নিজস্ব প্রতিনিধি, দক্ষিণ ২৪ পরগনা: পুজো এলেও উচ্ছ্বাস নেই। বিষাদের সুর পরিজনদের মনে। নাজিরাবাদে জোড়া গোডাউনে অগ্নিকাণ্ডের ঘটনায় আত্মীয়দের দেহাংশ না পাওয়ায় অন্তত ১০টি পরিবারের মনে একরাশ হতাশা। ১০ মাস পেরিয়ে গেলেও পুলিশ বা প্রশাসনের পক্ষ থেকে এখনও কিছু জানানো হয়নি। গোটা বাংলা যখন মা দুর্গার আগমনের অপেক্ষায়, তখন এই পরিবারগুলি চাতক পাখির মতো বসে রয়েছে প্রিয়জনদের খবরের অপেক্ষায়। আদৌ তাঁদের দেহাংশ হাতে পাবেন কি না, তা নিয়ে সংশয়ে রয়েছেন তাঁরা। তাই এই পুজো ওই পরিবারগুলির কাছে নিষ্প্রভ।
আর ন’দিন বাদেই মহালয়া। দেবীর আগমনি সুরে মাতোয়ারা হবে মানব সমাজ। নতুন পোশাক, ম্যাচিং ব্যাগ, জুতো ইত্যাদি কিনতে ভিড় দোকানগুলিতে। পুজোর গন্ধ যেন গ্রাস করেছে রাজ্যবাসীকে। একদিকে যখন এই চিত্র, তখন প্রদীপের নীচে অন্ধকারের মতো পরিস্থিতি পূর্ব মেদিনীপুরের কয়েকটি পরিবারের। কেউ হারিয়েছেন ছেলেকে, কেউ দাদাকে। নাজিরাবাদের ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ডে মৃতদের কারও দেহই পাওয়া যায়নি। মিলেছে শুধু হাড়গোড়। মৃত ২৭ জনের মধ্যে ১৭ জনের দেহাংশ ডিএনএ পরীক্ষার পর তুলে দেওয়া হয় পরিবারের হাতে। কিন্তু বাকি দশটি পরিবার এখনও অপেক্ষায়। কিছুদিন আগে দ্বিতীয়বার ওইসব পরিবারের সদস্যদের রক্তের নমুনা সংগ্রহ করা হয়েছে। ফের ডিএনএ পরীক্ষা হবে। এসব করতে করতেই দশ মাস পার। ফলে পুজোর মুখেও ভাবলেশহীন ওই পরিবারগুলির সদস্যরা। পূর্ব মেদিনীপুরের তমলুকের সালিকা গড়চক গ্রামের দেবাদিত্য দিন্দা ওই ঘটনায় প্রাণ হারিয়েছিলেন। এখনও তাঁর দেহাংশ পায়নি পরিবার। দেবাদিত্যর কাকা জন্মেঞ্জয় দিন্দা বলেন, এবারের পুজোয় আমাদের আনন্দ বলে কিছু নেই। ভাইপো নেই, বাড়িতে বিষাদের সুর। যেদিন ওই দুর্ঘটনা ঘটেছে, সেদিন থেকে ওর বাবা-মা নিরামিষ খেতে শুরু করেছেন। দেহাংশ হাতে পেলে আমরা অন্তত শেষকৃত্য করতে পারতাম। মন শান্ত হত। সেই সুযোগ হল না। গোবিন্দ মণ্ডলের পরিবারও একই অবস্থায় দিন কাটাচ্ছে। পুজো নিয়ে মাথাব্যথা তাঁদের। এই পরিবারগুলির একটাই আরজি, কবে মিলবে পরিজনের দেহাংশ!