নিজস্ব প্রতিনিধি, কলকাতা: কখনও জমির মালিকের অজান্তেই মালিকানা বদল হয়ে যাচ্ছে। কখনও স্রেফ কোনও একটি দলিলের নম্বর বসিয়েই মিউটেশন হয়ে যাচ্ছে অন্যের সম্পত্তি। ভূমিদপ্তরের এক শ্রেণির আধিকারিকদের যোগসাযশ ছাড়া এসব ঘটনা সম্ভব নয় বলেই মনে করে ওয়াকিবহাল মহল। তাঁদের কারসাজিতেই বেআইনিভাবে রাজ্যের তথ্যভাণ্ডারে জমির চরিত্র বদল হয়ে যাওয়ার অভিযোগও ওঠে মাঝেমধ্যে। মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় এনিয়ে আগাগোড়াই কঠোর মনোভাব প্রকাশ করে এসেছেন। তাঁর নির্দেশে বদলি থেকে শুরু করে বিভাগীয় তদন্ত করে দোষী আধিকারিকদের বিরুদ্ধে শাস্তিমূলক পদক্ষেপও গ্রহণ করছে দপ্তর। এবার একযোগে বদলি করা হল জেলায় নিযুক্ত ১৯০ জন আধিকারিককে। এঁদের মধ্যে রয়েছেন বিএলএলআরও, স্পেশ্যাল রেভিনিউ অফিসার ২, জয়েন্ট ডাইরেক্টর, অ্যাসিস্টেন্ট ডাইরেক্টর থেকে শুরু করে ডেপুটি ডাইরেক্টর পদে থাকা আধিকাররা। বদলি করা হয়েছে একাধিক ল্যান্ড অ্যাকুইজিসন আধিকারিককেও।
সূত্রের খবর, শাস্তিমূলক পদক্ষেপ হিসেবে দূরবর্তী এলাকায় বদলি যেমন করা হয়েছে, তেমনই প্রশাসনিক কাজে গতি আনতেও একাধিক বদলি করা হয়েছে। কিছু ব্লক ছিল, যেখানে অতিরিক্ত আধিকারিকের প্রয়োজন রয়েছে। অনেক জায়গায় আবার প্রয়োজনের তুলনায় বেশি আধিকারিক ছিলেন। কেউ কেউ এক জায়গায় তিন বছরের বেশি সময় ধরে রয়ে গিয়েছিলেন। স্বাস্থ্যসংক্রান্ত কারণেও কয়েকজনকে প্রয়োজনমতো জায়গায় বদলি করা হয়েছে। কম-বেশি প্রতিটি জেলায় নিযুক্ত ভূমিদপ্তরের আধিকারিকরাই রয়েছেন বদলির তালিকায়। হাওড়ার পাঁচলা, বর্ধমানের মঙ্গলকোট, ভাঙড় ২, বারাকপুর ১ ও ২, সন্দেশখালি ২, হাবড়া ২, বজবজ ২, বসিরহাট ১, নন্দীগ্রাম ১, মালবাজার সহ একাধিক ব্লকের ল্যান্ড অ্যান্ড
ল্যান্ড রিফর্মস অফিসারকে (বিএলএলআরও) বদলি করা হয়েছে। এনিয়ে বিগত এক বছরে ভূমিদপ্তরের প্রায় এক হাজার আধিকারিককে বদলি করল নবান্ন। কয়েক মাস আগে রেভিনিউ অফিসার থেকে জয়েন্ট ডাইরেক্টর পর্যন্ত মোট ৮০০ জনের বদলির নির্দেশ দেয় নবান্ন।