নিজস্ব প্রতিনিধি, তমলুক: ভোটার বাদ ইস্যুতে মুখ্য নির্বাচন কমিশনার জ্ঞানেশ কুমারের ভূমিকা নিয়ে উত্তাল দেশ। এসআইআর পরবর্তী ট্রাইবুনালে ভোটারদের ভবিষ্যৎ এখনও ঝুলে। পূর্ব মেদিনীপুর জেলায় এরকম ৪১হাজার লোকের নাম রয়েছে। তারমধ্যে নন্দীগ্রাম বিধানসভায় সংখ্যাটা প্রায় তিন হাজার। উপ নির্বাচনের প্রাক্কালে অবিলম্বে ভোটার হিসেবে স্বীকৃতির দাবি তুললেন নন্দীগ্রামের মহম্মদপুর, সামসাবাদ, কালীচরণপুর, কেন্দামারি-জালপাই, দাউদপুর সহ বিস্তীর্ণ এলাকার বাদপড়া লোকজন। তাঁদের বক্তব্য, এসআইআর নিয়ে কমিশনের উদ্দেশ্য মহৎ ছিল না। বিজেপিকে সুবিধা পাইয়ে দেওয়াই ছিল উদ্দেশ্য। বিষয়টি ফাঁস হয়ে গিয়েছে। তাই ট্রাইবুনালে ঝুলে থাকা ভোটারদের ভোটাধিকার ফিরিয়ে কেন্দ্রীয় নির্বাচন কমিশন খানিকটা প্রায়শ্চিত্ত করুক।
নন্দীগ্রাম-১ ব্লকের মহম্মদপুর পঞ্চায়েতের ৬৯নম্বর বুথে শেখ সুপিয়ানের স্ত্রী রহিমা বিবি, শেখ ওহিদুল, রোজিনা বিবি, সাহিদা বিবি, শেখ সাকিল, শেখ নূর মহম্মদ, শেখ খাসিয়ার রহমান সহ আরও অনেকের নাম ভোটার তালিকা থেকে রাতারাতি উধাও হয়ে যায়। তাঁরা কেউই এবার ভোট দিতে পারেননি। ওই বুথে মোট ২২জন ভোটারের অস্তিত্ব থাকা সত্ত্বেও ভোটার তালিকা থেকে নাম বাদ চলে গিয়েছে। ৮০বছরের সমেরুন বিবি, ৬০বছরের সুপিয়ানপত্নী রহিমা বলেন, নির্বাচন কমিশনের উচিত অবিলম্বে ভোটাধিকার ফিরিয়ে দেওয়া।মহম্মদপুর ৬৩নম্বর বুথের ভোট হয় বিনোদ প্রাথমিক বিদ্যালয়ে। ওই স্কুল লাগোয়া মুস্তাক আহমেদ, শেখ হাবিব ইসলামল, শেখ আকমাম সহ ৭৯জন এবার ভোট দিতে পারেননি। তাঁদের নাম আন্ডার অ্যাডজুডিকেশন লিস্টে ছিল। তাঁরা ট্রাইবুনালে গিয়েছেন। ৬৩নম্বর বুথের বিএলও সাবির মহম্মদ বলেন, ট্রাইবুনালে থাকা ৭৯জন সংখ্যালঘু সম্প্রদায়ের মানুষ। তাঁরা আমার গ্রামের বাসিন্দা। কিন্তু, এবার ভোটার তালিকায় নাম বাদ পড়ায় তাঁরা ভোট দিতে পারেননি। অনেকে ভাবছেন, নাম বাদ দেওয়ার ক্ষেত্রে আমার ভূমিকা রয়েছে। ভুল বুঝে দু’-একজন ভোটগ্রহণের দিন আমার উপর চড়াও হয়েছিলেন। বিষয়টির সুষ্ঠু সমাধান হওয়া দরকার।নন্দীগ্রাম বিধানসভার অধীন ৬০নম্বর বুথে ২৭জন, ৬১নম্বর বুথে ২৬, ৬২নম্বর বুথে ৩২, ৬৫নম্বর বুথে ১৪, ৬৬নম্বর বুথে ২৫জন সহ বিভিন্ন বুথে ভোটারদের নাম বাদ। ট্রাইনুবালের তাঁদের নাম ঝুলছে। ভোটাধিকার ফেরতের অপেক্ষায় চাতকের মতো অপেক্ষা করছেন। উপ নির্বাচনেও তাঁদের ভোটাধিকার ফিরে পাওয়ার আশা নেই। কারণ, কমিশন আগেই জানিয়েছে, ২৮ফেব্রুয়ারি প্রকাশিত ভোটার লিস্ট ধরেই উপ নির্বাচন হবে।
কিন্তু, এসআইআর নিয়ে যেভাবে মুখ্য নির্বাচন কমিশনারের ভূমিকা নিয়ে উত্তাল পরিস্থিতিতে ট্রাইবুনালে থাকা ভোটাররা ভোটাধিকার প্রয়োগের দাবিতে সরব হচ্ছেন। পূর্ব মেদিনীপুরে মোট ৪১হাজার ১৪৪জনের নাম ট্রাইবুনালে আবেদন করেছেন। শেষমেশ তাঁদের কী হবে সেটাই এখন বড় প্রশ্ন।