নয়াদিল্লি: পুজোর মুখে স্বস্তি ছোটোখাটো ব্যবসায়ী, রাস্তায় পণ্য সাজিয়ে বসা বিক্রেতা ও ফেরিওয়ালাদের। উৎসবের মরশুমে তাঁদের রুজি-রোজগারে যাতে বিন্দুমাত্র আঘাত না আসে, তা নিশ্চিত করার নির্দেশ দিল জাতীয় মানবাধিকার কমিশন (এনএইচআরসি)। আসন্ন দুর্গাপুজো ও নবরাত্রি, দীপাবলি, ছটপুজোর কথা মাথায় রেখে দেশের সব রাজ্য ও কেন্দ্রশাসিত অঞ্চলকে এই নির্দেশিকা পাঠাল তারা। রাজ্যগুলির মুখ্যসচিবদের পাঠানো কমিশনের এই নির্দেশিকায় বলা হয়েছে, স্থানীয় ব্যবসায়ী, স্ট্রিট ভেন্ডর, হকারদের অযথা উৎখাত করে উৎসবের মরশুমে তাঁদের জীবিকার সুযোগ থেকে বঞ্চিত করা যাবে না। ফায়ার সেফটি ও জনসাধারণের নিরাপত্তার স্বার্থে একান্তই সরানো আবশ্যক হয়ে পড়লে তাঁদের জন্য বিক্রিবাটার উপযুক্ত বিকল্প স্থানের ব্যবস্থা করা উচিত। একইসঙ্গে মানবাধিকার কমিশনের নির্দেশ, একতরফাভাবে বিক্রেতাদের পণ্য আটক, হেনস্তা, তোলাবাজি বা তাঁদের রুজি-রোজগারের ক্ষেত্রে অপ্রয়োজনীয় হস্তক্ষেপের অভিযোগ উঠলে আইনানুগ ব্যবস্থা নিতে হবে।
এনএইচআরসি তাদের নির্দেশিকায় বলেছে, উৎখাত নয়, বরং ‘ভোকাল ফর লোকাল’ স্লোগানকে তুলে ধরতে স্থানীয় ব্যবসায়ী, ঐতিহ্যবাহী পেশায় যুক্ত ব্যক্তি ও স্থানীয় উৎপাদকদের পণ্য প্রসারের ব্যবস্থা করতে হবে। পাশাপাশি সব রাজ্যের মুখ্যসচিবকে এই নির্দেশিকা জেলাশাসক, পুর কর্তৃপক্ষ, পুলিশ ও সংশ্লিষ্ট আধিকারিকদের কাছে পাঠাতে বলা হয়েছে। নিছক খাতায় কলমে নয়, নির্দেশিকার বাস্তব প্রয়োগ নিশ্চিত করতেই কমিশনের এই পদক্ষেপ। একইসঙ্গে এনএইচআরসি বলেছে, পূর্বের বকেয়া অভিযোগগুলি নিয়ে আগামী ১৮ অক্টোবরের মধ্যে অতিরিক্ত অ্যাকশন টেকেন রিপোর্ট পেশ করতে হবে।
গত বছরও উৎসবের মরশুমে বিভিন্ন শহরে স্থানীয় ব্যবসায়ী ও হকারদের উৎখাতের অভিযোগ নিয়ে সক্রিয় হয়েছিল এনএইচআরসি। প্রিয়াঙ্ক কানুনগোর নেতৃত্বাধীন এনএইচআরসি-র বেঞ্চ সংশ্লিষ্ট রাজ্য ও স্থানীয় প্রশাসনগুলিকে নির্দেশ দিয়েছিল, অভিযোগগুলি খতিয়ে দেখে উপযুক্ত ব্যবস্থা গ্রহণ করতে হবে। দেশজুড়ে উৎসবের আবহে এবছরও বিভিন্ন জায়গা থেকে একই অভিযোগ সামনে আসায় ফের এই ইস্যুতে হস্তক্ষেপ করল কমিশন।