নিজস্ব প্রতিনিধি, নন্দীগ্রাম: আজ, শুক্রবার নন্দীগ্রাম উপ নির্বাচনের ফল ঘোষণা। রেয়াপাড়ায় কবি সুকান্ত টিচার্স ট্রেনিং ইনস্টিটিউটে সকাল ৮টা থেকে গণনা শুরু হবে। বিজেপি প্রার্থী হাসিরানি রথের জয় একশো শতাংশ নিশ্চিত ধরেই একপ্রকার গ্র্যান্ড সেলিব্রেশনের আয়োজন করছে বিজেপি। দু’টি ক্যাম্প অফিস করা হয়েছে। সকাল থেকে কর্মী-সমর্থকরা সেখানে আসতে শুরু করবেন। বেলার দিকে পৌঁছাবেন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী। থাকবেন নন্দীগ্রাম বিধানসভা উপ নির্বাচনের দায়িত্বপ্রাপ্ত দুই সাংসদ জ্যোতির্ময় সিং মাহাত এবং সৌমেন্দু অধিকারী। ভোটে পাঁচটি মণ্ডলের দায়িত্বে থাকা পাঁচজন জেলার বিধায়কও দলীয় ক্যাম্প অফিসে উপস্থিত হবেন। প্রায় আট হাজার কর্মী-সমর্থকের জন্য দুপুরে খাওয়াদাওয়ার ব্যবস্থা রাখছে দল। রিটার্নিং অফিসারের কাছ থেকে জয়ের শংসাপত্র নেওয়ার সময় উপস্থিত থাকবেন মুখ্যমন্ত্রী। বৃহস্পতিবার থেকেই ক্যাম্প অফিস তৈরি, কর্মী-সমর্থকদের দুপুরে আহারের জন্য হাটবাজার করা সহ নানা প্রস্তুতি জোরকদমে চলে।
জেলা বিজেপির সাধারণ সম্পাদক মেঘনাদ পাল বলেন, কমিশনের নিয়ম মেনে গণনাকেন্দ্র থেকে নির্ধারিত দূরত্বে আমাদের দু’টি ক্যাম্প হয়েছে। সেখানে সাত-আট হাজার কর্মী-সমর্থক উপস্থিত হবেন। মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী নিজেও উপস্থিত থাকবেন। দুপুরে কর্মী-সমর্থকদের খাওয়া দাওয়ার ব্যবস্থা রাখা হয়েছে।
প্রশাসন সূত্রে জানা গিয়েছে, সকাল ৮টা থেকে গণনা শুরু হবে। মোট ২২টি টেবিলের গণনা চলবে। ১৫রাউন্ড গণনা হবে। আরও চারটি টেবিলে পোস্টাল ব্যালট গণনা হবে। প্রত্যেক টেবিলে একজন মাইক্রো অবজার্ভার, একজন কাউন্টিং সুপারভাইজার এবং একজন কাউন্টিং অ্যাসিস্ট্যান্ট থাকবেন। গণনা কেন্দ্রের ২০০মিটার এলাকাজুড়ে ১৬৩বিএনএস কার্যকর হবে। তারমধ্যে কোনওরকম জমায়েত করা যাবে না। ত্রিস্তরীয় নিরাপত্তা থাকবে। গণনা কেন্দ্রের ভিতর শুধুমাত্র আধাসেনা উপস্থিত থাকবে। ২০০মিটার দূরত্বে ড্রপগেট বসিয়ে চেকিং করা হবে। কমিশনের ইস্যু করা পরিচয়পত্র ছাড়া ভিতরে কাউকে ঢুকতে দেওয়া হবে না। বেলা ২টো থেকে ৩টের মধ্যে ফলাফল চলে আসবে বলে মনে করা হচ্ছে।
নন্দীগ্রাম বিধানসভায় মোট ভোটার ২লক্ষ ৬৬হাজার ৪১৯। এরমধ্যে প্রায় ২লক্ষ ১৫হাজার ভোট পড়েছে। তাই প্রদত্ত ভোটের কারা কত ভোট পাবেন সেনিয়ে যেমন কৌতূহল থাকছে তেমনই দ্বিতীয় স্থানে কারা উঠে এল সেটা নিয়েও রাজনৈতিক মহলে আগ্রহ থাকবে। রাজ্যে ক্ষমতায় আসার পাঁচ মাস পর বিজেপির জনসমর্থন ঠিক কোন জায়গায় সেটাও যাচাই হবে বলে রাজনৈতিক মহল মনে করছে।
কংগ্রেস প্রার্থী মিলন প্রধান বলেন, আমরা ভোটে অংশগ্রহণ করেছি। তাই গণনাতেও অংশ নেব। নন্দীগ্রাম উপ নির্বাচনে কীভাবে ভোট লুট হয়েছে সেটা সকলেই জানেন। সব জায়গা থেকে বিরোধী এজেন্ট বের করে অবাধে ছাপ্পা মারা হয়েছে। আমরা তবুও কাউন্টিংয়ে যাব। সেখানে প্রত্যেক টেবিলে এজেন্ট দেব। সিপিএমের জেলা সম্পাদকমণ্ডলীর সদস্য পরিতোষ পট্টনায়েক বলেন, ডায়মন্ডহারবার মডেলেই নন্দীগ্রাম উপনির্বাচন হয়েছে। একই কায়দায় ভোট হয়েছে। মুখ্যমন্ত্রী নিজে বলেছিলেন, ভোট কীভাবে করাতে হয় জানি। তারপর থেকে বিরোধীদের উপর সন্ত্রাস, ভয়ভীতি দেখানোর কাজ শুরু হয়। সবরকম বাধা সত্ত্বেও ৬অক্টোবর ভোটের দিন বুথে পোলিং এজেন্ট বসাতে গিয়ে আমরা প্রবল বাধার মুখে পড়েছি। নির্বাচনের নামে প্রহসন হয়েছে। মানুষের গণতান্ত্রিক অধিকারের সঠিক প্রতিফলন ঘটেনি। তবুও আমরা কাউন্টিং এজেন্ট দেব। লড়াইয়ে শেষ অবধি ময়দানে থাকব।