সংবাদদাতা, কাকদ্বীপ: মণ্ডপ ও প্রতিমার কারুকার্যে পিছিয়ে নেই কেউ। নামখানার প্রতিটি পূজা মণ্ডপই যেন সেজে উঠেছে নিজস্ব ভাবনায়। রয়েছে থিমের ছোঁয়া। এবছর নামখানা নান্দাভাঙা একাদশের পুজোর থিম ‘দাও ফিরে সে অরণ্য’। প্রকৃতি প্রাণীকুলকে ধারণ করে রেখেছে। প্রকৃতির সম্পদ অরণ্য ছাড়া প্রাণীকুলের অস্তিত্ব সংকটে পড়বে। এদিকে আধুনিক সমাজে প্রযুক্তি নির্ভরতা জাঁকিয়ে বসেছে। নগর ও শিল্প গড়ে তুলতে অরণ্য ধ্বংস করা হচ্ছে। তাই এই পূজা মণ্ডপে অরণ্যকে সংরক্ষণ ও বৃক্ষকে বাঁচিয়ে রাখার বার্তা তুলে ধরা হয়েছে। তবে মণ্ডপের ভিতরে প্রতিমায় রয়েছে সাবেকিয়ানা। অ্যাসোসিয়েশনের সভাপতি লক্ষ্মণ বেরা বলেন, এ বছর ক্লাবের পূজা নয় বছরে পদার্পণ করেছে। দর্শনার্থীদের কাছে সুন্দরবনের অরণ্য সহ বৃক্ষকে বাঁচিয়ে রাখার বার্তা তুলে ধরা হয়েছে।
অন্যদিকে এ’বছর নারায়ণপুর শ্রীদুর্গা আইডিয়াল অ্যাসোসিয়েশনের থিম ‘পথের প্রান্তে মোর তীর্থ নয়, পথের দুই পাশে আছে মোর দেবালয়’। বড় কিছু পাওয়ার আশা নিয়ে অনেকে দূর-দূরান্তে তীর্থ করতে ছুটে যান। কিন্তু চলার পথের দু’পাশে উদ্ভিদ ও প্রাণীকুল মানবজাতির জন্য তাদের সম্পদ উজার করে দেয়। অথচ তাদের কথাই সবাই ভুলে যায়। মূলত এই ভাবনাকেই এখানকার পূজা মণ্ডপে তুলে ধরা হয়েছে। মণ্ডপের সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে প্রতিমাকে উপস্থাপনা করা হয়েছে। এবিষয়ে কমিটির যুগ্ম সম্পাদক চঞ্চল গিরি বলেন, এবছর অ্যাসোসিয়েশনের দুর্গাপূজা ৩৮ তম বর্ষে পদার্পণ করেছে। পুজোর দিনগুলিতে বিভিন্ন সামাজিক কর্মসূচিও গ্রহণ করা হয়।
বকখালি পল্লিসমাজ দুর্গোৎসব কমিটির এবছরের থিম ‘ফিরিয়ে দাও আমাদের অরণ্য’। বকখালি পর্যটন কেন্দ্রের চারপাশে ঘেরা রয়েছে বিভিন্ন বৃক্ষের অরণ্য। সেই অরণ্য ক্রমশ ধ্বংসের পথে। কমে আসছে গাছের সংখ্যা। কমিটির সম্পাদক নলিনী দাস বলেন, ৩৩তম বর্ষের পূজায় সংগঠনের পক্ষ থেকে দর্শনার্থীদের কাছে বৃক্ষরোপণের বার্তা দেওয়া হয়েছে।



