সন্দীপন দত্ত, কোচবিহার: শুরুতেই ধাক্কা! যাত্রীর অভাবে ব্যর্থ হতে চলেছে উত্তরবঙ্গ রাষ্ট্রীয় পরিবহণ নিগমের ‘নিঝুম অরণ্যের পথে’ ট্যুর। মহালয়ার সকালে প্রথম বাসযাত্রার কথা ছিল। কিন্তু, ওই দিন হয়নি। যাত্রীর অভাবে চারদিন ধরে এনবিএসটিসির গ্যারেজেই দাঁড়িয়ে আছে বাসটি। সদ্য গেরুয়া রঙের পোচ দেওয়া বাসটিতে পড়ছে ধুলোর আস্তরণ।
এনবিএসটিসির ম্যানেজিং ডিরেক্টর অশ্বিনীকুমার রায় বলেন, যাত্রী না হলে বাস চালাই কী করে। যাত্রীর অপেক্ষায় আছি আমরা।
নিগমের এক কর্তা জানান, বাসটি সকালে কোচবিহার থেকে আলিপুরদুয়ার, রাজাভাতখাওয়া, জয়ন্তী, নিমাতি, চিলাপাতা হয়ে কোচবিহারে ফিরে আসার কথা। নিগমের পুরাতন বাসস্ট্যান্ড থেকে প্রতিদিন সকাল সাড়ে ৮টায় বাসটি ছাড়ার কথা। কিন্তু, বাসের চাকা গড়াচ্ছে না।
কোচবিহার থেকে জয়ন্তী ঘুরে চিলাপাতা হয়ে ফিরে আসার জন্য সারাদিনে ৪০ লিটার জ্বালানি প্রয়োজন। যার খরচ অন্তত চার হাজার টাকা। এরপর রাজাভাতখাওয়া গেট দিয়ে বক্সা ব্যাঘ্র প্রকল্পের জয়ন্তীতে ঢোকার জন্য আলাদা এন্ট্রি ফি আছে। যাত্রীদের মধ্যাহ্নভোজ এবং সবশেষে বিকেল চিলাপাতায় যে রাভা অথবা আদিবাসী নৃত্য পরিবেশনার বন্দোবস্ত করা হয়েছে, তারজন্য আলাদা করে আরও একটা খরচ রয়েছে। সব মিলিয়ে একদিন ভ্রমণের জন্য পাঁচ হাজার টাকার বেশি খরচ পড়বে।
এনবিএসটিসির কর্তাদের দাবি, একেবারেই যে কেউ বুকিং করছেন না, তা নয়। সারাদিনে হয়তো চার থেকে পাঁচজন যাত্রী বুকিং করছেন। অন্তত ২০ জন যাত্রী না হলে সারাদিনের খরচের টাকাই উঠবে না। সেই জায়গায় দাঁড়িয়ে লাভের আশা তো অনেক পরে।
রাজ্যে পালাবদলের পর প্রথম পুজো। এনবিএসটিসির কাছে পুজোর ভ্রমণ কোনো নতুন পরিকল্পনা নয়। আগের সরকারের আমলেও বিভিন্ন নামে পুজোর ভ্রমণ চালিয়েছে তারা। এবার পুজোর ভ্রমণের জন্য একটি ননএসি বাস গেরুয়া রং করে সাজিয়ে তোলা হয়েছে। পুজোর ভ্রমণের পোশাকি নাম দেওয়া হয়েছে, ‘নিঝুম অরণ্যের পথে’। মহালয়ার সকাল থেকে লক্ষ্মীর পুজোর পরের দিন পর্যন্ত এই পরিষেবা চালু রাখার কথা উত্তরবঙ্গ রাষ্ট্রীয় পরিবহণ নিগম জানিয়েছিল। অথচ মঙ্গলবার দুপুরে কোচবিহার শহরের সুনীতি রোডে এনবিএসটিসির গ্যারাজে বাসটি দাঁড়িয়ে থাকতে দেখা যায়। খোঁজ নিতে গিয়ে জানা যায়, নির্দিষ্ট সংখ্যক যাত্রীর অভাবে পুজোর ভ্রমণ শুরু করতেই পারেনি এনবিএসটিসি। • নিজস্ব চিত্র।



