন দল এনসিপিআই-এর সদস্যদের অস্বস্তি কাটছে না। বিশেষত, বিদ্রোহীদের এখনো তৃণমূল হিসেবে নিজেদের পরিচয় দেওয়ার বিষয়টি। প্রশ্ন-ফাঁসে শাস্তি বৃদ্ধি সংক্রান্ত সংশোধনী বিলের আলোচনায় বলার সুযোগ দেওয়া হলেও সংসদ টিভিতে শর্মিলা সরকারের নামের পাশে ভেসে উঠেছে ‘এআইটিসি’, অর্থাৎ অল ইন্ডিয়া তৃণমূল কংগ্রেস। বিষয়টি নিয়ে কটাক্ষ করতে ছাড়েননি মহুয়া মৈত্র। সোশ্যাল মিডিয়ায় লেখেন, ‘লজ্জাহীন বিশ্বাসঘাতকতার পরেও তৃণমূলের ট্যাগ ছাড়তে পারছেন না। অন্তত যতক্ষণ না অস্বীকৃতি একটি দলে যোগদান সম্পূর্ণ হচ্ছে, ততক্ষণ নিজেদের বিজেপির বি-টিম বলুন।’ বিজেপিকে সমর্থন দেব বলে বার বার জানানোর পরেও কেন তাঁদের সংসদে স্বীকৃতি মিলছে না? তা নিয়ে যতদিন যাচ্ছে বিদ্রোহী তৃণমূলিদের অন্দরেই ক্ষোভ বাড়ছে। দীপক অধিকারী (দেব) তো সংসদে আসছেনই না। তিনি বলেই দিয়েছেন, ভোটদান আবশ্যিক এমন কোনো বিল পাশের সময়ই তিনি আসবেন। সংসদে এসেও কোনো আলোচনায় অংশ না নিতে পারা, সরকার হোক বা বিরোধী, স্পষ্ট আকারে কোনো পক্ষেই যুক্ত হতে না পারায় অনেকেরই প্রশ্ন, ত্রিশঙ্কু এই অবস্থা কি ভালো লাগে!